

নিউজ ডেস্কঃ করোনাভাইরাসের বিপজ্জনক একটি ধরন ইউরোপের কিছু অঞ্চলে ব্যাপক আকারে ছড়িয়েছে। নতুন এ ধরন মারাত্মক। ইউরোপের পাশাপাশি এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একজন বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই আগামী কয়েক মাস সতর্ক থাকতে হবে।
মার্কিন সংবাদমের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনাভাইরাসের নতুন ধরনটি (বি.১.১.৭) প্রথম যুক্তরাজ্যে শনাক্ত হয়। এটি এই ভাইরাসের অন্য ধরনগুলোর চেয়ে আরও বেশি সংক্রামক। এটি আরও বেশি মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে এবং দ্রুত তরুণ জনগোষ্ঠীকে সংক্রমিত করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের মহামারি বিশেষজ্ঞ মাইকেল অস্টারহোম গত মঙ্গলবার বলেন, নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, করোনাভাইরাসের নতুন ধরনটি আরও বেশি মারাত্মক। এটি আরও বেশি প্রাণঘাতী বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
অস্টারহোম বলেন, ‘আমরা যদি আর কিছুদিন সতর্ক থাকি, গ্রীষ্মের আগে যথেষ্টসংখ্যক মানুষকে টিকা দিতে পারি, তাহলে এই ধরনটি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।’
এদিকে করোনাভাইরাসের নতুন ধরনটি নিয়ে আশঙ্কার মধ্যেই টিকা নিয়ে নতুন খবর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ফাইজার ও জার্মানির জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বায়োএনটেক। তারা দাবি করেছে, কিশোর বয়সীদের সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের করোনার টিকা শতভাগ কার্যকর। মানবদেহে পরীক্ষায় ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে এই তথ্যের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
ফাইজার ও বায়োএনটেক বলছে, তারা টিকার নতুন এই তথ্য শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের কাছে জমা দিয়ে জরুরি ব্যবহারের জন্য অনুমোদন চাইবে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ১৬ বছরের কম বয়সীদের করোনার টিকা দেওয়ার অনুমোদন নেই।
বি.১.১.৭ নামের করোনার নতুন ধরনটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ফ্রান্সের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ গত মাসে সতর্ক করে বলেছিল, করোনার নতুন ধরনটি সেখানে দ্রুত ছড়াচ্ছে। দেশটিতে ৫ হাজারের বেশি কোভিড-১৯ রোগী হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি আছে। গত বছরের এপ্রিলের পর এটাই সেখানে আইসিইউতে ভর্তি হওয়ার রোগীর সর্বোচ্চ সংখ্যা।
এদিকে তুরস্কের কর্মকর্তারা বলেছেন, সেখানে মহামারি শুরুর পর থেকে এখন করোনা শনাক্ত হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ঘটেছে করোনাভাইরাসের নতুন রূপটির কারণে।
কানাডাতেও করোনার নতুন ধরনটির সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। সেখানে হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যা বাড়ছে। দেশটিতে এখন তরুণদের মধ্যেও সংক্রমণ বাড়ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রও একই পথে যেতে পারে। কারণ, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১৬ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ টিকা পেয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন।