ছাতকে নির্বাচনি সহিংসতায় আহত অর্ধশতাধিক, দুই ইউপি সদস্যসহ আটক ২২

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual1 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ সদ্য সমাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঘটা সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় সুনামগঞ্জের ছাতকের খুরমা উত্তর ইউনিয়নের আমেরতল গ্রাম। আজ সোমবার (১৫ নভেম্বর) সকালে ঘণ্টাব্যাপী চলা এ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উভয়পক্ষের নারী-পুরুষসহ অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। সংঘর্ষের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ছাতক থানার (ভারপ্রাপ্ত ওসি) মিজানুর রহমান।

Manual2 Ad Code

জানা যায়, গত ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত উপজেলার খুরমা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করেন নৌকা প্রতীক নিয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল আহমদ। তার চাচাতো ভাই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী অ্যাডভোকেট মনির উদ্দিন মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করেন। এই নির্বাচনে তৃতীয় বারের মত চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন বিল্লাল আহমদ।

নির্বাচন নিয়ে দুই প্রার্থীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছিলো। ফেসবুকে লেখালেখি নিয়ে রবিবার সন্ধ্যায় মনির উদ্দিনের ভাতিজা রুবেল আহমদ ও বিল্লাল আহমেদের  ভাগ্নে আব্দুল আলিম নামের দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার সকাল ৮টার দিকে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ছুলফি, ঝাঁটা, দা, লাঠি নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। সংঘর্ষে পথচারীসহ উভয়পক্ষের অন্তত ৫০/৬০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত ৭ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া বাকিদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নবনির্বাচিত ২ ইউপি সদস্য সহ ২২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটকৃতদের মধ্যে রয়েছেন খুরমা উত্তর ইউনিয়নের নব-নির্বাচিত সদস্য কয়ছর আহমদ ও চরমহল্লা ইউনিয়নের সদস্য জসিম উদ্দিন। তাদের পরিবারের দাবি তারা সালিশ করতে গিয়েছিলেন। পুলিশ সন্দেহ করে তাদের  আটক করেছে। ছাতক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েক জনকেও আটক করেছে পুলিশ। সবাইকে ভেজা কাপড় পরা অবস্থায় আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ।

Manual2 Ad Code

এলাকার লোকজনে দাবি, নিরাপদ কেউ যেনো এ ঘটনায় হয়রানির শিকার না হয়। তারা সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার, এএসপি সার্কেল ছাতক-দোয়ারা ও ছাতক থানার ওসিসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে এ দাবি করেছেন।

Manual1 Ad Code

ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ছাতক-দোয়ারা (সার্কেল) বিল্লাল হোসেন, ছাতক থানার (ভারপ্রাপ্ত ওসি) মিজানুর রহমান। ঘটনাস্থলে ছাতক থানা পুলিশ ও দাঙ্গা পুলিশের দুটি টিম মোতায়েন করা হয়েছে। সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ছাতক-দোয়ারা সার্কেল বিল্লাল হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

Manual1 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code