করোনা র‌্যাপিড টেস্ট কিট নিয়ে বিতর্কের কিছু নেই

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual2 Ad Code

অধ্যাপক ডাঃ কামরুল হাসান খান

‘অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ পৃথিবীতে আজ’- জীবনানন্দ দাশের কবিতার এ লাইনের মতোই মনে হচ্ছে আজ আমাদের প্রিয় পৃথিবীকে। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ থেকে বিশ্বের জন্য নতুন হুমকি করোনাভাইরাস সমগ্র বিশ্বকে ল-ভ- করে যাচ্ছে। তার তীব্রতা, আগ্রাসন বেড়েই চলেছে দিনকে দিন। বেড়ে চলেছে সংক্রমণের সংখ্যা, বেড়ে চলেছে মৃত্যুর মিছিল। বিভিন্ন দেশের যেমন রয়েছে সফলতার কাহিনী, তেমনি রয়েছে ব্যর্থতার বেদনাদায়ক ঘটনা। যারা শুরু থেকেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বাস্থ্যবিধিÑ দিকনির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলেছে তারা হয়েছে সফল আর যারা গুরুত্ব দেয়নি তাদেরকেই মোকাবিলা করতে হচ্ছে গভীরতম সঙ্কট। রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা, ঘরে অবস্থান, সামাজিক দূরত্ব যারা মেনে চলেছে কঠোরভাবে তাঁরাই হয়েছে করোনা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিজয়ী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসি এবং জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় সঠিক পরামর্শ- নির্দেশনা দিয়ে আসছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের নীতি-আদর্শে এ সংস্থাগুলো নির্ভরযোগ্য এবং সঠিক। বাংলাদেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা এদের তথ্যকে সঠিক মনে করে অনুসরণ করে। রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা নিয়ে বিশ্বব্যাপী চলছে নানা গবেষণা, নানা পর্যালোচনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ। এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ নিয়ে কোন গবেষণায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায়নি। এ জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে আরও অনেকদিন। গবেষণার মূল বিষয়গুলো হলো- ভ্যাকসিন তৈরি, রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার স্তর নির্ণয়, ওষুধ উদ্ভাবন, রেপিড টেস্ট কিটের প্রয়োজনীয়তা এবং ব্যবহার, রোগ প্রতিরোধের সঠিক পদ্ধতি। সার্স-কোভ ২ চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন আবির্ভাব, এজন্য বিজ্ঞানীরা হিমশিম খাচ্ছে এর গতিবিধি নিয়ে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনেক নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে। আজকের এ প্রবন্ধের মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে করোনাভাইরাসের রোগ নির্ণয় পদ্ধতি।

ক) সঠিক রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি : আরটি- পিসিআর (রিভার্স টান্সক্রিপশন রিয়াল টাইম পলিমারেস চেইন রিএ্যাকশন)ই হচ্ছে একমাত্র নির্ভরশীল, গ্রহণযোগ্য পরীক্ষা পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে পরীক্ষা করলে ফলাফল নির্ভুল বলে গৃহীত হয়। যে কোন ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ভুলত্রুটি হতে পারে। এক্ষেত্রেও সেটা প্রযোজ্য। পরীক্ষার অনেক ধাপ আছে- যেমন নমুনা সংগ্রহ, নমুনাটি যথাযথভাবে স্থাপন, মেশিনের যথাযথ কার্যকারিতা, ফলাফল পর্যবেক্ষণ। এর যে কোন ধাপে যদি ভুল হয়ে যায় তবে ফলাফল ভুল হতে পারে। এর পেছনে অবশ্যই প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞ এবং টেকনোলজিস্ট থাকতেই হবে। বিশ্বব্যাপী আরটি- পিসিআর-এর মাধ্যমেই করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্ত করা হচ্ছে এবং রোগীর সুস্থতা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

