সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ সালাদীনের

লেখক:
প্রকাশ: ৮ years ago

Manual3 Ad Code

সুনামগঞ্জ পৌরসভা উপ-নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসন রাজার প্রপৌত্র দেওয়ান গণিউল সালাদীন সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, ‘ আগামী ২৯ মার্চের পৌরসভা উপনির্বাচনে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শহরবাসীর মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভোটারদের মন থেকে এই শঙ্কা দূর করার দায়িত্ব প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। এই চাওয়াটা সব ভোটারের। সব ভোটারের চাওয়া পূর্ণ করতে প্রশাসন সর্বাত্মক সহায়তা করলে আমি এবং শান্তিপূর্ণ এই শহরবাসী তাদের অভিনন্দিত করবেন।’ তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ় কণ্ঠে বলছি, ভোটের দিন কোনো মহল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইলে, সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। এ জবাব কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়, জবাব দিতে প্রস্তুত সাধারণ ভোটারেরা, তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগের স্বার্থে। কোনো অন্যায় মেনে নেওয়া হবে না, আগের বারের পুনরাবৃত্তি ঘটতে দেওয়া হবে না, এবার কেন্দ্রে কোনো মস্তানি চলবে না।’
সোমবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় তেঘরিয়ার হাসন রাজা মিউজিয়াম চত্বরে সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গণিউল সালাদীন বলেন, ‘আমার পরিবার সুনামগঞ্জের মাটি ও মানুষের সঙ্গে একাকার হয়ে আছে সেই ব্রিটিশ আমল থেকে। প্রপিতামহ মরমি কবি দেওয়ান হাসন রাজার উত্তরাধিকার বহন করছি আমরা। আমার বাবা দেওয়ান আনোয়ার রাজা চৌধুরী ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। তিনি সুনামগঞ্জের উন্নয়নে, সুনামগঞ্জের মানুষের কল্যাণে আমৃত্যু সেবা করেছেন।’
তিনি বলেন,‘আমার বড় ভাই দেওয়ান শামসুল আবেদীন সংসদ সদস্য ছিলেন। আমার আরেক ভাই দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন এক সময় সুনামগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন। এরপর টানা চারবার সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। একইভাবে আমার আরেক ভাই দেওয়ান মমিনুল মউজদীন একজন কবি ও জনপ্রতিনিধি ছিলেন। ছোট্ট এই শহরে তাঁর টানা তিনবারের জনপ্রতিনিধিত্ব দেশজুড়ে অন্য রকম এক পরিচিতি এনে দিয়েছিল। এই শহরের সব বয়সী মানুষের অতি আপন ছিলেন তিনি। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী ও শিশুপুত্রসহ অকালে আমাদের ছেড়ে চলে যান। ’
দেওয়ান গণিউল সালাদীন বলেন,‘গণমাধ্যম কর্মীরাই বড় সাক্ষী, জীবনের প্রথম নির্বাচনে আমি আমার ভাইয়ের স্বপ্ন পূরণে ভোটারদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছিলাম। পৌরসভার সম্মানিত ভোটারগণ আমাকে ভোট দিয়েছেন। নির্বাচনের ফলাফল হয়েছে উল্টো। যেহেতু ভোটাররা আমাকে ভোট দিয়েছেন, তাই হাল ছাড়িনি। আমি এবারও সেই একই নির্বাচনী প্রতীক মোবাইলফোন মার্কা নিয়ে উপনির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছি। এই উপনির্বাচনে বিজয়ী আড়াই বছরের জন্য প্রতিনিধিত্ব করবেন। আমি সাধারণ ভোটারদেরকে অনুরোধ করেছি, মাত্র আড়াই বছরের পরীক্ষা দেওয়ার জন্য আমাকে সুযোগ দিন। এতেই আমার পক্ষে স্পষ্টত একটি জনমত তৈরি হয়েছে। সেই জনমত ২৯ মার্চ ভোটের মাধ্যমে প্রকাশ পাবে।’
