হজের টাকা অসহায়দের দান করুন

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual5 Ad Code

গত বছর হজের আগ মুহূর্তে একজনের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। গর্বের সঙ্গে বলছিলেন, এবার নাকি ৩০তম হজে যাচ্ছেন তিনি। লোকটিকে আগে থেকেই জানতাম। সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন। ঘুষের টাকায় সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।

 

Manual2 Ad Code

এসব কালো মানুষের কালো টাকায় হজ করতে অবশ্য সৌদি সরকারের কোনো সমস্যা নেই। কালো টাকা দিয়ে হজ করলেও হাজী; আবার সাদা টাকা দিয়ে হজ করলেও হাজী। প্রতি বছর তিন-চারবার ওমরাহ করেন এমন মানুষের সংখ্যা আমাদের দেশে কম নয়। অনেকে ‘আলহাজ’ হওয়ার জন্যও বছরে বছরে হজ করেন। কেন যেন সব ইবাদতের চেয়ে হজ অনেক বেশি লোক দেখানো ইবাদতে পরিণত হয়ে গেছে। লোক দেখানো হজে লাভ হয় সৌদি সরকারের।

Manual2 Ad Code

গরিব দেশের টাকা চলে যায় সৌদি বাদশাহর হেরেম পর্যন্ত। হজের টাকায় সৌদি রাজারা বহু রকম ফূর্তি করে, ক্যাসিনোতে জুয়ার আসর বসায়- এগুলো আজ প্রমাণিত সত্য। কাবা শরিফের চার পাশে যেসব বড় বড় হোটেল দেখা যায়- সেগুলোয় কী হয় আপনি ধারণাও করতে পারবেন না? ডিস-টিভি থেকে শুরু করে সব তো আছেই; নাচ-গানও হয় সেখানে। বানিয়ে বা বাড়িয়ে বলছি না- আমার হাজী বন্ধু এবং সৌদি প্রবাসী আত্মীয়দের মুখ থেকে শোনা কথা এগুলো।

Manual7 Ad Code

আমাদের দেশে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা বড় বড় শিল্প-প্রতিষ্ঠানের মালিক। তাদের প্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার শ্রমিক-মজুর কাজ করে। কিন্তু তারা শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি পরিশোধ করেন না। অধীনস্থদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে তারাই আবার প্রতিবছর হজে যাচ্ছেন বেশ ঢাকঢোল পিটিয়েই।

Manual4 Ad Code

অথচ বারবার নফল হজ না করে শ্রমিকের অধিকার আদায় করা বেশি জরুরি। দেশের অসহায় বঞ্চিত মানুষের সেবায় অর্থ বিনিয়োগ করা নফল হজের চেয়েও অনেক বেশি গুরুপূর্ণ ইবাদত। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ‘শেষ যুগে মানুষ বারবার হজ করবে। তারা প্রচুর সম্পদের মালিক হবে। কিন্তু দরিদ্র প্রতিবেশীর খারাপ অবস্থা নিয়ে তারা কিছুই ভাববে না।’ এখন তো সে অবস্থাই দেখতে পাচ্ছি। বেশিরভাগ বিত্তশালীই প্রতি বছর হজে যাচ্ছে। অথচ তার এলাকার মানুষ ক্ষুধার্ত, দরিদ্র ও অসহায় জীবনযাপন করছে। বারবার হজ না করে তার উচিত ছিল সমাজের অনাথ-অসহায়, ক্ষুধার্ত ও বিধবাদের সুব্যবস্থা করা। মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ করা।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code