

হাবিব রহমান :আদ জাতির ধ্বংসের প্রায় ৫০০ বছর পর হজরত সালেহ আ. সামুদ জাতির প্রতি নবী হিসেবে প্রেরিত হন।পূর্বপুরুষ ‘সামুদ’-এর নাম অনুসারে এ জাতির নামকরণ করা হয়।সামুদ জাতি আরবের উত্তর-পশ্চিম এলাকায় বসবাস করত। তাদের প্রধান শহরের নাম ছিল ‘হিজর’। এটি তখন শামদেশ তথা সিরিয়ার অন্তর্ভুক্ত ছিল। বর্তমানে একে সাধারণভাবে ‘মাদায়েনে সালেহ’ বলা হয়।
জায়গাটি পবিত্র মদিনা নগরী থেকে ৪০০ কিমি. উত্তর-পশ্চিমে এবং জর্ডানের পেত্রা নগরী থেকে ৫০০ কিমি. দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত হিজায পর্বতের পাদদেশের সমতল মালভূমিতে অবস্থিত নবী হযরত সালেহ (আঃ),নবী হযরত শোয়েব (আঃ) এবং নবী হযরত মুসা(আঃ) এর স্মৃতিবিজরিত এবং প্রাক ইসলামী যুগের প্রত্নতাত্বিক এলাকা-
এই মাদা’ইন সালেহ পরিদর্শযেখানে মরুর অপার সৌন্দর্যের সাথে যুক্ত হয়েছে ইতিহাসের মিতালী।পাহাড়ের গায়ে অপূর্ব নির্মানশৈলী নিয়ে এখানে আজো দাঁড়িয়ে আছে প্রাচীন নাবাতিয়েন সমাধিসৌধ।
এই এলাকায় নবী শোয়েব (আঃ) বসবাস করতেন।পরবর্তীতে নবী মুছা(আঃ) তাঁর মেয়েকে বিবাহ করে এখানে ৮ বছর বসবাস করেছিলেন।
মাদা’ইন সালেহ সৌদি আরবের প্রথম বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্হান যাকে ২০০৮ সালে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ হিসাবে তালিকাভুক্ত করেছে।
আদ জাতির ধ্বংসের পর সামুদ জাতি তাদের স্থলাভিষিক্ত হয়। তারাও আদ জাতির মতো শক্তিশালী ও বীরের জাতি ছিল। তারা প্রস্তর খোদাই ও স্থাপত্য বিদ্যায় খুবই পারদর্শী ছিল। তাদের স্থাপত্যের নিদর্শনাবলি আজও বিদ্যমান। এগুলো ইরামি ও সামুদি বর্ণমালার শিলালিপিতে খোদিত আছে। অভিশপ্ত অঞ্চল হওয়ার কারণে এলাকাটি আজও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কেউ সেখানে বসবাস করে না।
সৌদি আরবের বর্তমান আল-উলা প্রদেশের মাদায়েনে সালেহ বা আল-হিজর সৌদি পর্যটন আর্কষণসমূহের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানের অধিকারী। ২০০৮ সালে ইউনেস্কো মাদায়েনে সালেহকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঘোষণা করে। প্রাচীন লিহওয়ানদের রাজধানী এই শহরটিই সৌদি আরবের প্রথম বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত স্থান।
মাদায়েনে সালেহ স্থানটির নাম নবী হজরত সালেহ আ. এর নাম হতে এসেছে। পরবর্তীতে তার কথা না মানায় তার জাতি আল্লাহর আজাবে ধ্বংস হলে তিনি এই স্থা্ন থেকে হিজরত করে চলে যান। এরপর থেকে এটি একটি মৃত নগরীতে পরিণত হয়। এই স্থানটি এখনো একটি বড় ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন বহন করে চলছে।
বর্তমানে মাদায়েনে সালেহের এই স্থানটি সৌদি আরবের জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যসমূহের মধ্যে একটি। এখানকার আকর্ষণীয় স্থানসমূহের মধ্যে একটি হল হাতির পাহাড় (Elephant Rock)। হাতির আকৃতির এই পাহাড়টি ৫০ মিটার উঁচু। এর ব্যতিক্রমী আকৃতির কারণে এটি পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান।
