

সম্পাদকীয়: গ্রাম ও শহরের মধ্যে ব্যবধান কমলেও এর গতি খুব মন্থর। বস্তুত গ্রামের মানুষ ভালো নেই। সোমবার যুগান্তরের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, প্রায় সব খাতেই শহরের চেয়ে গ্রামের মানুষের সুযোগ-সুবিধা অনেক কম। বিবিএসের তথ্য, বিআইডিএসের গবেষণা, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও পরিকল্পনা কমিশনের প্রতিবেদন এবং বিশ্লেষকদের সঙ্গে আলোচনায় উঠে এসেছে, মানসম্মত চিকিৎসা, শিক্ষাসহ নানা ব্যবস্থাতেই বৈষম্য বিরাজমান।
মানসম্মত সেবা পেতে গ্রামের মানুষকে এখনো শহরেই ছুটতে হয়। জীবনযাত্রার দিক থেকেও শহরের তুলনায় গ্রামে খরচ বেশি। আবার মূল্যস্ফীতির হার বেশি হলেও শহরের তুলনায় গ্রামের মানুষের আয় কম। দেখা গেছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কৃষক উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান না। আবার গ্রাম থেকে টাকা এনে শহরের ঋণের জোগান বাড়ানো হয়, অথচ গ্রামে ঋণপ্রবাহ কম। কিন্তু আমানতের প্রবৃদ্ধির হার গ্রামেই বেশি।
বিবিএসের তথ্যে উঠে এসেছে, দেশের মোট ১ লাখ ৪৮ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তনের মধ্যে ১ লাখ ৩৩ হাজার বর্গকিলোমিটারই গ্রামীণ এলাকা। অর্থাৎ শহুরে ১৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকার তুলনায় গ্রামের আয়তন প্রায় নয়গুণ বেশি। স্বাভাবিকভাবেই শহরের তুলনায় গ্রামে কর্মোপযোগী মানুষ বেশি। কিন্তু স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়ায় সেই শ্রমশক্তির বড় অংশই স্বকর্ম বা খণ্ডকালীন কাজে নিয়োজিত। এর ফলে গ্রামের শ্রমজীবীর আয়ের কোনো ধারাবাহিকতা থাকছে না। সব মিলে গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মানের উন্নয়ন ঘটেনি, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। মনে রাখতে হবে, দেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামেই বাস করে।
কৃষি খাতসহ নানা দিকে পুরো দেশ তাদের ওপরই নির্ভরশীল। এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে বৈষম্যে রেখে দেশের উন্নয়ন কোনোভাবেই সম্ভব নয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনি ইশতেহারে ক্ষমতাসীন দলের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল ‘আমার গ্রাম আমার শহরে’র আওতায় শহরের সব সুবিধা গ্রামে পৌঁছে দেওয়া। এ লক্ষ্যে একাধিক প্রকল্পও নেওয়া হয়। পরিকল্পনা কমিশনের দাবি, এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার গ্রামে উন্নত রাস্তাঘাট, যোগাযোগ অবকাঠামো, সুপেয় পানির নিশ্চয়তা, প্রতিটি গ্রামে কমিউনিটি ক্লিনিক ও বিনোদনের ব্যবস্থা, প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল কেন্দ্র নির্মাণসহ তথ্যপ্রযুক্তি সেবা পৌঁছে দিয়েছে। তবে বাস্তবতা তা বলছে না।