

সম্পাদকীয়: দেশের নৌপথগুলো মানুষের চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কোনো দুর্ঘটনার পর যাত্রীদের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কিছুটা সরব হলেও কিছুদিন পর সেসব তৎপরতা আর লক্ষ করা যায় না।
বস্তুত কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে সারা দেশে চলছে ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের নৌযান। বিষয়টি উদ্বেগজনক। দেশে ইঞ্জিনচালিত নৌযানের নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ কোনোটিই নেই সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে।
এমনকি এ ধরনের কতসংখ্যক নৌযান চলছে, এর সঠিক কোনো পরিসংখ্যানও নেই কর্তৃপক্ষের কাছে। দেশে ১৬ অশ্বশক্তির বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিবন্ধন ছাড়া চলাচল নিষিদ্ধ হলেও বাস্তবতা হচ্ছে, জনবল সংকট ও কাঠামোগত সমস্যার কারণে এসব নৌযানকে নিবন্ধনের আওতায় আনতে পারছে না নৌপরিবহণ অধিদপ্তর। এ কারণে ওইসব নৌযানের রুট পারমিটও দিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। অথচ স্থানীয় রাজনীতিক ও প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এসব ইঞ্জিনচালিত নৌযান অবৈধভাবে সারা দেশে চলাচল করছে। কয়েকদিন আগে পঞ্চগড়ের করতোয়া নদীতে যে ট্রলারটি ডুবেছে, সেটিরও নিবন্ধন ছিল না। ওই ঘটনায় বুধবার পর্যন্ত ৬৮ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। জানা গেছে, পদ্মা নদীতে চলাচলকারী বহু ইঞ্জিনচালিত নৌযানেরও নিবন্ধন নেই।
এসব নৌযানে মানুষের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হলেও তা দেখার যেন কেউ নেই। নিবন্ধন ও রুট পারমিট না থাকায় ইঞ্জিনচালিত নৌযানে প্রশিক্ষিত চালক রাখার বাধ্যবাধকতাও নেই। এসব নৌযানের ফিটনেসও পরীক্ষা করা হয় না। প্রতিটি নৌযানে কতজন যাত্রী বহন করা যাবে, নেই সেই নির্দেশনাও। ফলে প্রায়ই এ ধরনের ছোট নৌযানডুবিতে মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। নৌযানের নিবন্ধন না থাকায় এর দায়দায়িত্ব নিতে নারাজ স্থানীয় প্রশাসন ও নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়।