স্বর্গলোকে সুখে থাকুন বাদল দা

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual7 Ad Code

ঢাকার ফুটবলের স্বর্ণযুগে বাদল রায়ের আগমন। আমারও এই শহরের আতিথ্য গ্রহণ তার কিছুকাল পরে। বাদল দা তখন কুমিল্লা ছেড়ে ঢাকায় স্থায়ী হয়েছেন। মোহামেডান তার ঠিকানা। ক্লাবের তাঁবু তখন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের গা ঘেঁষে। এখন যেখানে এনএসসির নতুন ভবন।

Manual8 Ad Code

মোহামেডানের আক্রমণভাগ তখন ভীষণরকম ধারালো। বাদল দা ও সালাম মুর্শেদীর সঙ্গে দুই উইঙ্গে গাফফার এবং কোহিনুর। কুড়িগ্রামের কোহিনুরকে বলা হতো স্কুটার। বল নিয়ে সেই যে ছুটতেন, কখনও কখনও মাঠের বাইরে চলে যেতেন। আমি তখন সিনে সাপ্তাহিক চিত্রালীতে ‘ময়দানী হাওয়া’ লিখি। খবরের সুলুকসন্ধানে মোহামেডান, আবাহনী ক্লাবে নিত্য ঢুঁ মারতাম। সেসময় বাদল দা’র সঙ্গে পরিচয়। আমার কলম ঠেলার কাজ শুরুর আগে সাদা-কালো জার্সিতে তার পথচলা শুরু।

Manual7 Ad Code

 

Manual2 Ad Code

আজ বাদল দা’র অন্যলোকে যাত্রার লগ্নে সেসব স্মৃতি ভিড় করছে। আশির দশকের গোড়ার দিকের কথা। গোলাম সারোয়ার টিপুর কোচিংয়ে ‘হিট অ্যান্ড রান’ ফুটবল খেলছে মোহামেডান। খুব সম্ভবত সালটা ১৯৮২। ওই এক মৌসুম মোহামেডানে খেলেছিলেন ভুটানের ফরোয়ার্ড খড়গ বাহাদুর বাসনেত। বাদল দা’র সঙ্গে তার রসায়ন বেশ জমেছিল।

মোহামেডান অন্তঃপ্রাণ ফরোয়ার্ড বাদল রায় শত প্রলোভন সত্ত্বেও সাদা-কালোর মায়া ত্যাগ করেননি। বর্তমানে আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হারুনুর রশিদ তখন আবাহনীর সাধারণ সম্পাদক। কম চেষ্টা করেননি তিনি বাদল দা’র গায়ে আকাশি নীল জার্সি পরাতে। অনেক কম পারিশ্রমিকে মোহামেডানে খেলাটাকে শ্রেয় মনে করেছেন এই সুসভ্য, মার্জিত ও রুচিবোধসম্পন্ন মানুষ। এক ক্লাবেই ক্যারিয়ার শেষ করা এমন নিবেদিতপ্রাণ খেলোয়াড় এই কর্পোরেট যুগে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।

অসুস্থ ছিলেন অনেকদিন ধরে। অগ্রহায়ণের ‘শীত আসি-আসি’ সন্ধ্যায় কাল সেই দুঃসংবাদ এলো- বাদল দা নেই। বাঙালির নস্টালজিক মনটা কোথায় যেন হারিয়ে যেতে বসেছে। স্মৃতিমেদুরতায় আক্রান্ত হওয়ার আগ্রহ এখন কম। স্মৃতির ঝাঁপি খুলে বসবার পর ঝাপসা হয়ে এলো হারানো দিন। বুদ্ধিদীপ্ত ফ্লিকে তার নান্দনিক গোল আকাশপ্রদীপের আলোর মতো বিচ্ছুরণ ঘটাচ্ছে এত বছর পরও। স্বর্গলোকে সুখে থাকুন বাদল দা।

 

Manual6 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code