আত্রাই নদীর মাটি বিক্রি করছে ইট ভাটায়

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual6 Ad Code

গৌতম কুমার মহন্ত ঃ
এক সময়ের ভরা যৌবনা উত্তাল নওগাঁর আত্রাই নদী কালের বির্বতনে যৌবন হারিয়ে ফসলের মাঠে পরিণত হয়েছে। পানি শুন্যতার সুযোগে প্রভাবশালীরা নদী দখল করে বাড়ী ঘর নির্মাণসহ মাটি বিক্রির প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছে। গত প্রায় দুই যুগেরও অধিক সময় ধরে শুষ্ক মৌসুমে তাপদাহে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নীচে নেমে যাওয়াসহ পার ধসে আত্রাই নদী তার ভরা যৌবন হারিয়ে কোথাও ফসলের মাঠ, আবার কোথাও খেলার মাঠে পরিণত হয়েছে। ভৌগোলিক দিক থেকে আত্রাই নদী বাংলাদেশের উত্তর প্রান্ত জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে শুরু করে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ, খানসামা, চিরিরবন্দর হয়ে নদীটি আবারো ভারতের মধ্যে প্রবেশ করে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে এ নদী নওগাঁর ধামইরহাট, পতœীতলা, মহাদেবপুর, মান্দা, আত্রাই, নাটোরের সিংড়া, গুড়দাসপুর ও পাবনার ভাঙ্গুরা, ফরিদপুর বেড়া হয়ে যমুনা নদীর সাথে একীভূত হয়েছে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এ অঞ্চলের পাকিস্তানী হায়নাদের নির্যাতন থেকে বাঁচতে হাজার হাজার মানুষ নৌকা এবং বিভিন্ন জ্বলযান যোগে দেশ ছেড়ে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়ে ছিলো। এলাকাবাসীর কাছে ঐতিহাসিক ভাবে এ নদীর গুরুত্ব বহন করে আসছে যুগ যুগ ধরে। এক সময় এ নদীর পানির উত্তাল ঢেউয়ের তালে দুলতে দুলতে পাল তোলা ছোট বড় নৌকা ও লঞ্চ এবং স্টিমার যোগে দেশের বিভিন্ন স্থানের ব্যবসায়ীরা মহাজনের ঘর থেকে মালামাল পরিবহনের পাশাপাশি লোকজন যাতায়াত করতো সার বছর। কালের বিবর্তনে সেই আত্রাই নদীর অনেক স্থানেই পানি শুন্য হয়ে পড়েছে। ফলে এ নদীর বুকে সেই পাল তোলা নৌকাসহ সকল প্রকার জলযান চলাচলের গল্প নতুন প্রজন্মের কাছে অনেক টায় কল্প কাহিনীর মতো। এছাড়াও নদী তীরবর্তী হাজার হাজার কৃষক সনাতনী পদ্ধতিতে ডাঁপ ও সেতুনীর মাধ্যমে ফসলের জমিতে সেচে দিতো এ নদী থেকে। পানি শুন্যতার ফলে নদী তীরবর্তী এলাকার প্রান্তিক কৃষকরা রবি শষ্য এবং সবজি চাষে আগ্রহ হারিয়েছে। বর্তমানে এ নদীর বুকে অধিকাংশ স্থানেই ফসলের মাঠে পরিনত হয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নামার সাথে সাথে এ নদীর পানি শূন্যতার সুযোগে এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নদী দখল করে বাড়ী ঘর এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণসহ নদীর পাড় কেটে মাটি বিক্রির প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code