দৌলতদিয়ায় ইজতেমাগামী মুসুল্লীদের সীমাহীন দুর্ভোগ

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual3 Ad Code

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী):
শুক্রবার হতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। সেখানে যোগ দিতে বুধবার থেকেই দক্ষিণাঞ্চলের অসংখ্য মুসুল্লী ছুটতে শুরু করেছেন। তাদের বয়ে আনা শতশত যাত্রীবাহী বাসের বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে দৌলতদিয়া ঘাটে।
পাশাপাশি ফরিদপুরের চন্দ্রপাড়া দরবার শরীফের বাৎসরিক ওরস শেষে বুধবার সকাল থেকেই ভক্তরা শতশত বাসযোগে এসে ভীড় করেছে ঘাট এলাকায়। এতে করে ঘাট এলাকা ও মহাসড়কে ফেরি পারের অপেক্ষায় বিকেল সাড়ে ৪টা নাগাদ দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে গোয়ালন্দ বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত অন্তত ৫কিমি জুড়ে সহ¯্রাধিক যানবাহন মহাসড়কে আটকে ছিল।
আটকে পড়া হাজারো মুসুল্লীর প্রসাব-পায়খানা, ওযু করা ও নামাজ আদায় করা নিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এর সাথে অন্যান্য যানবাহনের সাধারণ যাত্রীরাও দীর্ঘ সময় আটকে থেকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
বিআইডব্লিউটিসি’র স্থানীয় অফিস সূত্র জানায়, বুধবার সকাল ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত টানা ৪ ঘন্টা ঘন কুয়াশার কারণে দেশের ব্যস্ততম দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ার এ নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। এ সময় মাঝ নদীতে আটকা পড়ে ৬টি ফেরি। দীর্ঘ সময় ফেরি বন্ধের পাশাপাশি ইজতেমাগামী ও ওরস ফেরত বাড়তি বাস ও অসংস্য মুসুল্লীরা একযোগে ঘাটে চলে আসায় ঘাট এলাকায় বাড়তি চাপের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিন বুধবার বেলা ৩টার দিকে দেখা যায়, দৌলতদিয়া ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে গোয়ালন্দ বাজার পর্যন্ত মহাসড়কের অন্তত ৫ কিলোমিটার জুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে যানবাহনের সারি ছোট রাখতে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ১২ কিলোমিটার দুরে গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় শত শত পন্যবাহি ট্রাক সিরিয়ালে আটকে রাখছে পুলিশ। বহু যাত্রী দীর্ঘ সময় বাসে বসে থেকে অবশেষে পায়ে হেটে লঞ্চ ও ফেরি ঘাটের দিকে যেতে দেখা যায়।
দৌলতদিয়ায় বাংলাদেশ হ্যাচারীজ এলাকায় দেখা যায়, মহাসড়কের পাশে বিশাল খালে বহু মুসুল্লী অনেক কষ্টে কাঁদা-পানির মধ্যে ওযু করছেন। অতপর খালের পাড়েই ঘাসের মধ্যে নামাজ আদায় করছেন। প্রসাব-পায়খানার চাপে কাউকে কাউকে পাশের শষ্য ক্ষেতের দিকে যেতে দেখা যায়।
যশোরের চৌগাছা থেকে আসা ইজতেমাগামী কামাল হোসেন, মশিউর রহমান, গোপালগঞ্জ থেকে আসা হারুন অর রশিদ, খুলনার ডুমুরীয়া থেকে আসা আবু সাত্তার খান, সাজ্জাদ আলী খান, ইউসুফ আলীসহ অনেকেই জানান, তারা বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের যোগদানের উদ্দেশ্যে বাস রিজার্ভ করে এসেছেন। কিন্তু ঘাট এলাকায় ঘন্টার পর ঘন্টা আটকে থেকে অনেক ধরণের কষ্ট হচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক আবু আব্দুল্লাহ জানান, কুয়াশায় ৪ ঘন্টা ফেরি বন্ধ থাকার পর সকাল ১০টায় চালু হয়। কিন্তু তারপর থেকেই একযোগে ওরস ফেরত ও ইজতেমাগামী শতশত গাড়ী আসতে থাকায় ঘাট এলাকায় প্রচন্ড চাপের সৃষ্টি হয়েছে। নৌরুটে ১৬টি ফেরি সচল আছে। সিরিয়ালে আটকে থাকা যানবাহনগুলোর মধ্যে দূর্ভোগ কিছুটা কমাতে যাত্রীবাহি যানবাহনগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করা হচ্ছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code