চিরিরবন্দর মাল্টা চাষে সফল রাসেল

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual2 Ad Code

 

Manual2 Ad Code

মোরশেদ উল আলম, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) :
ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ রসালো ফল হলো মাল্টা। মাল্টা ফলের রয়েছে বিভিন্ন ঔষুধি গুণ। মাল্টা ফলটি মূলত পাহাড়ি অঞ্চলে চাষ হলেও বর্তমানে চিরিরবন্দরের সমতল ভূমিতে চাষ হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের সহযোগিতায় ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে বারি-১ জাতের মাল্টা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গত ৩/৪ বছর ধরে চাষ করছেন কৃষকরা। মাল্টা চাষ নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে প্রথমে কিছুটা হতাশা কাজ করলেও ফলন ভালো হওয়ায় তাদের হতাশা কেটে যায়। দূর-দূরান্ত থেকে মাল্টা বাগান ও গাছ দেখতে ছুঁটে আসছে মানুষ। এসব মাল্টা গাছ ও বাগান অনেককেই অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে মাল্টা চাষে। সরেজমিনে দেখা যায়, বাগানে দৃষ্টি নন্দন মাল্টা ধরেছে। গাছে গাছে সবুজ পাতার আড়ালে ও ডালে ডালে ঝুলছে থোকায় থোকায় মাল্টা। বাতাসে মাল্টার টক-মিষ্টির গন্ধ।

২০১৭ সালে চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা মাল্টা চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম শুরু করেন। দ্বিতীয় শস্য বহুমুখী প্রকল্পের আওতায় কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে বারি-১ জাতের মাল্টা গাছ সরবরাহ করা হয়। উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়নের উত্তর নশরতপুর গ্রামের কৃষক আহসান হাবিব ওরফে রাসেল মাল্টার বাগান করে সফলতাও পেয়েছেন। তিনি ৩৩ শতক জমিতে মাল্টা চাষ করেছেন। এতে ৭০টি গাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছে এখন ঝুলছে মাল্টা। ক’দিন পরেই মাল্টা বাজারজাত করা হবে। প্রতি বাগান থেকে ১৫-২০ কেজি মাল্টা পাওয়া যায়। যা স্থানীয় বাজারে প্রতিকেজি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি আরো জানান, আমি আশা করছি এবছর অন্তত ৫০-৮০ হাজার টাকার মাল্টা বিক্রি হবে। তার সাফল্য দেখে অনেকেই মাল্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। তার দেখানো পথ ধরে মাল্টা চাষ করেছেন একই গ্রামের ফিরোজ আহম্মেদ। তিনি ২৫ শতক জমিতে মাল্টা চাষ করেছেন। তার গাছেও ফল ধরেছে। উপজেলার ঈসবপুর ইউনিয়নের ব্যাঙ্গের কাদো গ্রামের মো. মাজেদুল ইসলাম এবং ফতেজংপুর ইউনিয়নে মো. আব্দুল জলিল মাল্টা চাষ করছেন।

Manual7 Ad Code

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মাল্টা বারি-১ একটি উচ্চ ফলনশীল সুস্বাদু ফল। সাধারণত জুন-জুলাই মাসে চারা রোপণ করতে হয়। মাল্টা গাছ রোপণের ২ বছরের মধ্যে ফল পাওয়া যায়। মাল্টা গাছে সাধারণত ফেব্রæয়ারি মাসে ফল ধরে এবং এটি পরিপক্ক হয়ে কমলা রঙ ধারণ করে সেপ্টেম্ব^র মাসের দিকে। ফুল আসা থেকে শুরু করে ফল পাকতে সময় লাগে অন্তত ৬ মাস। প্রথম মৌসুমে ফলন একটু কম হয়। প্রতিটি গাছ থেকে বছরে গড়ে ৩০০-৪০০ মাল্টা পাওয়া যায়। উপজেলায় ৪টি মাল্টার প্রদর্শনী প্লট এবং কৃষকরা নিজেরাই উদ্বুদ্ধ হয়ে আরো ৪জন কৃষক মাল্টার প্লট তৈরি করে মাল্টা চাষ করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, মাল্টা একটি অর্থকরী ফসল। এটি ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ সুস্বাদু ফল। এটি চাষে এলাকার পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি চাষিরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। মাল্টা চাষে আগ্রহীদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা দেয়া হবে।

Manual4 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code