

স্টাফ রিপোর্টার
জাতীয় পার্টির একাংশের মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন, শুক্রবার (২৯ আগস্ট) মশাল মিছিলের সময় কয়েকজন মিছিলকারী তাদের কার্যালয়ে আগুন লাগানোর চেষ্টা করেছিল। সে সময় সেনাবাহিনী তাদের রক্ষা করেছে।
শনিবার (৩০ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলের দলীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।
শাহীম হায়দার বলেন, মশাল মিছিল যাওয়ার পথে আমাদের ওপর ঢিল ছোড়া হয়। এতে অন্তত ৩০ জন কর্মী আহত হয়েছেন। যদি ঢিল স্পর্শকাতর স্থানে লাগত, তবে মৃত্যুও ঘটতে পারত। মিছিল আসার সময় আমাদের অফিসে নারীসহ অনেক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। সেনাসদস্যরা আমাদের ভিতরে অবস্থান করতে বলেছিল। বাইরে শুনতে পাচ্ছিলাম, মিছিলকারীরা সেনা ও পুলিশের ওপর হামলা চালাচ্ছে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাঠিচার্জ করে।
তিনি আরও জানান, ছয়টি জেলায় জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শামীম হায়দার বলেন, রাষ্ট্র ও সরকার যদি জনগণের নিরাপত্তা দিতে না পারে, তবে রাষ্ট্র নেই, সরকার নেই। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।
নুরুল হক নুরের আহত হওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা চাই তিনি দ্রুত আরোগ্য লাভ করুন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাকে দেখতে যাব।
নির্বাচনে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করে শামীম হায়দার বলেন, মবতন্ত্র, গালিতন্ত্র ও আগুন নিয়ে খেলা এসব রাজনীতি গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। এ ধরনের মব কঠোরভাবে দমন করা উচিত। তফসিল ঘোষণার তিন মাস আগে একটি দলের অফিসে অগ্নিসংযোগ নির্বাচন-পরিবেশের জন্য সংকেত নয়। আমরা নির্বাচনে যেতে প্রস্তুত, তবে মবতন্ত্র সুষ্ঠু নির্বাচনের ইঙ্গিত নয়। সরকার ভোট সুষ্ঠু করতে পারবে কি না, সে বিষয়ে অনেকেই সন্দিহান; আমরা একইভাবে সন্দিহান।
শামীম হায়দার জাতীয় পার্টি নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করে বলেন, জাতীয় পার্টিকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা মানে নির্বাচন বাতিলের চেষ্টা। যারা চায় জাতীয় পার্টি নির্বাচনে না যাক, তারা দলের সমকক্ষ হতে পারেনি। আমাদের চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের প্রতি আস্থা আছে। তিনি সব কাজ গঠনতন্ত্র মেনে করেছেন। জাতীয় পার্টি কোনো দেশের নয়, বাংলাদেশের দালালি করে।
অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, চেয়ারম্যান নিজের বাড়ি রক্ষা করেছেন, কাউকে মারার নির্দেশ দেননি। তবে ঘটনাস্থলে যে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ হয়েছে, তার নিন্দা জানাই এবং তদন্তের দাবি করছি।