

ডেস্ক রিপোর্ট : ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬–এর ড্র আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এবারের আসর ১২টি গ্রুপে ৪৮টি দল নিয়ে তিন দেশে অনুষ্ঠিত হবে। পৃথিবীর সেরা স্পোর্টস প্রতিযোগিতা যেন আরও বড় পরিসর ধারণ করল। ৪৮ দলের অংশগ্রহণে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই টুর্নামেন্টে কোন গ্রুপ সবচেয়ে কঠিন—এ নিয়ে শুরু হয়েছে ক্রীড়া বিশ্লেষকদের জোর আলোচনা। আর সেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে গ্রুপ–এল, গ্রুপ–আই ও গ্রুপ–সি, যেখানে অংশ নেওয়া প্রতিটি দলই এবারের বিশ্বকাপে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। নেটিজেনরাও এই গ্রুপগুলোকে বলছেন ‘গ্রুপ অব ডেথ’। তার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হয়ে উঠেছে গ্রুপ–এল,যেখানে রয়েছে ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, ঘানা ও পানামা।
ইংল্যান্ড ইউরোপের শীর্ষ শক্তি। ১৯৬৬ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং দুইবারের রানার্স–আপ তারা। এবার গ্যারেথ সাউথগেট–পরবর্তী নতুন যুগে প্রবেশ করা ইংল্যান্ড শক্তি, অভিজ্ঞতা ও গভীর স্কোয়াড নিয়ে আসরে নামবে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে। দলে রয়েছে জুড বেলিংহাম, হ্যারি কেন, ডেক্লান রাইস ও বুকায়ো সাকার মতো তারকা খেলোয়াড়। ক্রোয়েশিয়া ফিফা বিশ্বকাপের ধারাবাহিকতার প্রতীক। ২০১৮ সালে রানার্স–আপ এবং ২০২২ সালে সেমিফাইনালিস্ট—বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া মানেই ভয়ংকর প্রতিপক্ষ। অভিজ্ঞতা ও টেকনিক্যাল ফুটবলে তারা এখনো বিশ্বের অন্যতম সেরা। লুকা মদরিচ, মাতেও কোভাসিচ ও জোস্কো গভার্দিওল এই আসরে দলকে নেতৃত্ব দেবেন।
ঘানা আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী দল। শারীরিক সক্ষমতা, গতি ও টেকনিক্যাল ফুটবলে তারা বড় দলের জন্য সবসময়ই কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।সামগ্রিক শক্তি, অভিজ্ঞতা, গতি এবং ব্যালান্সড স্কোয়াড—সব দিক বিবেচনায় ডেথ গ্রুপের আলোচনায় উঠে এসেছে গ্রুপ–সি, যেখানে রয়েছে ব্রাজিল, মরক্কো, স্কটল্যান্ড ও হাইতি। ব্রাজিল, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও বড় মঞ্চের রাজা। বিশ্বকাপ মানেই ব্রাজিল। যে কোনো আসরে তারা ফেভারিট। নতুন প্রজন্মের তারকারা গতি, টেকনিক ও আক্রমণে দুর্দান্ত। নেইমার ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এ দলকে নেতৃত্ব দেবেন। মরক্কো ২০২২ সালের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট। সেই আসরে ইতিহাস গড়ে সেমিফাইনালে ওঠা মরক্কো এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা সংগঠিত দল। আশরাফ হাকিমির নেতৃত্বে তাদের রক্ষণ, কাউন্টার অ্যাটাক এবং দলীয় শৃঙ্খলা বড় বড় দলগুলোকেও চাপে ফেলে দিতে পারে। ব্রাজিলের বিপক্ষেও তাদের দেখা যেতে পারে সমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
স্কটল্যান্ড ইউরোপের কঠিন প্রতিপক্ষ। ইউরোপীয় বাছাইপর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে তারা প্রমাণ করেছে যে তারা আর ছোট দল নয়। শক্তিশালী রক্ষণ, শারীরিক ফুটবল ও সেট–পিসে দক্ষতা স্কটল্যান্ডকে যেকোনো সময় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা দেয়। ডেথ গ্রুপের আলোচনায় রয়েছে গ্রুপ–আই–ও, যেখানে আছে ফ্রান্স, সেনেগাল ও নরওয়ে। ২০২২ সালের রানার্স–আপ ফ্রান্স এবারের আসরেও শিরোপার অন্যতম দাবিদার। কিলিয়ান এমবাপ্পেকে নিয়ে তারকায় ঠাসা ফরাসি দল ফুটবল বিশ্বকে আবারও চমকে দিতে পারে। আফ্রিকার ‘টারাঙ্গা লায়ন’ সেনেগাল এবং ইউরোপের উদীয়মান শক্তি নরওয়েও শক্তিমত্তার বিচারে পিছিয়ে নেই।