খ) র‌্যাপিড টেস্ট কিট : এখন পর্যন্ত বিশ্বে কোথাও করোনাভাইরাসের রোগ নির্ণয়ের জন্য র‌্যাপিড টেস্ট কিটের ব্যবহারের কোন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। এ বিষয়ে বিভিন্ন দেশ তাদের দেশীয় চিন্তা-ভাবনার প্রয়োগ করছে তবে বেশকিছু বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব ও গবেষণা গৃহীত হয়েছে –

১. করোনাভাইরাসের এন্টিবডি একজন আক্রান্ত রোগীর শরীরে দুই/চার সপ্তাহের আগে তৈরি হয় না।

Manual7 Ad Code

২. এন্টিবডি পরীক্ষা রোগ নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত হয় না, রোগীর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি পর্যবেক্ষণ করার জন্য ব্যবহৃত হয়।

৩. শরীরে এন্টিবডির উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, মানুষটি এক সময়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিল, সে এখন আক্রান্ত আছে না সুস্থ অবস্থায় আছে তা বোঝা যাবে না।

৪. ব্যাপক রোগ প্রতিরোধ অবস্থা সৃষ্টি (হার্ড ইমিউনিটি) : যখন একটা জনগোষ্ঠীতে অধিক সংখ্যক মানুষের শরীরে এন্টিবডি তৈরির মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জিত হয় তখন সে মানুষগুলো কাছের মানুষদের আর সংক্রমণ করতে পারে না। সেক্ষেত্রে এক ধরনের সামাজিক পরোক্ষ প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। এবং এ ধারণাটি থেকে বিভিন্ন দেশ তাদের লকডাউন প্রত্যাহারের ধাপ প্রস্তুত করতে পারে।

এন্টিবডি পরীক্ষা কখন করতে হয়

যখন রোগীটি উপসর্গমুক্ত হবে তার এক/দুই সপ্তাহ পরে এ পরীক্ষা করলে শরীরে এন্টিবডির উপস্থিতি সাধারণত পাওয়া যায়।

এন্টিবডির কাজ

এটি এন্টিজেন বা ভাইরাসকে প্রতিহত করে, ধ্বংস করে এবং শরীর থেকে প্রত্যাহার করে।

এন্টিবডি টেস্ট বা পরীক্ষার সঠিকতা (অপপঁৎধপু) : তিনটি কারণে এন্টিবডি পরীক্ষা সঠিক ফলাফল নাও দিতে পারে।

১. মিথ্যা নেগেটিভ ফল : একজন মানুষের শরীরে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার দুই/চার সপ্তাহ পরে সাধারণত এন্টিবডি তৈরি হয়। এর আগে পরীক্ষা করলে সেটি নেগেটিভ ফল দেবে।

২. মিথ্যা পজিটিভ : এখন পর্যন্ত ৭ ধরনের করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। ৭ম ভাইরাসের নাম হচ্ছে সার্স কভ-২। এর আগে যদি অন্য কোন ভাইরাসের কারণে শরীরে এন্টিবডি তৈরি থাকে তবে ঐ এন্টিবডির সঙ্গে যুক্ত হয়ে মিথ্যা পজিটিভ ফল দিতে পারে।

৩. মিথ্যা নেগেটিভ : অনেক সময় আক্রান্ত রোগীর শরীরে এন্টিবডি তৈরি নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে মিথ্যা ফল পাওয়া যেতে পারে।

