হাতি হত্যা বন্ধ করতে হবে 

লেখক:
প্রকাশ: ২ years ago

Manual2 Ad Code

সম্পাদকীয়: মানব-বন্যপ্রাণী দ্বন্দ্ব শুরু হয় তখনই, যখন মানুষ আর প্রাণী পরস্পরের সংস্পর্শে আসে। সাধারণত দেখা যায় মানুষ আত্মরক্ষার্থে প্রাণী হত্যা করে। এ হত্যা অনেক ক্ষেত্রে অনেক প্রাণীকে বিলুপ্তির দিকে নিয়ে যায়। আবার এসব বন্যপ্রাণীর দ্বারা ক্ষতির মুখে পড়ে অনেক কৃষক, আদিবাসী গরিব মানুষ। মানুষ ও বন্যপ্রাণীর দ্বন্দ্ব এখন শুধু উন্নয়ন ইস্যুই নয়, এটি একই সঙ্গে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও মানবিক ইস্যুও বটে। যদিও এসডিজি লক্ষ্যমাত্রায় একে নীতিনির্ধারকরা এড়িয়ে গেছেন। ডব্লিউডব্লিউএফ এবং ইউএন এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রামের প্রতিবেদন অনুযায়ী মানুষ-বন্যপ্রাণী দ্বন্দ্ব পৃথিবীর অনেক প্রজাতির টিকে থাকার জন্য এখন হুমকিস্বরূপ। একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী এর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে বন্য বিড়াল প্রজাতির ওপর। 

Manual3 Ad Code

এদের ওপর প্রভাব ৭৫ শতাংশেরও বেশি। এছাড়া সামুদ্রিক মাংসাশী প্রাণী এবং হাতির ওপরও এ সবের ক্ষতিকর প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে। বন্যপ্রাণী নানাভাবে হুমকির মুখে পড়ছে। আবহাওয়া পরিবর্তন, জঙ্গল কেটে ফেলা, অবৈধ বন্যপ্রাণী বিক্রয়; এর সঙ্গে যোগ হয়েছে মানুষ-বন্যপ্রাণী দ্বন্দ্ব, যা খুব সহজেই বন্যপ্রাণীর সংখ্যাকে কমিয়ে ফেলছে। দাবানলের কারণে বাঘ-হাতি নতুন অঞ্চলে আশ্রয় নিচ্ছে। পশুপাখিরা দিনের অতি তাপমাত্রা থেকে রক্ষা পেতে নিশাচর হয়ে যাচ্ছে। রাতেরবেলা তারা ঘুমন্ত মানুষের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। নীল তিমি আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে পরিব্রাজনের সময় পরিবর্তন করছে। ফলে জাহাজের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হতে দেখা যাচ্ছে। তানজানিয়ায় খাবারের অভাবে হাতি গ্রামে ঢুকে পড়ছে। শস্যের ক্ষতি করছে, মানুষের হাতে মারাও পড়ছে। 

এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে শস্যক্ষেতে হাতি। যেখানে হাতি হয় শস্য বিনষ্ট করছে, নয়তো কোনো সম্পত্তি ধ্বংস করছে। মানুষও হাতির খুব কাছে চলে যাচ্ছে। এ কারণে মানুষ ও হাতির মৃত্যু ঘটছে। এছাড়া হাতির দেহের বিভিন্ন অংশের চোরাচালান এ সংঘর্ষ বাড়িয়ে তুলছে। সংঘর্ষের ফলে শুধু মানুষই বিপদের মুখে পড়ছে না, এটি একটি অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্র ও স্বাভাবিক জীবনযাপনকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে তুলছে। মানুষ ও হাতি হাজার বছর ধরে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে; কিন্তু উন্নয়ন, বিভিন্ন প্রাকৃতিক কারণ ক্রমেই এসবের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। হাতি তৃণভোজী প্রাণীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রাণী। একটি হাতি দিনে ১৫০ কেজি ঘাস এবং ১৯০ লিটার পানি পান করে। এ কারণে খাদ্য ও পানীয়ের জন্য বড় একটা এলাকা হাতিকে ঘুরে বেড়াতে হয়।

Manual1 Ad Code

 

Manual5 Ad Code

অনেক দেশেই মানুষ হাতির বিচরণ ক্ষেত্রে বসবাস করে। হাতি ছাড়াও তাদের বন্যপ্রাণীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হয় জমি, খাদ্য, পানি ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে। এসব অঞ্চলের মানুষ হাতির বিচরণ এলাকা কতটুকু বা অন্যান্য বন্যপ্রাণী কোথায় বিচরণ করে এসব নিয়ে অসচেতন। ক্রমশ হাতির বসবাসের এলাকায় নতুন গ্রাম, খামার, শহর, বড় রাস্তা, শিল্পকারখানা গড়ে উঠছে। হাতির যাতায়াতের পথে বেড়া দেওয়া হচ্ছে। বনভূমি ক্রমশ কৃষিভূমিতে পরিণত হচ্ছে। আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের ধরন পালটে যাচ্ছে। হাতিরা নতুন নতুন এলাকায় ঢুকে পড়ছে এ কারণে। পানি ও জ্বালানি সংগ্রহ করতে গিয়ে মানুষ বড় ধরনের বিপদের মুখে পড়ছে। গবেষণা বলছে, প্রতি বছর শ্রীলংকায় ২০০ হাতি হত্যার কবলে পড়ে। 

ভারতে মানুষ-হাতি সংঘর্ষে মারা পড়ে বছরে ১০০ হাতি। কেনিয়াতেও এ সংখ্যা বছরে ১২০-এর বেশি। একটি বড় পুরুষ হাতি ওজনে ৬ হাজার ৮০০ কেজি হয়। যা অনেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের থেকে একশ গুণ বেশি ভারী। যখন হাতি নিজেকে হুমকির মুখে পড়েছে মনে করে তখন সে মানুষকে আঘাত বা হত্যা করে। মানুষের ঘরবাড়ি ও সম্পদ বিনষ্ট করে। ভারতেই প্রতিবছর হাতির কারণে অন্তত ৫ লাখ পরিবারের শস্যের ক্ষতি হয়। ফলে এসব পরিবার প্রচণ্ড আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে এবং স্বাস্থ্য ও পুষ্টির অভাবে পড়ে।

Manual8 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code