

সম্পাদকীয়: দেশে ডেঙ্গিতে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে; সেই সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুও। আক্রান্তের ঊর্ধ্বমুখী ধারা বর্তমানে এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে, ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড সাড়ে ৮ শতাধিক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ইতোমধ্যে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত এক চিকিৎসক মারা গেছেন। রোগীর চাপে রাজধানীতে কোনো হাসপাতালেই বিছানা ফাঁকা নেই। জানা গেছে, হাসপাতালগুলোতে আলাদা ডেঙ্গি ইউনিট চালু করার কথা বিবেচনা করছে কর্তৃপক্ষ।
আমরা মনে করি, এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। এ বছর যে ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়তে পারে, তা কয়েক মাস ধরেই আলোচনায় আসছিল। বিশেষজ্ঞরা বারবার কর্তৃপক্ষকে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ যেসব কার্যক্রম পরিচালনা করেছে তা কতটা পর্যাপ্ত ছিল, এ প্রশ্ন উঠতেই পারে। মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের জনবল স্বল্পতার বিষয়টি বারবার আলোচনায় আসে।
রাজধানীর আয়তন দুই গুণেরও বেশি বেড়েছে। নতুন অন্তর্ভুক্ত এলাকায় এখনো ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সব সেবা কার্যক্রম চালু হয়নি। নতুন অন্তর্ভুক্ত এলাকায় সিটি করপোরেশনের সব ধরনের সেবা কার্যক্রম চালু না হলে উল্লিখিত সমস্যা আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। বস্তুত ডেঙ্গিসংক্রান্ত আমাদের অভিজ্ঞতা ভালো নয়। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারণে রাজধানীর মশক নিধন কার্যক্রমে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসছে না। এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। মশক নিধনে নিয়োজিত শ্রমিকদের কাজে ফাঁকি দেওয়ার বিষয়টিও আলোচিত। এসব বিষয়ে যথাযথ মনিটরিং চালু না হলে মশক নিধনে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জনে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে। যেসব ওষুধ ছিটানো হয়, তাতে কী সুফল পাওয়া যায়, তা যাচাই করা দরকার।