র‌্যাপিড এন্টিজেন পরীক্ষা

এ পরীক্ষাটাও এখন পর্যন্ত কোথাও অনুমতি পায়নি। বিশ্বের নামী-দামী রিএজেন্ট প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলো এ বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করেছে। কারণ নাক-মুখ থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে কাঠিতে (সোয়াব) ভাইরাস পাওয়া যায় না। দ্বিতীয় কারণ করোনাভাইরাস সাধারণত শ্বাসনালী এবং ফুসফুসে বাসা বাঁধে, রক্তে উপস্থিতি অনিশ্চিত। সে কারণে সরাসরি সোয়াব বা রক্ত থেকে র‌্যাপিড এন্টিজেন পরীক্ষার কার্যকারিতা পাওয়া যায়নি। ই-টোয়েন্টি ফাইভ বায়ো এবং ওরাসিউর-এর মতো বিশ্ববিখ্যাত কোম্পানিগুলো অন্যান্য ভাইরাসের এন্টিজেন পরীক্ষা উদ্ভাবন করলেও করোনাভাইরাসের মতো শ্বাসনালীর ভাইরাসের এন্টিজেন পরীক্ষায় আগ্রহ দেখায়নি।

সাধারণত আরটি- পিসিআর পরীক্ষায় চার/পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে। ইতোমধ্যে বিখ্যাত কোম্পানি এবোট যুক্তরাষ্ট্রে ১৩ মিনিটে এ পরীক্ষা করার পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে যা এখন সেখানে ব্যবহৃত হচ্ছে।

র‌্যাপিড এন্টিবডি টেস্ট নিয়ে বিভিন্ন দেশের অবস্থান

১. যুক্তরাষ্ট্রের ফুড এ্যান্ড ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) অনুমোদিত এন্টিবডি টেস্টের লেভেলে লেখা থাকতে হবে- ‘জবংঁষঃং ভৎড়স ধহঃরনড়ফু ঃবংঃরহম ংযড়ঁষফ হড়ঃ নব ঁংবফ ধং ঃযব ংড়ষব নধংরং ঃড় ফরধমহড়ংব ড়ৎ বীপষঁফবং ঝঅজঝ-ঈড়া-২ (ঈড়ারফ ১৯) রহভবপঃরড়হ ড়ৎ ঃড় রহভড়ৎস রহভবপঃরড়হ ংঃধঃঁং.’

Manual4 Ad Code

২. যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে ৩৫ লাখ এন্টিবডি টেস্ট কিট ক্রয় করেছে। কিন্তু এর কার্যকারিতা না পাওয়ায় ব্যবহার করছে না। বরং জনগণের জন্য ‘ঈড়ৎড়হধারৎঁং: উড়ঁনষব ধিৎহরহমং ড়াবৎ ধহঃরনড়ফু ঃবংঃ’ দিয়ে রেখেছে।

৩. যুক্তরাষ্ট্রের বায়োমেডোমিক্স কোম্পানি বিশ্বে করোনার জন্য প্রথম র‌্যাপিড এন্টিবডি টেস্ট উদ্ভাবন করে এবং চীনে স্ক্রিনিংয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়। পরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহার করে। উপসর্গসহ বা উপসর্গবিহীন সব রোগীর ক্ষেত্রে স্ক্রিনিংয়ের জন্য এ পরীক্ষাটি ব্যবহার করা যেতে পারে।

Manual8 Ad Code

৪. এন্টিবডি টেস্ট মহামারীর শেষ পর্যায়ে বেশি প্রয়োজন হবে। যুক্তরাজ্যে মে মাসের শেষ দিকে এন্টিবডি টেস্টের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে। জার্মানি এবং ইতালী এ পরীক্ষা শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ চারটি কোম্পানিকে অনুমতি দিয়েছে।

