হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ছনের ঘর

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৩ years ago

Manual5 Ad Code

বিশেষ প্রতিবেদন:গ্রাম বাংলার চিরচেনা রূপ বোঝাতে এখনও পাঠ্যবই কিংবা নাটক-সিনেমায় দেখানো হয় কুঁড়েঘর বা ছনের তৈরি ঘর। ঐতিহ্যবাহী এসব ঘর দেখতেও যেমন নান্দনিক; তেমনি প্রচণ্ড শীত কিংবা গ্রীষ্মের দাবদাহে বেশ আরামদায়কও। প্রযুক্তির উৎকর্ষতার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জীবনমানে আসছে পরিবর্তন। আর এর প্রভাবে একে একে হারিয়ে যাচ্ছে নানান গ্রামীণ ঐতিহ্য; ট্নি আর পাকা ঘরের স্থায়িত্বের কাছে টিকতে না পেরে হারিয়ে যাচ্ছে এই কুঁড়েঘরও।

Manual4 Ad Code

কয়েক দশক আগেও মৌলভীবাজারের কুলাউড়াসহ বিভিন্ন উপজেলায় ছনের ঘর দেখা যেতো। সেইসময় পাহাড় থেকে ছন কেটে শুকিয়ে তা বিক্রির জন্য ভার বেঁধে হাটে নিয়ে যাওয়া হতো। এই হাটগুলো এক সময় এলাকাভিত্তিক ‘ছনখোলা’ নামেও পরিচিত ছিল। চা বাগানের মালিকপক্ষ শ্রমিক দিয়ে ছন কেটে শুকিয়ে বাগানে ছনের ঘর তৈরি করে দিতেন। পুরো গ্রামে চলতো ছনের ঘর বানানোর আমেজ। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই দৃশ্য এখন আর তেমন চোখে পড়ে না।

Manual1 Ad Code

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মৌলভীবাজারের চা বাগানের ভেতর ঐতিহ্যের নিদর্শন ছিল ছনের ঘর। গ্রামীণ এলাকার গরিব-মধ্যবিত্তের বাড়ির ঘরের ছাউনির একমাত্র অবলম্বন ছিল এই ছন। সেই সময় ছন মাটি কিংবা বেড়ার ঘরে ছাউনি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। আর এখন মানুষ পাকা-আধাপাকা বাড়ি তৈরিতে ব্যস্ত। ছাউনি হিসেবে ব্যবহার করছে টিনকে। পাহাড়েও এখন আগের মতো ছন পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে গ্রাম থেকে ছনের ব্যবহার ক্রমশ বিলুপ্তির পথে।

কুলাউড়া উপজেলার জয়নুল নামের এক দিনমজুর বলেন, ‘আগের মতো পাহাড় নেই, আর যাও আছে সেখানে আগের মতো ছন পাওয়া যায় না। যেসব জায়গায় ছন হতো সেখানে আর হয় না কিংবা পাহাড় উজাড় করে সেখানে অন্য চাষাবাদ হচ্ছে। আগে প্রতিবছর ঘরে পুরনো ছনের ছাউনি সরিয়ে নতুন করে ছন লাগানো হতো। অবশ্য এখনও কেউ কেউ অর্থাভাবে, আবার কেউ আরামের জন্য টিনের পরিবর্তে ছনকে ছাউনি হিসেবে ব্যবহার করেন।

Manual6 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code