ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে জাতিসংঘের গঠন মূলক ভূমিকা জরুরি

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৪ years ago

Manual7 Ad Code

সম্পাদকীয়: যুদ্ধ মানেই ধ্বংস। যুদ্ধ মানেই সর্বনাশ। যে জিতুক আর যে হারুক; যুদ্ধ মানে দেশ, জাতি আর মানুষের হাহাকার। তবু মানুষ যুদ্ধ দেখে, দেখতে বাধ্য হয়। আজ দুনিয়া দেখছে ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার আক্রমণ। অতর্কিত বা অকস্মাত্ কি না; বলেকয়ে এই আক্রমণ করেছে রাশিয়া। সেই রাশিয়া যাদের আফগানিস্তান ছাড়া আর কোথাও যুদ্ধ ছেড়ে চলে আসার ইতিহাস নেই, বরং আছে জয়ের কাহিনি। একসময়, অর্থাত্ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় রাশিয়া না জিতলে মিত্র শক্তির জয় ছিল অসম্ভব, যার মানে, জিতত হিটলার। বদলে যেত দুনিয়ার রাজনীতি বা দুনিয়াই। সোভিয়েত ইউনিয়ন নামের বিরাট দেশটি ভাঙার পর টুকরো টুকরো হয়ে যায়। সেই টুকরোর একটি ইউক্রেন। লাগোয়া প্রতিবেশী আর অতীতের যুক্ত ইতিহাস রাশিয়া আর ইউক্রেনকে যেমন একে অপরের পরিচিত করে রেখেছে, তেমনি আছে বৈরিতা। অনেকটা ভারত-পাকিস্তানের মতো। কিন্তু ইউক্রেনের সাধ্য নাই রাশিয়ার বিরোধিতা করে টিকতে পারে। হয়তো সে কারণেই পুতিনের ভয় আর রাশিয়ার বিশালতার কথা ভেবে ইউক্রেন ভরসা চেয়েছিল ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কাছে।

Manual5 Ad Code

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাতিসংঘ বিষয়ে সেই ভরসা আর আশাই বড় হয়ে উঠেছিল পৃথিবীর মানুষের মনে। আমেরিকার রুজভেল্ট, ব্রিটেনের চার্চিল বা অন্য দেশের নেতারা সে কথা দিলেও তা রাখতে পারেনি জাতিসংঘ। বাস্তবে আমেরিকা ও ব্রিটেনের একচ্ছত্র আধিপত্য আর তাদের হাতের পুতুল হয়ে ওঠা জাতিসংঘকে এখনো ভারত, ব্রাজিল বা কোরিয়ার মতো দেশও ভয় পায় না, চীন-রাশিয়া তো দূরের কথা। যত সময় গেছে, দুনিয়া বুঝে নিয়েছে জাতিসংঘ কেবল একটি প্রতিষ্ঠান, যে বিবৃতি দেবে। যে কথা বলবে। যার প্রধান বা কর্মকর্তারা ঘন ঘন টিভিতে আসবেন কিন্তু তার কথা অনেকেই মানবে না। আজ জাতিসংঘের মহাসচিবকে দেখে সেটাই সত্য মনে হলো। আমেরিকা ও ইউরোপের সঙ্গে চীন-রাশিয়া বা বড় শক্তি হয়ে ওঠা দেশগুলোর তফাত এখন দৃশ্যমান। আমেরিকা বা ইউরোপ নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে রাখার জন্য মরিয়া, কিন্তু বাস্তবে অন্যরাই হয়ে উঠেছে শক্তিশালী। ভারসাম্যের এই খেলায় জাতিসংঘ পারেনি তার জায়গা ঠিক রাখতে।

Manual4 Ad Code

পারলে আজ এই আসন্ন বিশ্বযুদ্ধের ইঙ্গিত থামাতে পারত। কে শুদ্ধ আর কে ভুল সেটা বড় বিষয় না, বিষয় হচ্ছে সাধারণ মানুষ। যে কোনো যুদ্ধেই সাধারণ মানুষ আর তাদের ভবিষ্যত্ বিপন্ন হয়। এমনিতেই করোনার কারণে সব দেশের অর্থনীতি নাজুক। মানুষ আছে ঘোর সংকটে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর লাফিয়ে বাড়ছে তেলের দাম। তেলের দাম বাড়া মানেই সব জিনিসের দাম বাড়তে থাকা। দুনিয়ার নাজুক ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর বিষফোঁড়া এই যুদ্ধ জাতিসংঘ থামাতে পারবে? মনে হয় না। কারণ পুতিনের দেশের আছে ভেটো পাওয়ার। আর সেই পাওয়ার ইতিমধ্যে ব্যবহার করেছে রাশিয়া। তাছাড়া বড়সড় কয়েকটি দেশ না ঘর না ঘাটকা হয়ে কিছুই বলছে না। সব মিলিয়ে ইউক্রেনের বিপদ শিগ্গির কাটবে বলে মনে হয় না।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code