

সম্পাদকীয়: আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিল। এ সম্মেলনে বক্তারা এমন কিছু কথা বলেছেন, যা আগামী জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের পক্ষে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। প্রথমত, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দলীয় সরকারের ভূমিকা নিরপেক্ষ ও স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত রাখতে আইনি সংস্কারের কথা বলেছে সংস্থাটি। টিআইবি মনে করে, মন্ত্রী ও এমপিরা স্বপদে বহাল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে নির্বাচনে কোনোভাবেই ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ থাকবে না। এজন্য পদে থেকে তাদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিধান বাতিল করতে হবে। টিআইবি একইসঙ্গে নির্বাচনের সময় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রস্তাব করেছে। সংস্থাটি দাবি করেছে, এসব সংস্কার করা গেলে বিএনপি ও তার শরিক দলগুলো নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা বিবেচনা করতে বাধ্য হবে। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নির্বাচনে ইভিএম ব্যহারের সিদ্ধান্ত অতি বিতর্কিত। অংশীজনদের মতামত ছাড়া নির্বাচন কমিশনের কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা সঠিক হয়নি বলেও মন্তব্য করেন বক্তারা। সংবাদ সম্মেলনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন বক্তারা। বলা হয়েছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার আদর্শিক গণতন্ত্র চর্চার মধ্যে পড়ে না। ওই অবস্থায় ফিরে যাওয়ার জন্য সংবিধান সংশোধনের মতো পরিস্থিতিও নেই। তবে নির্বাচন নিয়ে আদর্শিক জায়গায় যেতে হলে নির্বাচনের সময় ক্ষমতাসীন সরকারের ভূমিকা প্রশ্নে একটি রূপরেখা নির্ধারণ করতে হবে। এটা এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে, যাতে ওই সরকার নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করতে পারে। টিআইবির সংবাদ সম্মেলনে যেসব বক্তব্য উঠে এসেছে, সেগুলো বিবেচনার যোগ্য বলে মনে করি আমরা। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই, পরপর দুটি নির্বাচন দেশে ও বিদেশে নানাভাবে বিতর্কিত হয়েছে। এর ফলে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হয়েছে। গত দুটি নির্বাচন গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় বিএনপি ও এর সমমনা দলগুলো সন্দেহ পোষণ করতেই পারে যে, আগামী জাতীয় নির্বাচনও সুষ্ঠু হবে না।