স্কুল বন্ধে বিশ্বে সাড়ে ৬৩ কোটির বেশি শিক্ষার্থীর ক্ষতি: ইউনিসেফ

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৪ years ago

Manual3 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ স্কুল সম্পূর্ণ বা আংশিক বন্ধ থাকার কারণে ৬৩ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিশুরা গণনা ও সাক্ষরতার মৌলিক দক্ষতা হারিয়েছে। বৈশ্বিকভাবে, পড়াশোনায় ব্যাঘাতের অর্থ হলো—লাখ লাখ শিশু শ্রেণিকক্ষে থাকলে যে একাডেমিক শিক্ষা অর্জন করতে পারত, তা থেকে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বঞ্চিত হয়েছে। যেখানে ছোট ও আরো বেশি প্রান্িতক শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবসে এবং কোভিড-১৯ মহামারি শুরুর দুই বছর পূর্ণ হওয়ার প্রাক্কালে ইউনিসেফ শিশুদের পড়াশোনার ওপর মহামারির প্রভাব সম্পর্কে প্রাপ্ত সর্বশেষ উপাত্তে এ তথ্য তুলে ধরছে।

Manual6 Ad Code

মহামারির কারণে দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ শিশুর পড়াশোনা ব্যাহত হয়েছে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে স্কুলগুলো পুনরায় খুলে দেওয়া হলেও সরকার নতুন করে ২৩ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্র‚য়ারি ২০২২ পর্যন্ত স্কুল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। গতকাল সোমবার ইউনিসেফ এ তথ্য জানায়। বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি মি. শেলডন ইয়েট বলেন, কোভিড-১৯ মোকাবিলার ক্ষেত্রে স্কুল বন্ধ করতে হলে তা অবশ্যই শেষ অবলম্বন হিসেবে অস্হায়ী ভিত্তিতে করতে হবে। সংক্রমণের ঢেউ সামাল দিতে আমরা যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছি তার মধ্যে প্রতিষ্ঠান বন্ধের ক্ষেত্রে সবার শেষে এবং খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে স্কুল থাকা উচিত। ইউনিসেফের শিক্ষা বিষয়ক প্রধান রবার্ট জেনকিন্স বলেন, বৈশ্বিক শিক্ষাব্যবস্হায় কোভিড-১৯ সম্পর্কিত বিঘ্নের দুই বছর পূর্ণ হবে আগামী মার্চে। খুব সহজভাবে বললে, আমরা শিশুদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে প্রায় অপূরণীয় মাত্রার ক্ষতি প্রত্যক্ষ করছি। পড়াশোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে শিক্ষার্থীদের নিবিড় সহায়তা প্রয়োজন।

Manual3 Ad Code

নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে স্কুল বন্ধের কারণে পড়াশোনার ক্ষতি হওয়ায় ১০ বছর বয়সিদের ৭০ শতাংশই সহজ পাঠ্য পড়া বা বোঝার সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি, যা মহামারির আগের সময়ের তুলনায় ৫৩ শতাংশ বেশি। ইথিওপিয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা স্বাভাবিক শিক্ষাবর্ষে যে পরিমাণ গণিত শিখতে পারত তার মাত্র ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ শিখতে পেরেছে বলে ধারণা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, টেনেসি, উত্তর ক্যারোলিনা, ওহাইও, ভার্জিনিয়া ও মেরিল্যান্ডসহ অনেক অঙ্গরাজ্যে পড়াশোনার ক্ষতি পরিলক্ষিত হয়েছে। ব্রাজিলের বেশ কয়েকটি প্রদেশে গ্রেড ২-এর প্রতি চার শিশুর মধ্যে তিন জন পড়ার দক্ষতা অর্জন থেকে বিচ্যুত, যা মহামারির আগে ছিল প্রতি দুই শিশুর মধ্যে এক জন। ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের জুলাইয়ের মধ্যবর্তী সময়ে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ শিক্ষার্থী স্কুল থেকে ঝরে পড়েছে বলে জানা গেছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code