কুমির’ পুতিনের কারণে ইউক্রেন শান্তি আলোচনা ভেস্তে গেছে: জনসন

newsup
প্রকাশিত April 21, 2022
কুমির’ পুতিনের কারণে ইউক্রেন শান্তি আলোচনা ভেস্তে গেছে: জনসন

ডেস্ক রিপোর্টঃ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে কুমিরের সঙ্গে তুলনা করলেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। একইসঙ্গে ইউক্রেন নিয়ে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য তিনি পুতিনকে দায়ী করেন। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুতিনের সঙ্গে আলোচনা করা আর আপনার পা কামড়ে ধরা কুমিরের সঙ্গে আলোচনা করা একই ব্যাপার। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

খবরে বলা হয়, বরিস জনসন ভারত সফরের পূর্বে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন তিনি। ভারতে তিনি তার সমকক্ষ নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনায় বসবেন এবং ইউক্রেন যুদ্ধে ভারতকে নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সরিয়ে আনার চেষ্টা করবেন। সফরের পূর্বে সাংবাদিকদের কাছে জনসন বলেন, ইউক্রেনে পশ্চিমা দেশগুলোর অস্ত্র পাঠানো এখন ‘অত্যাবশ্যক’। পুতিনের ওপরে বিশ্বাস করাই কঠিন। এরকম সময়ে ইউক্রেনীয়রা কীভাবে তার সঙ্গে দর কষাকষি করবে তার কোনো উপায় দেখছি না।

যতখানি সম্ভব ইউক্রেনের তত ভূমি দখল করে নেয়ার কৌশল হাতে নিয়েছেন পুতিন। যাতে করে আলোচনার টেবিলে দর কষাকষি করার মতো কিছু থাকে তার হাতে। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনসহ বিশ্ব নেতারা একমত হয়েছেন যে, তারা আর্টিলারিসহ ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ চালু রাখবে।

জনসন আরও বলেন, ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি আমাকে জানিয়েছেন যে, ডনবাস অঞ্চল থেকে রুশ সেনাদের হটিয়ে দেয়ার বিষয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী। তবে এখনই আট বছর পূর্বে রাশিয়ার দখল করা ক্রাইমিয়া ফেরত আনতে পারবে না ইউক্রেন। পুতিন এরইমধ্যে এটি স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি ইউক্রেনের আরও ভূমি দখল করতে চান এবং আবারও রাজধানী কিয়েভে হামলা চালাতে পারেন। কিন্তু এভাবে যদি কুমিরের মতো কেউ পা কামড়ে ধরে রাখে তাহলে তার সঙ্গে আলোচনা কীভাবে করা সম্ভব? ইউক্রেনীয়রা এখন সেই পর্যায় পার করছে। আমাদেরকে এখন শুধু কৌশল অনুসরণ করতে হবে এবং ইউক্রেনে অস্ত্র পাঠাতে হবে।

ভারত সফর নিয়ে জনসন বলেন, শুক্রবার দিল্লি সফর করার সময় ভারতকে উৎসাহিত করবেন যাতে দেশটি ইউক্রেনকে সমর্থন দেয়। তবে এরপরেও ভারত রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক রেখেই চলবে বলে মনে করেন জনসন। বলেন, আমি এরইমধ্যে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ইউক্রেন নিয়ে কথা বলেছি। বুচাতে যা হয়েছে ভারতীয়রা তার নিন্দা জানায়। কিন্তু রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে, এট বৃটেন জানে। ভারত রুশ অস্ত্রের সবথেকে বড় ক্রেতা। একইসঙ্গে রাশিয়া থেকে ব্যাপক জ্বালানী তেলও আমদানি করে দেশটি। রাশিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক নিন্দা প্রস্তাবে ভোট দেয়া থেকে বিরত ছিল ভারত। এছাড়া পশ্চিমাদের রুশবিরোধী নিষেধাজ্ঞায়ও যোগ দেয়নি দেশটি।
উল্লেখ্য, ২৯শে মার্চের পর এখনও আলোচনার টেবিলে বসেনি রাশিয়া ও ইউক্রেন। রাশিয়ার সেনারা বুচা শহরে গণহত্যা চালিয়েছে ইউক্রেনের তরফ থেকে এমন অভিযোগ আসার পর আলোচনার পরিবেশও নষ্ট হয়ে গেছে বলে ইঙ্গিত এসেছে মস্কোর তরফ থেকে। এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাশিয়া।

এই সংবাদটি 1,225 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।