অশ্লীলতার অভিযোগ তুলে কাশবনে আগুন দিয়েছে স্থানীয়রা

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual3 Ad Code
নিউজ ডেস্কঃ

অশ্লীলতার অভিযোগ তুলে সিলেটের গোলাপগঞ্জে চৌঘরী এলাকার একটি কাশবনে আগুন দিয়েছে স্থানীয়রা।

Manual8 Ad Code

গতকাল শুক্রবার (১ অক্টোবর) শুক্রবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসীর দাবি, কাশবনে অশ্লীল কর্মকাণ্ড হয়। এসব কর্মকাণ্ড এড়াতে কাশবনে আগুন দেওয়া হয়েছে।

কাশবনটি সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের পাশে অবস্থিত। চৌঘরী এলাকার এক বাসিন্দা ব্যক্তিগতভাবে বালু উত্তোলন করে জমিয়ে রেখেছিলেন। বেশ কিছু দিন ধরে ওই এলাকায় জমিয়ে রাখা বালুতে প্রাকৃতিকভাবেই কাশবনটি বেড়ে ওঠে। শরৎকালে কাশফুল দেখতে অনেকেই এখানে বেড়াতে আসে। সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকে।

সালমান কাদের নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, কাশবনটির সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে গেলে সেখানে আগুল জ্বলতে দেখা যায়। পরে দর্শনার্থীসহ কয়েকজন স্থানীয় মিলে আগুন নেভায়। এরপর আরেকবার কাশবনে আগুন দিয়ে পুরো বনটি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।

দর্শনার্থী রাসেল আহমদ জানান, কাশবন এলাকায় প্রচুর দর্শনার্থী আসে। কেউ অশ্লীলতা করলে সেজন‌্য কাশবন পুড়িয়ে দেওয়া কোনো যুক্তি সম্মত কাজ নয়। প্রথমবার দর্শনার্থীদের চেষ্টায় কাশবনের আগুন নেভানো সম্ভব হলেও দ্বিতীয় দফা আগুনে পুরো বাগানটি ছাই হয়ে গেছে।

Manual1 Ad Code

জানা গেছে, কাশবন এলাকায় দর্শনার্থী বাড়ছিল। ছোট-খাটো বিষয় নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে দর্শনার্থীদের কথা–কাটাকাটির ঘটছিল। গতকালও স্থানীয়দের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দর্শনার্থীদের কথা–কাটাকাটি হয়। এদিকে কাশবনটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোনো কর্তৃপক্ষ ছিল না। এসব কারণে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার কয়েকজন দাবি করেন, কাশবনে দিন দিন দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ছিল। কাশবন দেখার নাম করে অনেকেই এলাকায় অশ্লীল–অসামাজিক কর্মকাণ্ড শুরু করে। যেকোনো সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। এজন্য সব দিক বিবেচনা করে কাশবনে আগুন দেওয়া হয়।

Manual6 Ad Code

গোলাপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য ফারুক আহমদ বলেন, ‘আগুন কে বা কারা দিয়েছে তা জানা যায়নি।’

Manual3 Ad Code

সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান কাশিমি বলেন, ‘শুনেছি কাশবন দেখতে মানুষ ভিড় করত। হঠাৎই সেটিতে আগুন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আর কিছু জানা নেই।’

গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. গোলাম কবির বলেন, ‘কাশবনটি কোনো সরকারি সম্পত্তি ছিল না। কারো ব‌্যক্তিগত স্থানে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হয়েছিল। কাশবনটি পুড়ে যাওয়ার খবর পেয়েছি। গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে খোঁজ নিতে বলেছি।’

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code