

গ্রেট বৃটেন ডেস্কঃ
যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়াকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিল ব্রিটেন। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সুরে সুর মিলিয়ে ব্রিটিশ নেতারাও জানিয়ে দিল, ইউক্রেনে আগ্রাসন চালালে মস্কোকে কঠোর অর্থনৈতিক পরিণতি ভোগ করতে হবে। ইউক্রেন নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাশিয়াও। বলেছে, সীমান্তে যেকোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপের ভয়াবহ জবাব দেওয়া হবে। এদিকে রাশিয়ার বিষয়ে জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজের সঙ্গে আলোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। শুক্রবার টেলিফোনে কথা বলেন এই দুই নেতা। চ্যান্সেলর হওয়ার পর শলৎজের সঙ্গে এটিই বাইডেনের প্রথম কথোপকথন। তাদের প্রথম ফোনালাপেই ইউক্রেন সীমান্ত উত্তেজনার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বিবিসি ও এএফপি। ইউক্রেন সীমান্তে প্রায় এক লাখ সেনা মোতায়েন করেছে রাশিয়া। এই দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনায় ইউরোপসহ অন্য ইউক্রেন মিত্রদেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া ইউক্রেনে হামলা চালালে রাশিয়ার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপসহ অন্যান্য পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শলৎজের সঙ্গে কথা বললেন বাইডেন। শুক্রবার এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, ওলাফকে অভিনন্দন জানাতে ফোন করেছিলাম। রাশিয়ার সামরিক পদক্ষেপসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
রাশিয়া ও ইউক্রেন ইস্যুতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ব্রিটেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে কথা বলছেন বাইডেন। এ ছাড়া গত মঙ্গলবার খোদ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। এ সময় পুতিনকে তিনি বলেন, ইউক্রেনে হামলা চালালে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। শুক্রবার ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস বলেন, চলতি সপ্তাহের শেষে যুক্তরাজ্যের লিভারপুলে ‘জি-সেভেন’-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ইউক্রেনে রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলার বিরোধিতার ব্যাপারে ঐকমত্য জানানো হবে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের দেওয়া হুঁশিয়ারির কথা উল্লেখ করে ট্রাস বলেন, ইউক্রেনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের বিপরীতে চরম মাত্রায় কঠোর অবস্থান নিতে যাচ্ছে জি৭। তিনি আরও বলেন, রাশিয়া যদি আগ্রাসন চালায়, তাহলে তা হবে কৌশলগত একটি ভুল। এর জন্য রাশিয়াকে করুণ পরিণতি ভোগ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র ‘গণবিধ্বংসী অস্ত্র’ : চীন
যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রকে ‘গণবিধ্বংসী অস্ত্র’ হিসাবে আখ্যা দিয়েছে চীন। শনিবার এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে এই মন্তব্য করেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অন্য দেশে হস্তক্ষেপ করার জন্য গণতন্ত্রকে গণবিধ্বংসী অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বাইরের দেশে ‘রঙিন বিপ্লব’ উসকে দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। চীনের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক মতাদর্শগত বিদ্বেষের সীমা টানা, গণতন্ত্রকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহারের কৌশল এবং বিভাজন ও সংঘাত উসকে দিতেই এই সম্মেলন। যুক্তরাষ্ট্র আয়োজিত ‘বৈশ্বিক গণতন্ত্র সম্মেলন’ নিয়ে আগে থেকেই নিন্দা জানিয়ে আসছিল চীন। বিশ্বের ১১০টি দেশকে নিয়ে শুক্রবার ভার্চুয়াল সম্মেলন শেষ হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সভাপতিত্বে এ সম্মেলনে উপেক্ষিত হয়েছে চীন, রাশিয়া ছাড়া আরও অনেক দেশ।