গত কয়েক বছরে ঘুমিয়ে থাকতে থাকতে ক্লান্ত সৌম্যর ব্যাট। রান আসে বটে, তবে সেটা কালেভদ্রে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের টেস্ট, ওয়ানডে দল থেকে ছিটকে পড়েছেন তিনি। এবার টি-২০ তেও এ বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের ভবিষ্যৎ নিকষ কালো অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি বিশ্বকাপে ব্যর্থ হওয়ার পর সৌম্যর শেষটাও দেখা হয়ে গেছে বিসিবির। বিশ্বকাপ পরবর্তী আলোচনায় গুঞ্জন, ২৮ বছর বয়সী এ তরুণকে আর কখনোই নাকি টি-২০ তে বিবেচনা করা হবে না! চিরতরে এ ফরম্যাটের দরজা বন্ধ হচ্ছে তার জন্য।
অথচ সৌম্যকে রানে ফেরাতে, দলে ধরে রাখতে প্রাণান্ত চেষ্টা করেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। ম্যাচের পর ম্যাচ, সিরিজের পর সিরিজ ব্যর্থ হলেও তাকে দলে রাখা হয়েছে। ওপেনিংয়ে ব্যর্থতার হওয়ার পর মিডল অর্ডারে পাঠানো হয়েছে। পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবেও খেলানো হয়েছে। তিন নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ পজিশনেও তাকে সুযোগ দেয়া হয়েছে। সব চেষ্টাই বিফলে গেছে তার ধারাবাহিক ব্যর্থতায়।
সামর্থ্য, অভিজ্ঞতার কারণেই সৌম্যকে বয়ে বেড়ায় জাতীয় দল। যদিও তার সক্ষমতার বিচ্ছুরণ আর ২২ গজে দেখা যায় না। বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো করায় সৌম্যকে প্রথম রাউন্ডের প্রথম ম্যাচেই একাদশে রাখা হয় নাঈম শেখকে বসিয়ে। কিন্তু স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৫ রান করেই ফিরেছেন তিনি। তুমুল সমালোচনার মুখে একাদশ থেকে বাদ পড়েন তিনি।
পরে মূল পর্বে উইন্ডিজদের বিপক্ষে সুযোগ পান সৌম্য। মিডল অর্ডারে নেমে ভালো শুরু পেয়েছিলেন। কিন্তু ইনিংস বড় করতে পারেননি। ১৭ রান করেই আউট হয়েছেন। সাকিব না থাকায় পরের দুই ম্যাচেও সুযোগ পান এ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে রানের খাতাই খুলতে পারেননি। শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৫ রান করে প্লেইড অন হয়ে বোল্ড হন সৌম্য। সর্বসাকুল্যে বিশ্বকাপে ৪ ম্যাচে করেন ২৭ রান। সবমিলিয়ে তার পারফরম্যান্সে যারপরনাই হতাশ টিম ম্যানেজমেন্ট।
প্রায় সাত বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলছেন সৌম্য। ৬৬ ম্যাচে ১ হাজার ১৩৬ রান করেছেন। ব্যাটিং গড় ১৮ দশমিক ০৩, হাফ সেঞ্চুরি ৫টি। এই পরিসংখ্যানই বলে দেয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পায়ের তলায় জমিন খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি।
নিকট ভবিষ্যতে জাতীয় দলে ফেরাটা সৌম্যর জন্য কঠিন কর্মই হবে। ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যাট হাতে ঈর্ষণীয় ধারাবাহিকতা হয়তো তার জন্য বন্ধ হওয়া দরজার কপাট খুলে দিতে পারে। তবে জাতীয় দলে ব্যাটিংয়ে যতটা হতাশা, অবিশ্বাস তিনি সবার মনে ঢুকিয়ে দিয়েছেন, তাতে রান করলেও সকলের আস্থা অর্জন কষ্টকর হবে।
