মাশরাফিকে দেখে প্রেরণা পাই: হ্যামিলটন মাসাকাদজা

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual2 Ad Code

সোনালি প্রজন্মের বিদায়ের পর তিনি ছিলেন জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের প্রতীক। অনেক স্মৃতি ও রেকর্ড বুকে নিয়ে অবসরে গেছেন। তারপরও ক্রিকেটের সঙ্গেই আছেন। বাংলাদেশের এই দারুণ বন্ধু এবার এখানে এসেছেন ক্রিকেট পরিচালক হিসেবে।

নিজেকে নিয়ে, বাংলাদেশ নিয়ে, বন্ধু মাশরাফিকে নিয়ে এবং জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট নিয়ে কথা বলেছেন হ্যামিলটন মাসাকাদজা। একান্ত সাক্ষাত্কার নিয়েছেন দেবব্রত মুখোপাধ্যায়।

 

Manual8 Ad Code

সিলেট স্টেডিয়াম কেমন দেখছেন?

বিউটিফুল। আমি প্রথম যখন এখানে এসেছিলাম, অবাক হয়েছিলাম—বাংলাদেশে এত সুন্দর স্টেডিয়াম। চারদিকে অনেক সবুজ। এরকম স্টেডিয়ামে এলে মন ভালো হয়ে যায়।

এখানে তো আগেও এসেছেন?

হ্যাঁ। এই নিয়ে চারবার এলাম। প্রথম এসেছিলাম ২০১৪ সালে; টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব খেলতে। আর শেষ তো এখানে টেস্ট জিতলাম ২০১৮ সালে।

মানে সিলেটে সুখস্মৃতি আছে।

হ্যাঁ। কিন্তু খারাপ স্মৃতিও আছে। প্রথমবার এখান থেকে বাছাইপর্বটা পার হতে পারিনি।

আপনার শুরুর দিনগুলোতে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে সমানে সমান ছিল। এখন জিম্বাবুয়ে ১০ বছর ধরে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ জেতে না। পার্থক্যটা কোথায় হলো?

অবশ্যই বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশ এখন অনেক বড় বড় দলকে হারায়, সে সময় যেটা পারত না তারা। বাংলাদেশ সত্যিই ক্রিকেটে অনেক উন্নতি করেছে। সেই সঙ্গে আফগানিস্তানের কথাও বলতে হয়।

বাংলাদেশে মাশরাফি আপনার খুব ভালো বন্ধু, তাকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন?

Manual5 Ad Code

বাংলাদেশের জন্য মাশরাফির অবদান অসামান্য। সে আমি মনে করি ‘আনসাং হিরো’। আমরা প্রায় একসঙ্গে খেলা শুরু করেছি। সে সত্যিই বাংলাদেশের বাঘ হয়ে উঠেছে আস্তে আস্তে। আমি ওর সাথে ক্লাব ক্রিকেটে এক ড্রেসিংরুম শেয়ার করেছি। ওর উঠে আসার গল্প জানি আমি এবং জানি যে, ও কীসের ভেতর দিয়ে গেছে। আমি মনে করি, এখনো মাঠে ওর অনেক কিছু করার আছে। ও যা করে, সেটা ব্যক্তিগতভাবে আমাকে খুব অনুপ্রাণিত করে। আমি ওকে বলি, তুমি ইংরেজিতে একটা বই লেখ। আশা করি ও সেটা করবে এবং বিশ্বের অনেককে অনুপ্রেরণা দেবে।

অনেকেই তার শেষ দেখতে পাচ্ছেন এখন।

Manual1 Ad Code

আমার মনে হয় না, ওর বিদায় নেওয়ার সময় এসেছে। আমি মনে করি, বাংলাদেশ হয়তো অধিনায়কত্ব নিয়ে অন্য কারো দিকে এগিয়ে যাবে। কিন্তু আমি এখনো ওকে অন্তত বছর দুই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে দেখতে পাই। আমার মনে হয় না, ওকে কেউ জোর করে বের করে দেবে। ওর আসলে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থাকা উচিত।

আপনার কথায় আসা যাক। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটে ‘ক্রিকেট পরিচালক’ হিসেবে আপনাকে এখন ঠিক কী করতে হচ্ছে?

আমি আসলে ক্রিকেটের প্রশাসনিক যে দিকটা আছে, সেটার পুরোটার দায়িত্বে আছি। বয়সভিত্তিক দল, সিনিয়র দল, সাপোর্ট স্ট্যাফ; প্রত্যেকটা ব্যাপার দেখতে হয়।

নতুন এই ভূমিকা কেমন উপভোগ করছেন?

খুব রোমাঞ্চকর কাজ। আমি আসলে এখনো শিখছি। আসলে একজন খেলোয়াড় হিসেবে বোঝা যায় না যে, পর্দার পেছনে কত কাজ হয়। আপনি আগের ম্যাচ খেলে গেলেন এবং দুদিন পর আবার এসে খেললেন; এর মধ্যে অনেক কিছু ঘটে। এই না জানার কারণে অনেক ভুল বোঝাবুঝিও হয়। ফলে আমাকে দেখতে হচ্ছে যে, খেলোয়াড়রা না জানার কারণে যেন কাউকে ভুল না বোঝে। কেন একটা খেলোয়াড় খেলছে না, কেন সে সুযোগ পাচ্ছে না; এগুলো বুঝিয়ে বলতে হয়।

আপনাদের সামনে অনেক দিন কোনো টেস্ট নেই। আপনি এটা বাড়ানোর চেষ্টা করবেন?

অবশ্যই। একটা টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে আমাদের যত বেশি সম্ভব টেস্ট খেলতে হবে। আমি ক্রিকেটের শুদ্ধতাবাদী মানুষ। ফলে আমি এই ফরম্যাটের খেলা বাড়ানোর চেষ্টা করব।

আইসিসির নিষেধাজ্ঞা কী আপনাদের নিজেদের গুছিয়ে নিতে একটু সাহায্য করল?

হ্যাঁ, সব খারাপের একটা ভালো দিকও তো থাকে। অবশ্যই নিষেধাজ্ঞাটার খারাপ প্রভাব বেশি ছিল। তারপরও আমরা নিজেদের পুনর্গঠিত করার জন্য একটা সময় পেয়েছি।

আপনার এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ কী?

আমাদের দলের ছয়-সাত জন সিনিয়র খেলোয়াড় কিছুকালের মধ্যে একসঙ্গে অবসরে যাবে। এই ক্রান্তিকালটা পার করার জন্য পাইপলাইনকে প্রস্তুত রাখাটা মূল চ্যালেঞ্জ।

Manual2 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code