মাদায়েনে সালেহের সমগ্র অঞ্চলটি কমলা, লেবু ও পামগাছে পরিপূর্ণ, যা এই মৃতস্থানটির মাঝে প্রাণের সঞ্চার করেছে। মরুভ্রমণ এবং ঘোড়দৌড়ের জন্য এই স্থানটি একটি আদর্শ স্থান।
মাদায়েনে সালেহ স্থানটির নাম নবী হজরত সালেহ আ. এর নাম হতে এসেছে। পরবর্তীতে তার কথা না মানায় তার জাতি আল্লাহর আজাবে ধ্বংস হলে তিনি এই স্থা্ন থেকে হিজরত করে চলে যান। এরপর থেকে এটি একটি মৃত নগরীতে পরিণত হয়। এই স্থানটি এখনো একটি বড় ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন বহন করে চলছে।
বর্তমানে মাদায়েনে সালেহের এই স্থানটি সৌদি আরবের জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যসমূহের মধ্যে একটি। এখানকার আকর্ষণীয় স্থানসমূহের মধ্যে একটি হল হাতির পাহাড় (Elephant Rock)। হাতির আকৃতির এই পাহাড়টি ৫০ মিটার উঁচু। এর ব্যতিক্রমী আকৃতির কারণে এটি পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান।
সিরিয়া হতে মদীনা পর্যন্ত ওসমানী আমলে নির্মিত রেললাইনের ধারে এ স্থানে ওসমানী যুগের একটি সেনাঘাটি রয়েছে।। এই সেনাঘাটির সন্নিবেশিত রেলস্টেশনটি হিজাজের দ্বিতীয় বৃহত্তম রেলস্টেশন।
রেলের মেরামত কারখানা, সৈন্যদের থাকার জন্য দুর্গ, মসজিদ, অস্ত্রাগার প্রভৃতির সমন্বয়ে পুরো ঘাটিটি নির্মিত। হযরত সালেহ আ.-এর উটের পানি পানের কূপটিও এখানে অবস্থিত।
সামুদ ও নাবাতিয়ানদের প্রাচীন অনেক নির্দশন এই স্থানে রয়েছে, যা এই প্রাচীন জাতিগুলোর স্থাপত্যকৌশলের প্রমাণ আজো বহন করে চলছে। পাহাড় খোদাই করে সামুদ ও নাবাতিয়ানদের নির্মিত বিভিন্ন প্রাসাদ ও স্থাপনাগুলো দর্শকদের বিস্মিত করে।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত হতে পর্যটকরা মাদায়েনে সালেহ ভ্রমণ করতে আসে। সউদি আরব এবং সউদি আরবের বাইরের বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকদের আগমনে মৃত এই নগরী সদা প্রাণবন্ত থাকে।
সকাল ৭টায় আমরা মদীনা থেকে রওয়ানা হয়ে ১টায় ওখানে পৌছে যাই।নখের মত মসৃন রাস্তায় আমাদের ড্রাইভার ১৬০ মাইল বেগে গাড়ী চালিয়েছে সারাক্ষন।মাদায়েন সালেহ এলাকায় প্রাইভেট গাড়ীর প্রবেশাধিকার নিশিদ্ধ।ওদের বাস,জীপ বা ঘোড়ার গাড়ীতে করে ভেতরে ঘুরতে হয়।উপর থেকে হেলিকপ্টারে দেখার ব্যবস্হা রয়েছে।খরচ মাথাপিছু ৭০০ রিয়েল।বাস ভাড.া মাথা পিছু ৯০ রিয়েল।সাত সীটের জিপ ৭০০ ডলার ২ঘন্টার জন্য।
বাংলা ট্যুর ওমরা প্যাকেজের পাশাপাশি নবী হযরত সালেহ(আঃ),নবী শোয়েব (আঃ),নবী হযরত মুসা(আঃ) স্মৃতি বিজরিত মেদান সালেহ পরিদর্শনের ব্যবস্হা করে।আগ্রহীরা ৩৪৭ ২৮০ ৭২৬৯ এই নাম্বারে যোগাযোগ করতে পারেন।
—মাদায়েন সালেহ,মদীনা সউদি আরব
৩১ জানুয়ারী ২৩