যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের ফি বাড়ছে ৮১%, এসাইলামেও লাগবে ফি

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual6 Ad Code

নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকেই এসাইলাম আবেদন করতেও ৫০ ডলার ফি লাগবে। এটি একদমই নতুন। এরপর ওয়ার্ক পারমিট/গ্রীণকার্ডের আবেদনের ফিও বাড়ানো হলো। একইভাবে সিটিজেনশিপ আবেদনের ফি বাড়লো ৮১%।

Manual8 Ad Code

ইউএস সিটিজেনশিপ এ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস অভিবাসন প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান ফি বৃদ্ধির এই তথ্য ফেডারেল রেজিস্টোরে প্রকাশ করেছে গত ৩১ জুলাই। তা কার্যকর হবে ২ অক্টোবর। একইবিধিতে গরিব মানুষের জন্যেও যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা (ইমিগ্র্যান্ট/নন-ইমিগ্র্যান্ট) কঠিন করার কথা বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এসাইলাম আবেদনের জন্যে আগে কোন ফি লাগতো না। মানবিক কারণে এই ব্যবস্থা চালু ছিল। অষ্ট্রেলিয়া, ফিজি এবং ইরান-এই ৩টি দেশ এসাইলাম আবেদনের ফি নেয়। সিটিজেনশিপ আবেদনের ফি ৬৪০ ডলার থেকে বাড়িয়ে (অনলাইনে )১১৬০ ডলার করা হয়েছে। তবে যারা ডাকযোগে পাঠাবেন তার ফি লাগবে ১১৭০ ডলার।

ওয়ার্ক পারমিটের জন্যে (ফরম-আই-৭৬৫) ফি লাগবে ৫৫০ ডলার অর্থাৎ বর্তমানের চেয়ে ৩৪% বেশী। বিয়ের সূত্রে স্ট্যটাস এডজাস্টমেন্টের আবেদন (ফরম-আই৭৫১) ফি ৫৯৫ ডলার থেকে ২৮% বেড়ে ৭৬০ ডলার করা হয়েছে। আই-১৩১ এ (ট্র্যাভেল ডক্যুমেন্ট) এর ফি ৭৬% বাড়িয়ে ৫৭৫ ডলার থেকে ১১১০ ডলার, আই-৮৮১ (সাসপেনশন অব ডিপোর্টেশন) এর ফি ৫৩৫% বাড়িয়ে ২৮৫ ডলার থেকে ১৮১০ ডলার করা হয়েছে।

Manual5 Ad Code

আই-৫৩৯(নন-ইমিগ্র্যন্ট স্ট্যাটাস পরিবর্তন) এর ফি ৮% বাড়িয়ে ৩৭০ ডলার থেকে ৪০০ ডলার, আই-৯২৯ ‘র ফি ৫৪৬% বাড়িয়ে ২৩০ ডলার থেকে ১৪৮৫ ডলার, এন-৪৭০’র ফি ৩৪৬% বাড়িয়ে ৩৫৫ ডলার থেকে ১৫৮৫ ডলার করা হয়েছে।

Manual2 Ad Code

ইউএসসিআইএস অফিস পরিচালনার ঘাটতি পুষিয়ে নিতে এই বৃদ্ধির বিকল্প নেই বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের উপ-পরিচালক (পলিসি) যোসেফ এডলো এক বিবৃতিতে বলেছেন, অভিবাসনের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় বার্ষিক বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে এক বিলিয়ন ডলারের মত। এটি পূরণে বিভিন্ন সার্ভিসের ফি বাড়ানো হলো। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আরও অনেক ফেডারেল সংস্থা পরিচালিত হচ্ছে সার্ভিসের বিনিময়ে ফি আদায়ের মাধ্যমে। সততা, নিষ্ঠা এবং দ্রুত গতিতে অভিবাসনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে বাজেট ঘাটতি পূরণে এসব পদক্ষেপ নেয়া হলো।

স্মরণ করা যেতে পারে, করোনা মহামারির পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ মার্চ থেকেই অভিবাসনের সকল কাজ স্থগিত রয়েছে। গ্রীণকার্ড ইস্যুসহ ভিসা ইস্যুর কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আয় কমেছে। এ অবস্থায় কংগ্রেসের কাছে ১.২ বিলিয়ন ডলার চাওয়া হয়েছে এই সংস্থাকে সচল রাখতে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন সাড়া মেলেনি কংগ্রেস থেকে। এছাড়াও ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পারিবারিক কোটা, নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যুর ওপর স্থগিতাদেশ রয়েছে। অপরদিকে, ৪ জুন থেকে অভিবাসন দফতরও সীমিত আকারে খোলা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে খুব কমসংখ্যক মানুষকে এপয়েন্টমেন্ট দেয়া হচ্ছে।

ফি বৃদ্ধির এই পরিকল্পনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থার লোকজন। বিদ্যমান ব্যবস্থায় গরিবরা সিটিজেনশিপের আবেদন করতে পারেন বিনা ফি-তে। প্রস্তাবিত বিধিতে সে সুযোগ থাকবে না বলে উল্লেখ করেছেন বাউন্ডলেস ইমিগ্রেশন’র সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডোগ র‌্যান্ড। ‘ন্যাশনাল পার্টনারশিপ ফর নিউ আমেরিকান’র নির্বাহী পরিচালক নিকোল মেলাকো বলেন, রিফ্যুজি হিসেবে কপর্দকহীনভাবে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থীদের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণের সামিল হবে এই বিধি বলবৎ করা হলে।

Manual6 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code