হাইআতুল উলয়ার পরীক্ষায় অংশ নেবে না নতুন কওমি বোর্ড

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual4 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ 

কওমি মাদ্রাসার সম্মিলিত শিক্ষা সংস্থা আল হাইআতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের অধীনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড বাংলাদেশ।

এখন থেকে সরকারি স্বীকৃতির বাইরে স্বতন্ত্রভাবে দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষার আয়োজন করবে তারা।

Manual3 Ad Code

শনিবার বোর্ডের মহাসচিব ও জামিয়া আল হাসনাইনের মহাপরিচালক মুফতি সৈয়দ উসামা ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

Manual8 Ad Code

এতে বলা হয়, ‘জাতীয় কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড চলতি বছর থেকে দাওরায়ে হাদিসসহ সব মৌলিক ক্লাসের পরীক্ষা গ্রহণ করবে। স্বাতন্ত্র্য ও স্বকীয়তা সংরক্ষণে এ বোর্ডে নিবন্ধনকৃত কোনো মাদ্রাসা যদি অন্য কোনো বোর্ডের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, তাহলে তাদের নিবন্ধন বাতিল বলে গণ্য হবে।’

কওমি মাদ্রাসার স্বকীয়তা সংরক্ষণ সংক্রান্ত এ বোর্ডের প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, ‘জাতীয় কওমি সিলেবাস’ নামে নিজস্ব সিলেবাস ও কারিকুলাম প্রণয়ন এবং স্বতন্ত্র পাঠ্যবই রচনার মাধ্যমে ধর্মীয়, জাগতিক (জাতীয় ও কারিগরী) শিক্ষার সমন্বয়ে একটি যুগোপযোগী শিক্ষাধারা চালু করা হয়েছে। আগামী বছর থেকে বোর্ডের সব মাদ্রাসায় এ শিক্ষা কার্যক্রম বাধ্যতামূলক করা হবে।

Manual7 Ad Code

কওমি মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এমন সিদ্ধান্ত কওমি অঙ্গনে ফাটল তৈরী করতে পারে। অন্যদিকে স্বীকৃতির কার্যকর কোন পদক্ষেপ না থাকা ও সরকারি নিয়ন্ত্রণবিরোধী মনোভাবের কারণে অনেক কওমি ছাত্র এ ধারায় ঝুঁকতে পারে বলেও মনে করছেন তারা।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কওমি শিক্ষা সনদের মান ঘোষণা করার পর হাইআতুল উলয়ার অধীনে ৬ বোর্ডের সম্মিলিত দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষার সিদ্ধান্ত হয়।

Manual4 Ad Code

২০১৮ সালে জাতীয় সংসদের ২২ তম অধিবেশনে ‘কওমি মাদরাসা সমূহের দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল)-এর সনদকে আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর অধীনে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) সমমান প্রদান বিল ২০১৮’ পাস হয়।

একই বছর তাবলিগ জামাতের বিভাজনকে কেন্দ্র করে তাবলিগের কেন্দ্রীয় আমির মাওলানা সাদ অনুসারী মাদরাসাগুলোর পরীক্ষা স্থগিত করে ‘আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’।

হাইয়ার এ সিদ্ধান্তে দেশের কয়েকটি মাদরাসার প্রায় ১৭৭ জন দাওরা হাদিস শিক্ষার্থীর পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। পরে বেফাক ও হাইয়াতুল উলইয়া থেকে শিক্ষার্থীদের যথাসময়ে পরীক্ষা গ্রহণ করার ব্যাপারে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন মাওলানা সাদ অনুসারী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।

রিটের শুনানিতে বিচারপতি এফ.আর.এম. নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে.এম. কামরুল কাদেরের দ্বৈত বেঞ্চ সাদ অনুসারী মাদ্রাসাগুলো থেকে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে পারবে বলে নির্দেশ দেন।

কিন্তু বেফাক ও হাইআতুল উলয়া হাইকোর্টের রায়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা দিলেও তাদের নিবন্ধন পত্রে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার নাম উল্লেখ করে না। ফলে আলাদা বোর্ড গঠন করে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় এই মাদ্রাসাগুলো। পরে তাদের সঙ্গে আরো চার শতাধিক কওমি মাদ্রাসা যুক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code