তিনি বলেন,‘গণমাধ্যম কর্মীরা জাতির বিবেক, সমাজের দর্পন। যে কোনো ঘটনার পর্যবেক্ষকও তাঁরা। ভোটারদের পবিত্র আমানত ভোট নির্বিঘেœ, কোনো বাধা ছাড়াই প্রয়োগ হয় কি না, সেই বাস্তবতা নির্মোহভাবে শুধু গণমাধ্যমকর্মীরাই পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। এই বিশ্বাস নিয়ে আজ আপনাদের সম্মুখে এসেছি। উপনির্বাচন উপলক্ষে প্রায় এক মাস মাঠে তৎপর ছিলাম। গত কয়েকদিন থেকে আমার প্রচারনায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। অন্য প্রার্থীগণ নির্বিঘেœ যে সকল স্থানে সভা করেছেন, নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী যে সময়ে প্রচারণা চালাতে পারছেন, সেখানে আমার বেলায় বাধা আসছে। এখানে সবার জন্য সমান সুযোগ প্রতিফলিত হচ্ছে না। আমার কর্মী সমর্থকদের নানাভাবে হয়রানিসহ হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে শহরবাসীর মাঝে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে একটা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভোটারদের মন থেকে এই শঙ্কা দুর করার দায়িত্ব প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর।’
লিখিত বক্তব্যে গণিউল সালাদীন বলেন,‘সুন্দর ভোট হলে এর ইতিবাচক প্রভাব গিয়ে পড়বে জাতীয় নির্বাচনে। তখন এই সরকারের অধীনে যে দলীয় প্রভাবমুক্ত নির্বাচন উপহার সম্ভব হয়, তা-ও দেশবাসী দেখতে পাবেন।’
তিনি বলেন,‘আমার পক্ষে নির্বাচনী কর্মীরা কোনো দলের পরিচয়ে পরিচিত নন। তবে দল হিসেব করলে আমার পক্ষের শুভানুধ্যায়ী, সমর্থক ও কর্মী সব দলের নেতাকর্মী রয়েছেন। সুতরাং, আমার পক্ষের কর্মীদের হুমকি-ধামকি প্রকারান্তরে সব দলের ভেতর হুমকির সংস্কৃতি প্রবেশ করিয়ে দেওয়ার শামিল। যার পরিনামে পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটতে পারে। এমনটি হলে সেই দায় এড়ানো তখন কঠিন হবে।’
তিনি বলেন,‘আমি বিপুল সংখ্যক মানুষের চাওয়ার প্রতিফলন যাতে ঘটে, এ জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সুদৃষ্টি চাই। আমার আহবান সমন্বিত মানুষের আহবান।’ তিনি বলেন,‘আমার বিশ্বাস এই শান্তির শহরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর নির্বাচন উপহার দেবেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।’
গণিউল সালাদীন বলেন, ‘প্রশাসনের প্রতি আমি আস্থাশীল। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের প্রতিও আমার একই আস্থা। এজন্য আমরা আপনাদের সব সময় সহযোগিতা করতেও প্রস্তুত।’
গণমাধ্যমের মাধ্যমে সুনামগঞ্জ পৌরসভার সম্মানিত ভোটারদের উদ্দেশ্যে গণিউল সালাদীন বলেন,‘আপনারা দলমত নির্বিশেষে ২৯ মার্চ সবাই ভোট কেন্দ্রে যাবেন। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন। সব প্রার্থীকে আপনারা চেনেন। কার কী যোগ্যতা এবং প্রত্যেকের আচার-আচরণ, শিক্ষা-দীক্ষা সস্পর্কে জানেন। তাই আপনারাই সিদ্ধান্ত নেবেন সুনামগঞ্জের শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের স্বার্থে কাকে ভোট দেবেন। কোন প্রার্থী আপনাদের ভোটের মর্যাদা রক্ষা করতে পারবেন। কে সুনামগঞ্জের সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধিতে কাজ করতে পারবেন। কাকে আপনারা সব সময় পাশে পাবেন। এই বিচারের ভার পুরোপুরি ভোটারদের ওপর।’
গণিউল সালাদীন বলেন, ‘মরহুম দেওয়ান মমিনুল মউজদীন যেমন বখাটেপনা, মাদক, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, আমি সেই গণঐক্য রচনা করবো। তরুণদের শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি চর্চার উদ্যোগ নেব। নারীদের উন্নয়ন ও মর্যাদা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখব। আমি ওয়াদা করছি, আমি বিজয়ী হলে আমার পরিবারের পুর্বসূরিরা যেভাবে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন, আমি যতদিন বেঁচে থাকবো সেইভাবে কাজ করব। সুনামগঞ্জের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকবো।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code