নওগাঁ-৬ উপ-নির্বাচনে আওয়ামীলীগে ডজন প্রার্থী

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual7 Ad Code

তমাল ভৌমিক, নওগাঁ :
নওগাঁ-৬ রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলা নিয়ে গঠিত আসন। এ আসনে উপ-নির্বাচনকে সামনে রেখে ৫১, নওগাঁ-৬ আসনের আওয়ামী লীগের এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশী ডর্জনেরও বেশি নাম শোনা যাচ্ছে। আর অপরদিকে কেন্দ্র নির্দেশনার দিকে তাকিয়ে সাড়া পাবার অপেক্ষায় রয়েছেনে বিএনপি। এছাড়া জাতীয় পার্টিরও মনোনয়ন প্রত্যাশীরও নাম শোনা যাচ্ছে। তবে কে পাচ্ছেন নৌকা প্রতীক তা নিয়ে দ্বিদ্ধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। গত ২৭ জুলাই এ আসনের এমপি ইসরাফিল আলম মারা যাওয়ায় আসনটি শুন্য হয়।
ইতি মধ্যেই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মাঠে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। এলাকার মানুষের মাঝে আলোচনার বিষয় নির্বাচন ও প্রার্থীর। এ আসনটিতে বড় দু’টি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। তবে কেন্দ্র থেকে এখনো সাড়া পাননি বিএনপি এমন তথ্য বিএনপি নেতাকর্মীর সূত্রে জানা গেছে। দুটি উপজেলার ১৬ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নওগাঁ-৬ আসনে মোট ভোটার প্রায় ৩ লাখ ১৬ হাজার ৮ শ ৮৬ জন।
বিএনপির ঘাঁটি বলে পরিচিত এ আসন ২০০৮ সালে ভোট যুদ্ধে দখলে নেয় আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ সরকার আমলের উন্নয়ন দাবি করে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায় আওয়ামী লীগ। এক সময়ের আলোচিত বাংলা ভাইয়ের সন্ত্রাস্ত্রী কর্মকান্ড ও সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আলমগীর করিব সাংসদ থাকাকালীন রক্তাত্ত জনপদ বলে পরিচিত এই রাণীনগর ও আত্রাই দুই উপজেলা।
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতিমধ্যে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের পোস্টার ব্যানার লাগিয়ে ও বিভিন্ন কর্মীসভার আয়োজনের মাধ্যমে নেতা-কর্মীদের সাথে কুশল মত বিনিময় করেছেন। নির্বাচনী মাঠ দখল এবং মনোনয়ন নিশ্চিত করতে এলাকায় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দৌড়ঝাঁপ করছেন।
জানা গেছে, ১৯৯১ ও ৯৬ সালে বিএনপি থেকে মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে বিজয়ী হন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবীর। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাবেক সাংসদ মুক্তিযোদ্ধা ওহিদুর রহমান। ২০০১ সালে পুনরায় আলমগীর কবীর বিজয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন প্রয়াত ইসরাফিল আলম এমপি। ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শেষের দিকে আলমগীর কবির এলডিপিতে যোগ দেন। একই বছরে এলডিপি থেকে পদত্যাগ করেন।
২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন ইসরাফিল আলম। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবীরের ছোট ভাই বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বুলু। এরপর ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবীরকে পরাজিত করে আবারো বিজয়ী হন ইসরাফিল আলম। দীর্ঘ দিন বিএনপির অধীনে নওগাঁ-৬ আসন থাকলেও ২০০৮ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে।
বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবীর শাসন আমলে এ দুই উপজেলা সর্বহারা ও জঙ্গী এলাকা হিসেবে সারাদেশে পরিচিত হয়। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থি ইসরাফিল আলম ক্ষমতায় আসার পর অনেকটায় নিয়ন্ত্রনে ছিল। তবে জাতীয় সংসদের উপ-নির্বাচনের সময় কোন ধরনের প্রাণহানী চাননা এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজন বলে মনে করেন সচেতনরা।
উপ-নির্বাচনকে ঘিরে নওগাঁ-৬ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে প্রয়াত এমপি ইসরাফিল আলমের সহধর্মীনি সুলতানা পারভিন বিউটি, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: নওশের আলী, নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাহীন মনোয়ারা হক, রাণীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও রাণীনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন হেলাল, কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা ওহিদুর রহমানের ছেলে নওগাঁ জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক সুমন, নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য, রাণীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র উপদেষ্টা, রাণীনগর উপজেলার বড়গাছা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ¦ আব্দুর রহমান, রাণীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আসাদুজ্জামান নূরুল, নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট পীযূষ কুমার সরকার, আত্রাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নহিদ ইসলাম বিপ্লব, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক শেখ মো: রফিকুল ইসলাম, নওগাঁ জেলা যুবলীগের সভাপতি খোদাদাদ খাঁন পিটু, সাধারণ সম্পাদক বিমান কুমার রায়, সাবেক ভিপি ও নওগাঁ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নাছিম আহমেদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আইন উপ-কমিটির সদস্য ড. মো: জাহেদুল হক জাহিদ, মেজর এসএম আব্দুল জলিল (অব:) সহ আরো অনেকের নাম শুনা যাচ্ছে।
এদিকে কেন্দ্র থেকে সাড়া না পাওয়ায় বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নাম পাওয়া যায়নি। এছাড়াও জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রাণীনগর উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি কাজী গোলাম কবির ও আত্রাই উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মো: মোফাজ্জল হোসেন এর নাম শোনা যাচ্ছে।
আসন্ন উপ-নির্বাচন নিয়ে এলাকার সাধারণ তরুণ ও নতুন ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তথ্য ও প্রযুক্তি নির্ভর সেবা পেতে তারা বিশ্বাসী। যারা দুর্নীতি, অনিয়ম, মাদক ও সকল বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে আগামী দিনের নেতৃত্ব দিবেন এলাকার উন্নয়ন করবেন ও যাকে তাড়া যোগ্য প্রার্থী হিসেবে মনে করবেন তাদেরকেই তারা ভোট দিবেন।
উল্লেখ্য, লাইফ সাপোর্টে থাকার পর অবশেষে গত ২৭ জুলাই ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নওগাঁ-৬ (রাণীনগর-আত্রাই) আসনের এমপি ইসরাফিল আলম। তিন বারের সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম। ১৯৬৬ সালে রাণীনগর উপজেলার গোনা ইউনিয়নের ঝিনা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন তিনি। ইসরাফিল আলম নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় ফেডারেশনের সভাপতি ও শ্রম মন্ত্রনালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code