১৪ ফেব্রুয়ারি : বীর-তরুণদের রক্তেভেজা শহীদ- স্মৃতি অমর হোক

লেখক:
প্রকাশ: ৮ years ago

Manual6 Ad Code

নিউইর্য়ক সংবাদদাতা::  ১৪ ফেব্রুয়ারি এলে সব ছাপিয়ে স্বৈরাচারী এরশাদের পুলিশের গুলিতে ঝরে যাওয়া অনেক মুখের সঙ্গে আরো একটি নিষ্পাপ মুখ মনে পড়ে আমার। তার লাশ পাওয়া যায় নি। পড়তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। আমার দূর-সম্পর্কের মামাতো ভাই । তার বাবা ঢাকা শহরে অনেক পরিশ্রমের কাজ করে ছেলেকে পড়াতেন আর স্বপ্ন দেখতেন। খুবই মেধাবী ছিল তমিজউদ্দিন। মা-বাবা কত

Manual4 Ad Code

১৪ ফেব্রুয়ারি এরশাদ স্বৈরাচারের হত্যাযজ্ঞের মিছিলে নাম না জানা আরো অনেকের সঙ্গে গুম হয়ে গেল তমিজের লাশও। কিন্তু মামার মন মানতো না, যদিও পরবর্তীকালে তিনি আমার ব্যাখ্যায় একমত হয়েছিলেন। না পুলিশের খাতায়, না শহীদের তালিকায়, কোথাও নাম নেই তমিজের । নাম আছে শুধু স্বজনের হৃদয়ে। কেউ খোঁজও নেয় নি। তার গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের ঝাউকান্দি গ্রামে। তমিজের বাবা কয়েক বছর আগে মারা গেছেন ছেলের শোক বুকে নিয়ে। আল্লাহ তাদের দুজনেরই বেহেস্ত নসীব করুন।আতিপাতি করে খুঁজেছে তাকে। আমিও মামার সঙ্গে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেছি। ঘটনার দিন আমি সাংবাদিকতার পেশাগত কারণে হাইকোর্ট এলাকায় ছিলাম। হত্যাকা-ের পর কিছু লাশ ঘটনাস্থল থেকেই গুম করা হয়। কিছু লাশ ছাত্ররা জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে রেখে অপেক্ষা করছিল জাতীয় নেতৃবৃন্দকে নিয়ে মিছিল করার। কিন্তু জাতীয় নেতৃবৃন্দ রহস্যজনক কারণে’ আসতে দেরি করার ফাঁক দিয়ে এরশাদের পুলিশ বাহিনী অসংখ্য আর্মার্ড কারসহ প্রায় যুদ্ধ সাজে এসে লাশগুলি ছিনিয়ে নেয়। অসংখ্য লাশের মাত্র কয়েকজনের নাম প্রকাশ করা হয় । আমার সঙ্গে সেদিন সম্ভবত তরুণ সাংবাদিক ফজলুল বারী ছিলেন। সেদিন অসহায়ের মতো দেখছিলাম পুলিশের ছিনতাই।

Manual2 Ad Code

আগামী মাসে এলাকার উদ্যোগী তরুণদের নিয়া আমরা একটি পাঠাগার চালু করতে যাচ্ছি। ছোট আকারের একটি আলোচনা কক্ষ রাখছি বহুমুখী ব্যবহারের জন্য। ২০২০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি শহীদ তমিজের উপর একটি আলোচনা সভা করে তার স্মৃতি অম্ল­ান রাখার আশা পোষণ করছি। । একই সঙ্গে বিপুল ত্যাগ ও অবদান রেখে হারিয়ে যাওয়া অন্যদের নিয়ে আলোচনা ও স্মৃতিচারণ অব্যাহত রাখার ইচ্ছে আছে।

বাঙালী মুসলমানের উৎসবের সংখ্যা কম। অসাম্প্রদায়িক উৎসবের সংখ্যা আরো কম। সে কারণে নতুন উৎসব পেয়ে মেতে উঠা স্বাভাবিক। তবে ১৪ ফেব্রুয়ারি খুনি এরশাদ যেভাবে আমাদের বীর-তরুণদের রক্তে দিনটি ভাসিয়ে দিয়েছিলো, সেখানে কর্পোরেট হাউসেগুলির প্ররোচনা-সমৃদ্ধ ভেলেন্টাইন দিবসের মাতামাতিটা নিদেনপক্ষে আরো সংযত হওয়া দরকার। আর এটি এড়িয়ে গেলেও ভালোবাসা খুব একটা খারাপ অবস্থায় পড়বে না। মহাভারতও অশুদ্ধ হবে না।
বীর-তরুণদের রক্তেভেজা শহীদ-স্মৃতি অমর হোক : শহীদ তমিজের স্মৃতি অমর হোক।

– আহমেদ মূসা লেখক-সাংবাদিক-নাট্যকার : সাপ্তাহিক বর্ণমালার উপদেষ্টা সম্পাদক।

Manual4 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code