শিক্ষক ঘাটতি পূরণে দ্রুত পদক্ষেপ নিন

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৩ years ago

Manual2 Ad Code

সম্পাদকীয়: মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষাবিষয়ক এক প্রতিবেদনে উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে সাড়ে ৮২ শতাংশ অন্য বিষয়ের ডিগ্রিধারী শিক্ষক গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে পাঠদান করছেন। আমাদের দেশে সাধারণত গণিত ও ইংরেজি কঠিন বিষয় হিসাবে চিহ্নিত। দেখা যায়, পাবলিক পরীক্ষায় অকৃতকার্যদের বেশিরভাগ ইংরেজি ও গণিতের বাধা পার হতে পারে না। শিক্ষক ঘাটতির কারণেই যে শিক্ষার্থীরা উল্লিখিত বিষয় দুটিতে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না, তা বলাই বাহুল্য। এক্ষেত্রে যারা দক্ষতা অ র্জন করতে চায়, তাদের মূলত প্রাইভেট-কোচিংয়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে যাদের কোচিংয়ের পেছনে অর্থ ব্যয়ের সামর্থ্য নেই, অবধারিতভাবে তারা পিছিয়ে পড়ছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক।

আশঙ্কার বিষয় হলো, শুধু গণিত বা ইংরেজি নয়, দেশে আইসিটি বিষয়েও জোড়াতালি দিয়ে পাঠদান চলছে। এক্ষেত্রে দেখা গেছে, মোট ২০ হাজার ২৯৪ সরকারি-বেসরকারি স্কুলের মধ্যে ১৬ হাজার ২৭৫টিতে আইসিটি শিক্ষক রয়েছেন, যা মোট সংখ্যার ৮০ শতাংশ। বাকি ২০ শতাংশ স্কুলে অন্য বিষয়ের শিক্ষকরা পাঠদান করছেন। তবে ভয়াবহ তথ্য হচ্ছে, যে ৮০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে আইসিটির শিক্ষক রয়েছেন, তাদের বড় একটি অংশ কম্পিউটারে নামেমাত্র প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কিংবা ডিপ্লোমাধারী। এছাড়া অনেকেই আবার জাল সনদধারী। উল্লেখ্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) কর্তৃক যত জাল সনদ ধরেছে, তার প্রায় অর্ধেকই এ বিষয়ের শিক্ষক। আরও দুশ্চিন্তার বিষয় হলো, আইসিটি শিক্ষকদের মধ্যে স্নাতকধারীর সংখ্যা খুব কমই। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে আইসিটি (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) বিষয় বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অথচ ২০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে ওই বিষয়ের কোনো শিক্ষক নেই; উপরন্তু মালটিমিডিয়ার ব্যবস্থাও নেই, যা মেনে নেওয়া কষ্টকর।

Manual2 Ad Code

বলার অপেক্ষা রাখে না, এভাবে অন্য বিষয়ের শিক্ষক দ্বারা ইংরেজি, গণিত ও আইসিটিতে পাঠদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রতি অন্যায় করা হচ্ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের শিখন ফলের ওপর। দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে এ পর্যন্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা, গবেষণা ও কথাবার্তা কম হয়নি। কিন্তু অব্যবস্থাপনা, অদূরদর্শিতা, দুর্নীতি ও রাজনীতিকরণের ঘূর্ণাবর্তে এসবের অধিকাংশই হারিয়ে গেছে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হলে সরকারকে আন্তরিকতা ও সততার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। বর্তমানে মাধ্যমিক শিক্ষকদের বড় একটি অংশ অন্য কোনো চাকরি না পেয়ে এ পেশায় এসেছেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

Manual1 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code