হবিগঞ্জ-সিলেট রুটে বাস চলাচল বন্ধ

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ১২ মাস আগে

Manual5 Ad Code

সিলেট প্রতিনিধি

Manual3 Ad Code

সিলেটে ৬ দফা দাবিতে পরিবহন শ্রমিক কর্মবিরতির ফলে হবিগঞ্জ-সিলেট রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে হবিগঞ্জ থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। এবং সিলেট থেকে হবিগঞ্জ উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়নি কোন বাস ।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) সকালে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, সিলেটে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজারসহ জেলার অভ্যন্তরীণ সকল রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।

Manual6 Ad Code

এদিকে, হবিগঞ্জ-সিলেট রুটে বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করায় যাত্রীরা পড়েছেন দুভোর্গে। যাদের জরুরি প্রয়োজন তারা নানা ভোগান্তি নিয়ে সিলেট ও হবিগঞ্জ যাতায়াত করছেন।

মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে সিলেটে পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতি, বন্ধ থাকবে যান চলাচল। সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি এবং সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন বাস-মিনিবাস, কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।

সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস, ট্রাক পিকআপ কাভার্ডভ্যান, সিএনজি, ইমা লেগুনা ও পাথর-সংশ্লিষ্ট মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ সিলেট জেলাজুড়ে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়াসহ ছয় দফা দাবিতে মঙ্গলবার (৯ জুলাই) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সিলেটে কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন পরিবহন শ্রমিকরা। কর্মসূচির ফলে ওই দিন থেকে গণপরিবহনসহ কোনো যানবাহন চলবে না বলে জানানো হয়েছে।

Manual3 Ad Code

 

দাবি পূরণের দাবিতে আগে পাঁচ দফা থাকলেও এখন ছয় দফায় উন্নীত হয়েছে। নতুন করে এতে যুক্ত হয়েছে সিলেটের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদকে প্রত্যাহারের দাবি।

লিখিত বক্তব্যে পরিবহন শ্রমিক নেতা ময়নুল ইসলাম বলেন, সিলেটের গণপরিবহন, পণ্যপরিবহন ও পাথর-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী মালিক-শ্রমিকরা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকেই বিভিন্নভাবে বঞ্চিত, অবহেলিত। ২০১৮ সালে বন্ধ করে দেওয়া হয় সিলেটের সব পাথর কোয়ারি। এতে লাখো মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার দাবিতে বারবার আন্দোলন-সংগ্রাম করে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। ৫ আগস্টের পরেও জুলুম-নির্যাতনের ষড়যন্ত্র থেকে রেহাই পাওয়া যায়নি। তাই ধর্মঘট ডাকা হয়েছে।

Manual7 Ad Code

ছয় দফা দাবিগুলো হলো—
১. সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ৩৬ ধারা অনুযায়ী বাস-মিনিবাসের ২০ বছর, ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যানের ২৫ বছর এবং সিএনজি ও ইমা লেগুনার ১৫ বছর ইকোনোমিক লাইফ নির্ধারণসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বাতিল;
২. সিলেটের সব পাথর কোয়ারির ইজারা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার এবং সনাতন পদ্ধতিতে বালু মহাল ও পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়া;
৩. বিআরটিএ কর্তৃক গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র ব্যবস্থা বাতিল ও গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহনের ওপর আরোপিত বাড়তি কর প্রত্যাহার;
৪. সিলেটের সব ক্রাশার মিলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ বন্ধ, বিদ্যুৎ মিটার ফেরত, ভাঙচুরকৃত মিল ও গাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া পাথর-বালুর ক্ষতিপূরণ প্রদান;
৫. সড়কে বালু-পাথরবাহী ও অন্যান্য পণ্যবাহী যানবাহনের চালকদের হয়রানি বন্ধ;
৬. সিলেটের পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় জেলা প্রশাসককে অবিলম্বে প্রত্যাহার।

তিনি বলেন, ‘২০১৮ সাল থেকে সিলেটের সব পাথর কোয়ারি বন্ধ। এতে পাথরসংশ্লিষ্ট সবাই চরম দুর্ভোগে আছেন। সরকার অবৈধ পাথর লুটপাট বন্ধ করতে না পারলেও বৈধভাবে উত্তোলন ও পরিবহন করতে দিচ্ছে না।’

প্রসঙ্গত, ‘সিলেটের আর কোনো কোয়ারী থেকে পাথর উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হবে না’- সম্প্রতি সিলেট সফরে এসে এমন ঘোষণা দেন পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। ঘোষণার পরপরই মারাত্মক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। জাফলংয়ে তার গাড়ি বহর অবরোধ করে রাখে কয়েকজন মানুষ। এরপরই ফুঁসে উঠেন সিলেটের পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী মালিক-শ্রমিকরা। তারা লাগাতার আন্দোলনের হুমকি দিতে থাকেন। দাবি ওঠে পাথর কোয়ারীগুলো থেকে পাথর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  • হবিগঞ্জ-সিলেট রুটে বাস চলাচল বন্ধ
  • Manual1 Ad Code
    Manual4 Ad Code