

বসুন্ধরা কিংসের খেলা আগেও দেখেছেন দর্শকরা। কিন্তু লিওনেল মেসির সতীর্থ ফুটবলার বারকোসের খেলা ঢাকার মাঠে আজ প্রথম। প্রিমিয়ার লিগ শুরু হওয়ার আগেই বারকোস ঢাকায় এসে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। এরপর ফিরে গিয়ে ব্রাজিলিয়ান স্ত্রীকে এনেছেন ঢাকায়।
আর্জেন্টিনার জাতীয় দলে খেলেছেন বারকোস। বিশ্বকাপ ফুটবলের চার ম্যাচ খেলেছেন তিনি। আজ তার মাঠে নামার কথা। তাই আর্জেন্টাইনটির প্রতি বাড়তি আগ্রহ সবার। গতকাল বিকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুশীলন করতে নামার আগে সংবাদ মাধ্যমের ভিড় হলো। স্টেডিয়ামের ভেতরে মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টস অনুশীলন করছিল। তাই স্টেডিয়ামের বাইরে টিম বাসে বসে ছিলেন খেলোয়াড়রা। সবুজ, ইব্রাহিম, বিপলু, আলমগীর রানা, তপু বর্মনরা শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং কমপ্লেকসে গিয়ে মেয়েদের ডিউবল অনুশীলন দেখছিলেন। বাসে পেছনের সিটে অপেক্ষায় রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা কোস্টারিকার কলিন্দ্রেস এবং আর্জেন্টাইন হার্নান বারকোস। মাঠে ঢোকার ডাক পেয়ে তারা নেমে এলেন। রিকশার ভিড় ঠেলে কথা বলা গেল না। মাঠে ঢুকতেই এক দুই কথার আলোচনা পুরোটাই ছিল দুষ্টামিতে ভরা। আলমগীর কবির রানা বললেন, ‘বারকোস খুব মিশুক। দুষ্টামি করে বেশি।’
বারকোসকে বলা হলো ৪-০ গোল জিতবে তোমার দল। তুমি কতো গোলে জিততে চাও ? বারকোস বললেন, ‘২৫ গোলে জিততে চাই।’ কথাটা শুনে অন্যরা চমকে গেলেন। বখতিয়ার, কলিন্দ্রেস, সবুজ, গোলকিপার জিকো, সুফিলরা বারকোসের মুখের দিকে তাকালেন। বারকোস ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে বললেন, ‘আমি ২৪টা গোল করব।’ বাকি একটি কে করবে ? বারকোস বললেন, ‘দলের যে কেউ করতে পারবে।’ বলেই ফিরলেন আসল কথায়। ‘দেখ দলটা আমার ওপর নির্ভর করবে কেন? আমরা সবাই মিলেই খেলব। একটা দল হয়ে খেলব।’
মাঠ থেকে আবার ড্রেসিং রুমে ফিরে যাওয়ার সময় বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে কথা বলতে গেলে তিনি সবাইকে ভালো বললেন। মেসির সঙ্গে ভালো কোনো স্মৃৃতির প্রশ্নে বারকোস বললেন, ‘মেসি খুব ভালো। মেসি গুড।’
বারকোস ঢাকায় আসার আগে অস্কার ব্রুজনকে ফোনে বলেছিলেন, ‘তোমার প্লেয়ারদের বলবে দুই উইং দিয়ে বলটা যেন বক্সে ফেলে। বাকি কাজটা আমি করব।’ বারকোস দুষ্টামি করুক আর যাই করুক, মেসির সঙ্গে বিশ্বকাপ খেলেছে। তার ফুটবল মেধা অনেক বেশি হওয়াই স্বাভাবিক। তাই তার দিকে আজ দর্শকের বাড়তি নজর থাকবে।