দুর্নীতি দমনে এর প্রতিফলন ঘটুক

লেখক: Nopur
প্রকাশ: ২ years ago

Manual5 Ad Code

সম্পাদকীয়:

কাজে যোগ দিয়েই রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে ন্যায়নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন। বড় দুর্নীতিবাজদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, যারা এ কাজগুলো করেছেন, তারা যেন শেষ পর্যন্ত ছাড় না পান, সে কাজটা সঠিক ও ন্যায়পরায়ণভাবে করবে দুদক। সমাজ থেকে দুর্নীতি একেবারে নির্মূল করা সম্ভব না হলেও এ ব্যাপারে সাধ্যমতো কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন তিনি। বলেছেন, আইন মেনে ন্যায়নিষ্ঠভাবে কাজ করবে দুদক। তিনি আরও বলেছেন, দেশে যারা বড় ধরনের দুর্নীতি করেছেন, তাদের ব্যাপারে কঠোর হবে দুদক। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, এই অন্তর্বর্তী সরকারের অন্য রাজনৈতিক দলের মতো কোনো রাজনৈতিক চরিত্র নেই। রাজনৈতিক চাওয়া নেই। এ সরকারের চাওয়া হচ্ছে জনগণকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া। ফলে দুদককে রাজনৈতিক সরকারের মতো প্রভাবিত করা হবে না। কাজেই প্রভাবমুক্ত থেকে ন্যায়নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করাও সম্ভব হবে।

Manual4 Ad Code

বলা বাহুল্য, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সফল হতে হলে দুদককে যথার্থই স্বাধীন ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসাবে কাজ করতে হবে। অতীতে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এ সংস্থাটি কীভাবে কাজ করেছে, তা আমরা দেখেছি। আমরা জানি, দুদকের এক সাবেক চেয়ারম্যান নিজেই এ কমিশনকে ‘দন্তহীন বাঘ’ বলেছিলেন। বস্তুত অতীতে দুদকের কর্মকাণ্ড দেখে এ কমিশনকে কাগুজে বাঘই মনে হয়েছে। আমরা দেখেছি-হলমার্ক, ডেসটিনির মতো প্রতারণার ঘটনায় দুদকের কঠোর হুঁশিয়ারির পরপরই উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে অপরাধীরা আত্মগোপনে চলে গেছেন। আমরা দুদককে নখদন্তযুক্ত হিংস্র কিংবা নখদন্তহীন কাগুজে বাঘ-এ দুইয়ের কোনোটির রূপেই দেখতে চাই না। আমরা চাই, দুদক একটি মর্যাদাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান হিসাবে, দুর্নীতি দমনে সুষ্ঠু ভূমিকা পালনকারী প্রতিষ্ঠান হিসাবে কাজ করুক।

দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদকপ্রধান যে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন, তা আশাব্যঞ্জক। সেক্ষেত্রে দুদককে শক্তিশালী করার ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকারকেও এগিয়ে আসতে হবে। দুর্নীতি দেশের অন্যতম বড় সমস্যা। এমন সরকারি প্রতিষ্ঠান খুঁজে বের করা কঠিন, যেখানে দুর্নীতির চর্চা হয় না। বিগত সরকারের সময়ে ব্যাংক খাতের হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির খবর জেনেছে দেশবাসী। প্রকল্পের কেনাকাটাসহ বিভিন্ন খাতের দুর্নীতিও সর্বজনবিদিত। নিয়োগ-বাণিজ্যও ওপেন-সিক্রেট ছিল বলা যায়। কাজেই দুর্নীতি রোধে দুদককে পর্যাপ্ত ক্ষমতাসম্পন্ন করার বিকল্প নেই।

Manual2 Ad Code

প্রশ্ন হচ্ছে, সংস্থাটির অভ্যন্তরে যারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের কেউ কি এখনো বহাল তবিয়তে নিজ জায়গায় রয়েছেন? যদি বহাল থাকেন, তাহলে দুর্নীতি দমনে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাটিকে সেদিকেও গুরুত্বের সঙ্গে নজর দিতে হবে। কারণ সরষের ভূত দূর করতে না পারলে দুদকের কাজে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে না। এক্ষেত্রে দুদকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়ে গভীর অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে।

Manual3 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code