আফ্রিকার গিনি-বিসাউয়ে নির্বাচনি ফল ঘোষণার আগেরদিন সেনা অভ্যুত্থান

লেখক: বাংলানিউজ ইউএস.কম
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

Manual7 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট : পশ্চিম আফ্রিকার রাষ্ট্র গিনি-বিসাউয়ে নির্বাচনের ফল ঘোষণার একদিন আগে ক্ষমতা দখল করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। বুধবার (২৬ নভেম্বর) সেনা কর্মকর্তাদের একটি অংশ রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে এই ঘোষণা দেন। পরদিন বৃহস্পতিবার দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাথমিক ফল ঘোষণার কথা ছিল। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। অভ্যুত্থানকারী সেনাকর্মকর্তাদের মুখপাত্র দিনিজ এন’চামা জানান, নির্বাচনি প্রক্রিয়া স্থগিত রেখে প্রেসিডেন্ট উমারো সিসোকো এমবালোকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। আপাতত দেশের সীমান্ত বন্ধ রয়েছে এবং শিগিগিরই কারফিউ জারি করা হবে।

Manual2 Ad Code

এর কিছুক্ষণের মধ্যেই এমবালো ফ্রান্স ২৪ কে বলেন, আমাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর ঘোষণার কিছুক্ষণ আগে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়, প্রেসিডেন্ট ভবন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে গুলির শব্দ শোনা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এটি প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী হয়, তবে রাত আটটা (বাংলাদেশ সময়) নাগাদ তা থেমে যায় বলে রয়টার্সের একজন সাংবাদিক জানান। সেনা কর্মকর্তারা জানান, তারা “হাই মিলিটারি কমান্ড ফর দ্য রেসটোরেশন অব অর্ডার” (শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার উচ্চ সামরিক কমান্ড) গঠন করেছে, যা পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত দেশ পরিচালনা করবে। অবশ্য প্রেসিডেন্ট এমবালো তাদের হেফাজতে আছেন কি না, তা জানা যায়নি।

Manual8 Ad Code

তবে নিরাপত্তাবাহিনীর দুই কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, এমবালোকে সেনা কার্যালয়ে আটক রাখা হয়েছে। বুধবার রাতে প্রচারিত এক ভিডিও বিবৃতিতে এমবালোর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ফের্নান্দো দিয়াস বলেন, সশস্ত্র ব্যক্তিরা তাকে আটক করার চেষ্টা করলেও তিনি নিরাপদে আছেন। তিনি জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দোমিঙ্গোস সিমোয়েস পেরেইরাকে আটক করা হয়েছে। দিয়াস দাবি করেন, আমি নির্বাচন জেতার কারণেই আমাদের বিরুদ্ধে একটি ভুয়া অভ্যুত্থানের নাটক সাজানো হয়েছে। এটি একটি সাজানো ঘটনা।

বুধবার রাতে এক যৌথ বিবৃতিতে আফ্রিকান ইউনিয়ন ও পশ্চিম আফ্রিকার আঞ্চলিক জোট ইকোওয়াস এ ঘটনার প্রতি “গভীর উদ্বেগ” জানায়। তারা জানায়, নির্বাচনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদেরও গ্রেফতার করা হয়েছে। সংস্থাগুলোর তরফ থেকে তাদের তাৎক্ষণিক মুক্তির দাবি করা হয়েছে।সেনাবাহিনীর দাবি, জাতীয় পর্যায়ের কয়েকজন রাজনীতিবিদ এবং পরিচিত দেশি-বিদেশি মাদক চক্রের “অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পরিকল্পনা” ও নির্বাচনি ফলাফল জালিয়াতির প্রচেষ্টার প্রতিক্রিয়ায় তারা ক্ষমতা গ্রহণ করেছে।

এটি গিনি-বিসাউয়ের সাম্প্রতিক অস্থিরতার নতুনতম উদাহরণ। সেনেগাল ও গিনির মাঝে অবস্থিত ছোট উপকূলীয় দেশটি দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপমুখী কোকেন পাচারের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ১৯৭৪ সালে পর্তুগালের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত গিনি-বিসাউয়ে অন্তত নয়টি সফল বা ব্যর্থ অভ্যুত্থান হয়েছে। এমবালো দাবি করেন, তিনি ক্ষমতায় থাকার সময়ে তিনটি অভ্যুত্থানচেষ্টা থেকে বেঁচে গেছেন। তবে সমালোচকরা বলেন, নিজের দমননীতিকে ন্যায্যতা দিতে তিনিই সংকট সৃষ্টি করতেন।

Manual2 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code