‘মাশরাফি নিজেকে দেশের ক্রিকেটের চেয়ে বড় মনে করলে তাকে বাদ দেওয়া উচিত’

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual4 Ad Code

স্পোর্টস ডেস্কঃ যোগাযোগের ঘাটতির কারণেই বিভিন্ন সময়ে বোর্ড-ক্রিকেটারদের বৈরিতা চরম আকার ধারণ করে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা তার বাস্তব প্রমাণ।

Manual2 Ad Code

বোর্ডের সঙ্গে ক্রিকেটারদের যোগাযোগের এ ঘাটতি নিয়ে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা বলেন, কেন হয়, আমিও জানি না। দেখুন বিরাট কোহলির মতো ক্রিকেটার এখন আর সীমিত ওভারের ক্রিকেটে অধিনায়ক নন, কল্পনা করা যায়! কোহলির চেয়ে বড় ক্রিকেটার বাংলাদেশের ক্রিকেটে আছে?

Manual1 Ad Code

তিনি আরও বলেন, কোহলিকে যখন অধিনায়ক থেকে সরানো হয়েছে, কোনো কথা কী বাইরে এসেছে? ভেতরে যা-ই থাকুক, প্রকাশ্যে কতটা পারস্পরিক শ্রদ্ধা! পেশাদারি যে আচরণ থাকা উচিত, সেটা দেখা গেছে। তাতে যোগাযোগের কথা বলছি আমি। অবশ্যই কোহলিকে সরানোর আগে তাকে জানানো হয়েছে। সৌরভ গাঙ্গুলি বলেছেন যে- ‘হ্যাঁ, আমার সঙ্গে কথা হয়েছে ওর।” তার মানে, তাদের সিস্টেম কতটা ভালো। মিডিয়ার সামনে যতটা বলা উচিত, সবাই ততটুকুই বলছে। এটাকে বলে পেশাদারিত্ব। এখানে আত্মীয়তা, ভালোবাসার মূল্য নেই।

Manual6 Ad Code

দেশের একটি অনলাইন পোর্টালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাশরাফি আরও বলেন, যোগাযোগ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মুশফিককে কিপিং করাবেন না, এটা তো ড্রেসিং রুমেই শেষ হওয়া উচিত। টিভিতে দেখে প্রতিক্রিয়া দেখাবেন কেন? পরে প্রশ্ন করবেন। কিন্তু আগেই যখন বলে দিচ্ছেন, তার মানে আপনি এতই কনফিউজড এবং লোকে সমালোচনা করবে- এই ভয়ে আপনি আগে এসেই বলে দিচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান সিরিজে মুশফিককে টি-টোয়েন্টিতে রাখা হলো না। পরে সে বলল যে তাকে জানানো হয়নি, প্রধান নির্বাচক নান্নু ভাই বললেন যে বলা হয়েছে। আমার ক্ষেত্রেও এমনটি হয়েছিল। অন্যান্য বোর্ড তো আমার চেয়ে হাজারগুণ বড় ক্রিকেটারদের সঙ্গেও ভালোভাবে যোগাযোগটা করতে পারছে!

সাবেক এই অধিনায়ক আরও বলেন, ক্রিকেট বোর্ড চাইলেই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে। দেশের চেয়ে কোনো ক্রিকেটার বড় নয়। যদি কেউ দেশের চেয়ে বড় হয়, তাকে না খেলানোই উচিত। এটা হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কোটি কোটি মানুষ মাশরাফির পক্ষে থাকুক, কিন্তু মাশরাফি যদি মনে করে সে বাংলাদেশ ক্রিকেটের চেয়ে বড়, তাহলে তাকে বাদ দেওয়া উচিত। কে কী বলল, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।

জাতীয় দলের হয়ে ২২০টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ২৭০ উইকেট শিকার করা এই তারকা পেসার আরও বলেন, ক্রিকেট বোর্ড যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কিন্তু যোগাযোগ ঠিক রাখতে পারলে, তারপর কোনো ক্রিকেটার কিছু করলে তাকে বাদ দিন! বাংলাদেশের ক্রিকেট তো এমনিতেই খুঁড়িয়ে যাচ্ছে। তো ওইসব ক্রিকেটার রেখে লাভ নেই। যোগাযোগ ঠিক রেখে যে কোনো অ্যাকশনে যাওয়া যায়, কিন্তু যোগাযোগ ঠিক না রাখলে ওই ক্রিকেটারের প্রতি অন্যায় হয়।

ক্রিকেট থেকে অবসরের আগেই জাতীয় সংসদের সদস্য হয়ে যাওয়া মাশরাফি আরও বলেন, আমাকে যখন বাদ দেওয়া হলো, আমি তা পেশাদারভাবেই নিয়েছি। তারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তারপরও আমি ইতিবাচকভাবে নিয়েছি এজন্য যে, আমি বাংলাদেশ ক্রিকেটের চেয়ে বড় নই। আমার দায়িত্ব বাংলাদেশের ক্রিকেটকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। দেশের ক্রিকেটের দায়িত্ব নয় আমাকে টেনে তোলা। তবে দলকে আমি যে সার্ভিস দিয়েছি, বাদ দেওয়ার আগে আমাকে সেই সম্মানটুকু দেওয়া উচিত ছিল। কোনো সিরিজে বিশ্রাম দেওয়া হলেও বলা উচিত।

Manual3 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code