লঞ্চে আগুন: নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual4 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ 

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ নামে একটি লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৩৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনা তদন্তে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব তোফায়েল আমেদকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

Manual4 Ad Code

মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আমিনুর রহমান কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে কাজ করবেন।

Manual5 Ad Code

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- বিআইডব্লিউটিএ’র একজন, নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের একজন, নৌ পুলিশ, জেলা প্রশাসন এবং ফায়ার সার্ভিসের একজন করে প্রতিনিধি। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ‍্যে মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট পেশ করতে বলা হয়েছে।

Manual6 Ad Code

এর আগে বিআইডব্লিউটিএ তাদের বন্দর ও পরিবহন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. সাইফুল ইসলামকে ছয় সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে লঞ্চটিতে আগুন লাগে বলে যাত্রীরা জানিয়েছেন। ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের গাবখান চ্যানেলে এলে লঞ্চ থেকে কিছু যাত্রী নামতে পেরেছেন।

ঘটনাস্থল থেকে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী জানান, এখন পর্যন্ত ৭৫ জন আহত যাত্রীকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হতাহতদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহত ১৫ জন এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বরিশাল থেকে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে লঞ্চ টার্মিনালের দূরবর্তী দিয়াকুল এলাকায় এলে ঘটনাটি ঘটেছে। লঞ্চটির ইঞ্জিনরুমের কাছে রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

লঞ্চটির কয়েকজন যাত্রী সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে হঠাৎ যাত্রীরা আগুন দেখে চিৎকার শুরু করে। কিন্তু কিছু বুঝে উঠার আগেই লঞ্চটিতে আগুন ধরে যায়। এসময় কিছু যাত্রীরা লাফিয়ে নদীতে পড়ে সাঁতরে পাড়ে উঠে। এছাড়া স্থানীয় ট্রলার চালকরা এগিয়ে গিয়ে লঞ্চ ও নদী থেকে বেশ কিছু যাত্রীদের উদ্ধার করে। চাঁদপুর থেকে বরগুনাগামী লঞ্চের যাত্রী মো.মোহসীন বলেন, ‘রাত ২টার দিকে হঠাৎ নিচ থেকে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখি। এরপর আগুনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় আমি তিনতলা থেকে লাফ দিয়ে প্রাণে বেঁচে যাই।’

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘আমি দোতলায় ঘুমিয়ে ছিলাম। আগুনের তাপে ঘুম ভেঙ্গে দেখি পুরা লঞ্চটিতে আগুন ধরে গেছে। তখন লাফ দিয়ে নদীতে ঝাঁপ দেই।’

শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে ঝালকাঠির কলেজ খেয়াঘাট এলাকায় নদী থেকে ১৩ বছরের এক কিশোরীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

তার মা জানান, তারা ঢাকা থেকে বরগুনার উদ্দেশ্যে মা ও মেয়ে এক সাথে লঞ্চে উঠেছিল। কিন্তু আগুন লাগার পর মেয়েকে পাওয়া যায়নি। খুঁজতে খুঁজতে এখানে এসে মেয়ের মৃতদেহ পেয়েছেন।

লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার সকালেই তিনি ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু।

Manual1 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code