রাধিকা আপ্তে ব্রিটিশ গুপ্তচর

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual6 Ad Code

নিউজ ডেস্ক, নিউইয়র্ক: সম্প্রতি হলিউডে মুক্তি পেয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সিনেমা ‘আ কল টু স্পাই’। এতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাধিকা আপ্তে। হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের নতুন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তিনি।‘আ কল টু স্পাই’ ছবিতে রাধিকা অভিনয় করেছেন ব্রিটিশ গুপ্তচর ‘নুর ইনায়াত খানের’ ভূমিকায়। এতে দেখা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিলের নির্দেশে জার্মানির গোপন তথ্য সংগ্রহে অভিযানে নামেন তিন নারী গুপ্তচর। তাদের একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ গুপ্তচর ইনায়াত। গুপ্তচরের ভূমিকায় রাধিকা আপ্তের সঙ্গে অভিনয় করেছেন ভার্জিনিয়া হল চরিত্রে সারাহ মেগান থমাস আর ভেগা অ্যাটকিন্স চরিত্রে স্টেনা ক্যাটিক। গল্পের একপর্যায়ে জার্মান অধিকৃত ফ্রান্সে নাৎসি বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন ইনায়াত। পরে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।সিনেমাতে রাধিকা আপ্তে একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক, যার বেড়ে ওঠা ফ্রান্সে। তাই ফ্রান্সই তার জন্মভূমি। চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে যথেষ্ট কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে তাকে। তিনি বলেন, ‘ব্রিটিশ ইংরেজির উচ্চারণ নিয়ে চিন্তা না করে, আমি ইনায়াতের চরিত্রের মানবিক দিকটি ফুটিয়ে তোলারই চেষ্টা করেছি। তাই চরিত্রটি নিয়ে আমাকে অনেক পড়াশোনা করতে হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সহশিল্পীরাও আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন। নিজেদের ভূমিকা নিয়েও অনেক আলোচনা করেছি।’ সিনেমায় অভিনয়ের সময় পরিচালকের সঙ্গে আলোচনা আর গল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তর পড়াশোনা করেছেন রাধিকা। ইতিহাসের পাশাপাশি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নারীর ভূমিকা নিয়েও অনেক কিছু জেনেছেন তিনি। হলিউড চলচ্চিত্রের নির্মাণশৈলীর সঙ্গে এর চিত্রনাট্য নিয়েও স্পষ্ট ধারণা পেয়েছেন।রাধিকা মনে করছেন, তিনটি প্রধান নারী চরিত্রের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা গল্প যেকোন ভারতীয় শিল্পীর জন্যেই নতুন অভিজ্ঞতা। এতে ইতিহাসে নারীর অবদান যেমন ফুটে উঠেছে তেমনি চিত্রায়িত হয়েছে যুদ্ধের ভয়াবহতা। তবে বলিউডের চাইতে হলিউডের সিনেমার কিছু মৌলিক পার্থক্য লক্ষ্য করেছেন তিনি। রাধিকা মতে, সম্প্রতি গুঞ্জন সাক্সেনা আর রাজির মতো বেশ কিছু মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিতে যুদ্ধক্ষেত্রে নারীর ভূমিকা উল্লেখযোগ্যভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তবে তিনি মনে করেন, ‘ভারতীয় ছবিতে নারীর বীরত্বের চাইতে জাতীয়তাবাদের বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পায়। হলিউডের অনেক ছবিতেও এমনটা দেখা যায়, তবে যুদ্ধের ছবিতে এর ব্যাপ্তি কম। আমাদের অঞ্চলে জাতীয়তাবাদ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু, কিন্তু যুদ্ধের ছবিতে সেটার আধিক্য মানায় না। যুদ্ধের বাস্তবতা তুলে ধরার জন্য চরিত্র গঠনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া দরকার।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code