সোনালী স্বপ্নের হাতছানি নিয়ে আঁশের সুদিন ফিরছে

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual5 Ad Code

 

Manual5 Ad Code

কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) :
নীলফামা কিশোরগঞ্জ উপজেলায় পাট চাষীদের কপালের ভাজ কাটিয়ে সোনালী আঁশ পাটের অতীত ঐতিহ্য পূর্ণ জাগরণে আবারও ফিরে এসেছে কৃষকের মাঠে। এবারে অনুকুল আবহাওয়া, বাজারে পাটের দাম ভাল। ফলনও বেশি। তাই কৃষকরাও খুশি। ফলনও বাজার মূল্য ভালো হওয়ায় পাট চাষে ফিরতে শুরু করছে উপজেলার পুরনো চাষীরাও। সোনার বাংলায় একসময়ে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করত, আর প্রধান অর্থকরী ফসল হিসেবে সোনালী আঁশ পাটের খ্যাতি আর সমৃদ্ধি এনেছিল গ্রামীণ অর্থনীতিতে। বিগত কয়েক বছর নানা প্রতিবন্ধকতার বেড়াজালে পাট শিল্প নাজুক হওয়ার পাশাপাশি পাটের তেমন কোন কদর না থাকলেও পাট আবারও অর্থকরী পণ্য হয়ে উঠছে। কৃষক পাট চাষে লোকসান গুনতে গুনতে পাট চাষ যেন কৃষকের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বর্তমান সরকারের নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহন করায় পাট চাষিরা আবারও ফিরে এসেছে সোনালী আঁশ পাট চাষে। পাটের ন্যায্য দাম পাওয়ায় এ উপজেলায় চাষীদের পাট চাষে আগ্রহ বেড়ে গেছে। এ বছর অনেক চাষী পাট চাষ করে আগামীর স্বপ্ন বুনছেন। চলতি মৌসুমে পাটের ভালো দাম পাওয়ায় আগামী বছর পাট চাষ বাড়বে বলে কৃষকরা জানান। কৃষকদের দাবি পলিথিনের পরিবর্তে পাটজাত জাতীয় পণ্য নিত্যদিনের কাজকর্মে ব্যবহার সহ সব পাটকলগুলো চালু করতে সরকারকে আরো উদ্যোগী হতে হবে। সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামে-গঞ্জের মাঠে -ঘাটে, পাট কর্তন, ডোবায় কিংবা পুকুরের পাশে জাক দেওয়া, পঁচানো পাটের আঁশ ছাড়ানো, শুকানো, উভানোর কাজ চলছে সমান তালে। এ দৃশ্য দেখে বুঝা যায় সোনালী আঁশের সুদিন আর ঐতিহ্য আবার ফিরে এসেছে এ উপজেলায়। নদী-নালা, খাল-বিল ও ডোবায় পানি থাকায় পাট জাক দিতে কৃষকদের কোন সমসায় পড়তে হয়নি। পাট চাষ কৃষকের একের অধিক লাভ, পাটের আঁশ, পাট খড়ি আর পাট শাক। জ্বালানি হিসেবে বাজারে পাটখড়ির রয়েছে ব্যাপক কদর। পাট খড়ি বিক্রি করে বাড়তি আয়ও করছেন চাষীরা। কিশোরগঞ্জ উপজেলার পাট ব্যবসায়ী মোকছেদার,তফদ্দি তারা জানান, এ বছর পাটের ফলন ভাল হওয়ায় বাজারে দামও বেশি। পাট চাষীদের আবারও সু দিন ফিরতে শুরু করেছে। বর্তমান বাজারে প্রতিমণ শুকনা পাট ক্রয় করা হচ্ছে ১৪-১৫ শত টাকা দরে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩শত ৫ হেক্টর জমিতে। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ হাবিবুর রহমান জানান,আধুনিক পদ্ধতিতে পাট চাষ, উন্নত পাটবীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণের কলাকৌশল, পাট পচন,এবং পাট নিয়ে পাট চাষীদের প্রশিক্ষণ, পাট চাষে কৃষকগণকে উদ্বুদ্ধকরণ এবং কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল।আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। চাষিরা বাজারে ভাল দাম পাওয়ায় আগামী দিনে পাট চাষির সংখ্যা আরো বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Manual6 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code