স্বাভাবিক অবতরণ করেনি বিমানটি’

লেখক:
প্রকাশ: ৮ years ago

Manual6 Ad Code

নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের যে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে, সেটির অবতরণ সঠিক ছিল না বলে দাবি করেছেন বিমানবন্দরের মহাব্যবস্থাপক রাজকুমার ছেত্রি।

বিমানটি কেন দুর্ঘটনায় পড়ল, এ নিয়ে ত্রিভুবন কর্তৃপক্ষ এবং ইউএস বাংলার কর্মকর্তাদের পরস্পরবিরোধী নানা বক্তব্য ও দোষারোপের মধ্যে এই বক্তব্য দিলেন রাজকুমার।

গত ১২ মার্চ ত্রিভুবনে অবতরণের সময় বিমান বিধ্বস্তের ঘটনার পরপর ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল-এটিসি থেকে পাইলটদের ভুল সংকেত দেয়াকে দায়ী করেছিল। একই দিন ইউটিউবে এটিসির সঙ্গে পাইলটদের সর্বশেষ কথোপকথনের যে অডিও ফাঁস হয়, তাতে ভুল বুঝাবুঝির বিষয়টি ছিল স্পষ্ট।

মোট ৬৭ জন যাত্রী ও চার জন ক্রু নিয়ে চলা বিমানটির দুই পাইলট, দুই জন কেবিন ক্রু এবং ৪৭ জন যাত্রী নিহত হয় এই দুর্ঘটনায়। এদের মধ্যে ২৬ জন বাংলাদেশি। আহত হয়েছে আরও ১০ বাংলাদেশি, যাদের মধ্যে চারজনকে দেশে ফিরিয়ে এনে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আর একজনকে পাঠানো হয়েছে সিঙ্গাপুরে।

ত্রিভুবনের মহাব্যবস্থাপক সেদিনের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘ঘটনার দিন এটিসি টাওয়ার নিচে আমাদের মিটিং ছিল। তখন হঠাৎ করে সাইরেন বেজে উঠল। আমাদের টাওয়ারের চারশ মিটার দক্ষিণ-পূর্বে আগুন জ্বলছে। আমি তখন দ্রুত বের হয়ে ঘটনাস্থলে যাই, গাড়িও নেইনি। দুই থেকে তিন মিনিটের মধ্যেই হেঁটে পৌঁছে যাই সেখানে।’

‘গিয়ে দেখি, আমাদের দুটি দমকল গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স ততক্ষণে কাজ শুরু করে দিয়েছে। এরপর সেনাবাহিনী, পুলিশ, উদ্ধারকর্মীসহ আমরা উদ্ধার অভিযান শুরু করি। আমরা যখন সেখানে পৌঁছলাম তখন বিমানে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ আগুন লেগে গিয়েছে। তখন এতো আগুন ছিল সেখানে, আমি জীবনেও এমন আগুন দেখিনি।’

Manual5 Ad Code

রাজকুমার ছেত্রি বলেন, ‘আমি প্রথমে ভেবেছিলাম এখানে একজনও বাঁচবে না। আমাদের উদ্ধারকারী দল ও সেনাবাহিনী যেভাবে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়েছে তা ছিল অসাধারণ। এই কারণে আমরা ২০টি প্রাণ বাঁচাতে পেরেছি।’

‘বাংলাদেশিরা মারা গেছেন। আমাদের নেপালিরাও মারা গেছেন। তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। কিন্তু একটা কথা বলতে চাই যেভাবে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয়েছে তা ছিল অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে।’

‘এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল(এটিসি), বিমান কর্মকর্তা, পুলিশ, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে এইটুকু বলতে পারি, বিমানটি অবতরণের সময় অ্যালাইনমেন্ট (সোজাসুজি) ঠিক ছিল না।’

Manual2 Ad Code

‘আমাদের একজন ভাই ওই বিমানের যাত্রী ছিল। তিনি এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সে আমাকে বলেছে, ‘দাদা, যখন আমাদের বিমান অবতরণ করার সময় বিমানটি প্রচণ্ড ঝাঁকুনি দিচ্ছিল। তখন সবাই বাঁচাও বাঁচাও করে চিৎকার ও কান্না শুরু করে। সবাইকে জিজ্ঞাসা করায় বলেছিল, বিমানটি স্বাভাবিকভাবে অবতরণ করেনি। এটি আড়াআড়ি অবতরণ করে এবং রানওয়ে থেকে সরে যাওয়ার পর আগুন ধরে যায়।’

ত্রিভুবনের মহাব্যবস্থাপক বলেন, ‘এ বিমানবন্দরে ৯০ শতাংশ ফ্লাইট দক্ষিণ দিক থেকে অবতরণ করে। ইউএস-বাংলার ফ্লাইটকেও দক্ষিণ দিক থেকে অবতরণ করতে বলা হয়েছিল কন্ট্রোল রুম থেকে। যখন পাইলট দক্ষিণ রানওয়ে অতিক্রম করে রানওয়ের উত্তরের দিকে চলে যায়। তখন পাইলটকে কন্ট্রোল রুম থেকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আপনাকে দক্ষিণ দিকে (টু জিরো) নামতে বলা হয়েছে কিন্তু আপনি উত্তর দিকে চলে গেলেন কেন?’

“উত্তরে পাইলট বলেছেন, ‘আমি শুনেছি জিরো টু (মানে, উত্তর দিক)’। পরে তাকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলা হয়। এরপর কন্ট্রোল রুম থেকে জানতে চাওয়া হয়, ‘আপনি কি রানওয়ে দেখতে পাচ্ছেন?’। পাইলট জানান, ‘না দেখা যাচ্ছে না’। তারপরে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল থেকে জিরো টু ও টু জিরো দুই রানওয়েই উম্মুক্ত করে দেয়। তখন পাইলট জানান, রানওয়ে দেখা যাচ্ছে।”

Manual2 Ad Code

চূড়ান্ত অবতরণের সময় পাইলটকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে-এমন প্রশ্নে রাজকুমার ছেত্রি বলেন, “নামার আগে পাইলট রানওয়ে পরিবর্তন করেছেন। তাকে টু-জিরোতে নামতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পাইলট টু-জিরো (দক্ষিণ দিক) ক্রস করে জিরো-টুতে (উত্তর দিক) চলে গেছেন। তখন তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে, ‘আপনাকে টু-জিরোতে নামতে বলা হয়েছে। আপনি তা ক্রস করলেন কেন?’ তখন ক্যাপ্টেন সাহেব বলেছেন, ‘আমি জিরো-টুতে নামব’।”

Manual2 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code