

ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা: তাবলীগের নামে সৌদি আরব গিয়ে ইমাম মাহাদীর সঙ্গে সাক্ষাতের আশায় একমাস পূর্বে কথিত হিজরত করা নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইল এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ১৯টি মোবাইল ফোন, দুই লাখ ৩৪ হাজার টাকা এবং ৯২২ ডলার জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, মো. হায়দার আলী (৪৪), মাহমুদুল হাসান ওরফে মাসুম (৩০), জামিরুল ইসলাম (২৪), বিল্লাল হোসেন (৩৮), শেখ আরাফাত ওরফে জনি (৪৮), ইমরুল হাসান ওরফে ইমন (২৫), সাইফুল ইসলাম (২৫), মোজাম্মেল হক (৩৩), মো. শাহজালাল (৩৪), মো. আক্তারুজ্জামান (৩০), মো. মাহমুদুল হাসান ওরফে সাব্বির (২৩), মো. আবিদ উল মাহমুদ ওরফে আবিদ (২২), মো. সোহাইল সরদার (৩৩), মো. ওবায়দুল ইসলাম ওরফে সুমন (৩০), মাহমুদ হাসান ওরফে শরীফ (১৮), মো. মাজেদুল ইসলাম ওরফে মুকুল ( ২৮) ও মো. সোহাগ হাসান (২০)।
ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে কাকরাইল মসজিদের বিপরীত পাশে পাবলিক হেলথ্ কার্যালয়ের সামনে থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। জনৈক ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ মোস্তাক বিন আরমান বাংলাদেশ থেকে ২০১৭ সালে সৌদি আরবে যান এবং অদ্যাবধি সেখানে অবস্থান করছেন। তিনি জিহাদের পক্ষে ঈমাম মাহাদীর সৈনিক হিসাবে বিভিন্ন বক্তব্য এবং গাজওয়াতুল হিন্দ নামক স্থানে মুসলিমদের পক্ষে জিহাদ করার আহব্বান জানিয়ে অডিও ভিডিও প্রকাশ করেন। গ্রেপ্তারকৃতরা তার বক্তব্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ পূর্বক ইমাম মাহাদীর সৈনিক হিসাবে যুদ্ধের প্রস্তুতি স্বরুপ সৌদি আরব যাওয়ার চেষ্টা করেন। তারা সাতক্ষীরা ও যশোর সীমান্ত দিয়ে পার হতে না পেরে ঢাকা হয়ে সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং সে মোতাবেক তারা ঢাকায় আসেন।
এ বিষয়ে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) তহিদুল ইসলাম জানান, আরমানের প্ররোচনায় এবং তার সঙ্গে যোগাযোগ করে ইতোমধ্যে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের চার ছাত্র গত জানুয়ারি মাসে ওমরা পালনের উদ্দেশ্যে গমন করে আর ফিরে আসেননি। তাদের বিরুদ্ধে রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।