Manual8 Ad Code

বাংলাদেশে গণস্বাস্থ্য র‌্যাপিড টেস্ট কিট উদ্ভাবনের ঘোষণা দিয়েছে এবং ইতোমধ্যে প্রক্রিয়া চলছে। এটি বিশ্বের জন্য নতুন না হলেও বাংলাদেশের একটি সংস্থা উদ্যোগ নিয়েছে এটিও আমাদের জন্য কম গৌরবের নয়। আমরা দেশের মানুষ এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছি, অভিনন্দন জানিয়েছি। কিন্তু গণস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষই অহেতুক কিছু বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। তারা প্রথমেই ঘোষণা দিয়েছে এটি স্বল্পমূল্যে, দশ/পনেরো মিনিটের মধ্যে ফল পাওয়া যাবে। এবং ৫ কোটি মানুষের পরীক্ষার ব্যবস্থা করবে। স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষ আকৃষ্ট হয়েছে। তারা বাংলাদেশের সরকার, চিকিৎসা বিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সংস্থা সবাইকে উপেক্ষা করেই সবকিছু করে ফেলতে চেয়েছে। যেহেতু জনকল্যাণের জন্য প্রয়োজনীয়তা ভেবে সরকার শুরু থেকেই সকল সহযোগিতা করেছে যেটি কখনও অন্য কোন সংস্থার জন্য করা হয়নি বা করার প্রয়োজন পড়ে না, সবই নিয়মতান্ত্রিকভাবে এমনিতে হয়ে যায়। গণস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সরকারের সকল বিধি উপেক্ষা করতে চেয়েছে যা এরকম একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর উদ্ভাবন বিশ্বের এক স্পর্শকাতর সময়ে অসম্ভব। দেশে যে কোন উদ্ভাবনের জন্য বিএমআরসি-এর পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক। অঅনুমোদিত একটি পরীক্ষা কিট সরকারের মন্ত্রী/ সরকারের একটি দায়িত্বশীল অফিস গ্রহণ করবে- এটি একেবারেই আইন বহির্ভূত। সেরোলজি পরীক্ষা বাংলাদেশে একটি সাধারণ পরীক্ষা- অন্য রোগের জন্য অহরহ হয়ে থাকে। মানসম্পন্ন রি-এজেন্ট থাকলে সিআরওতে গণস্বাস্থ্যের পরীক্ষা বাতিল হওয়ার কোন কারণ নেই। ইতোমধ্যে এ ধরনের কিটে গোটা বিশ্ব সয়লাব হয়ে গেছে। অনেকে বাংলাদেশে আরও সস্তা দামে নিয়ে এসেছে। কিন্তু সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থার অনুমতি ব্যতিরেকে এটির ব্যবহার হবে আত্মঘাতী।

যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ অত্যন্ত শক্তিশালী সংস্থা যে কারণে আমেরিকাবাসী সকল খাবার এবং ওষুধ নিশ্চিন্তে খেতে পারে। সংস্থাটি র‌্যাপিড এন্টিবডি টেস্ট সম্পর্কে বলেছে, এ পরীক্ষাটি আমাদের করোনার বিরুদ্ধে আগামী পদক্ষেপে ভাল নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করবে যেমন- ১. রোগের প্রাদুর্ভাব এবং উপসর্গবিহীন রোগীর সরবরাহ করবে ২. ‘কনভালেসেন্ট প্লাজমা’ ডোনার শনাক্ত করতে সহায়তা করবে যার মাধ্যমে মরণাপন্ন কোভিড রোগীর শরীরে এন্টিবডি সঞ্চালন করা যেতে পারে।

এফডিএ সেরোলজি (এন্টিবডি) পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় না করে সংক্রমিত রোগীর তথ্য সংগ্রহ করার কাজে ব্যবহার করবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্কতা দিয়েছে যে, এন্টিবডি পরীক্ষা করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ক্ষমতা দেখায় এমন কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং দ্বিতীয়বার সংক্রমিত হবে না এমন নিশ্চয়তা প্রমাণ করে না। বিশ্ব আজ করোনাভাইরাসের আক্রমণে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলেছে। মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন জীবন-জীবিকা, অর্থনীতি। এ সময়ে আমাদের সবাইকে সকল দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে সম্মিলিতভাবে লড়াই করতে হবে- বেঁচে থাকার জন্য, আগামী সুন্দর পৃথিবীর জন্য।

লেখক : সাবেক উপাচার্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও প্যাথলজি বিশেষজ্ঞ

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code