কারসাজি দেশের জন্য ক্ষতিকর

লেখক:
প্রকাশ: ৭ years ago

Manual2 Ad Code

বাংলাদেশের মানুষ অবৈধ সিন্ডিকেটের হাতে বন্দি। যে দুর্যোগ মানুষের সামনে আসবে তা নিয়ে শুরু হয়ে যায় অবৈধ ব্যবসা। যেখানে ব্যবসায়ীরা মানুষের কল্যাণে কাজ করার কথা, সেখানে দেশের দুঃসময় ও দুর্যোগে তারা অবৈধ ব্যবসা নিয়ে মত্ত থাকে।

Manual7 Ad Code

কখনো পেঁয়াজের মূল্য, কখনো চিনির মূল্য, কখনো আদা, রসুনের মূল্য কখনো বা ধান-চালের মূল্য ইত্যাদির যোগসাজশ যেন পালাক্রমে নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন। অবৈধ সিন্ডিকেটের খপ্পরে মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে, দেশের দরিদ্র মানুষ হয় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।

সম্প্রতি সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাসের লক্ষণ প্রকাশ পেলে সঙ্গে সঙ্গে মাস্কের দাম বাড়িয়ে ফেলে অবৈধ সিন্ডিকেট ও মজুতদাররা। যেখানে মাস্কের দাম ৫/১০ টাকা, সেখানে একটি মাস্কের দাম ১০০ থেকে ৩০০ টাকা বিক্রি করছে এ সিন্ডিকেট।

 

কিছুদিন আগে সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছিল দেশের পেঁয়াজের বাজার। ভারত পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর রাজধানীসহ সারাদেশে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়েছে এ সিন্ডিকেট। কেজিতে দাম বেড়েছিল ৫০ থেকে ২০০ টাকা এবং বেশ কয়েকবার এ দাম বেড়েছিল। মজুতদারদের অবৈধ মজুতদারিতে ধান, চাল, ডাল, চিনিসহ বেশ কয়েকটি ভোগ্যপণ্যের দামও বেড়েছে।

তাছাড়াও ধর্মীয় উত্সবগুলোতে দেখা যায় সব ধরনের জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়। যেখানে অন্য দেশগুলোতে দুর্যোগ ও ধর্মীয় উত্সবে নাগরিকদের সুবিধার্থে ভোগ্যপণ্য ও জিনিসপত্রের দাম কমে সেখানে আমাদের দেশে এ নাকাল অবস্থা কেন! এর জন্য কে দায়ী?

অবৈধ সিন্ডিকেট ও মজুতদারি রোধে সরকার ও প্রশাসন ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও তা বাস্তবায়ন হয় না। বাস্তবায়ন না হওয়ার পেছনে সরকার ও প্রশাসনের কেউ কেউ জড়িত থাকার কারণে হয় না বলে মনে করেন অনেকে।

যদিও করোনা ভাইরাস আতঙ্কে নারায়ণগঞ্জে অতিরিক্ত মূল্যে মাস্ক বিক্রি করার দায়ে এক জনকে বিনাশ্রম কারাদণ্ডসহ আটটি ফার্মেসিকে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এমন কিছু জরিমানা হলেও অবৈধ সিন্ডিকেটের ব্যাপারে শক্ত অবস্থান নিতে দেখা যায় না প্রশাসনকে। যার ফলে বন্ধ হয় না দেশের অবৈধ সিন্ডিকেট ব্যবসা।

Manual2 Ad Code

বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রার মানের উন্নতি হলেও এখনো দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কম নয়, যারা সীমিত আয়ের মাধ্যমে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে। এ সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে জীবন নির্বাহ করতে হিমশিম খেতে হয় তাদের। ব্যবসার মাধ্যমে আয়ের কোনো সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড না থাকলেও মানুষকে জিম্মি করে এবং সীমাহীন দুর্ভোগে ফেলে অর্থ উপার্জন করা সঠিক কাজ নয়।

ক্রেতা সন্তুষ্টির মাধ্যমে যে কোনো মূল্যে পণ্য ক্রয় করলেও বিক্রেতারা যদি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দাম বাড়িয়ে অর্থ উপার্জন করে তা নিঃসন্দেহে অবৈধ কাজের অংশ। শুধু ভোগ্যপণ্য নয়, যে কোনো মাধ্যমেই সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য লক্ষ করা যায় বাংলাদেশে।

Manual5 Ad Code

কোনোভাবেই সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে যাতে মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে না যায়, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যাতে কেউ নতুন করে সিন্ডিকেট গড়ে তুলতে না পারে সে বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের এ ব্যাপারে তদন্ত করা এবং জড়িতদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা উচিত। যাতে তারা অবৈধ সিন্ডিকেট ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হয়। সর্বোপরি অবৈধ সিন্ডিকেট প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া সময়ের দাবি।

Manual4 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code