কৃষি গবেষণায় নারীর সাফল্য

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৩ years ago

Manual8 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: স্বপ্টম্ন দেখেছি সবসময় নতুন কিছু করার। শুরু থেকেই গবেষণায় নিজেকে যুক্ত রেখেছিলাম। স্বপ্টম্ন ছিল অনেক বড়। চেষ্টা করেছি, আর তাতেই সফলতা পেয়েছি- এভাবেই নিজের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার গল্প বললেন বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শামসুন নাহার বেগম।

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। একই সঙ্গে ড. শামসুন নাহার পান ‘উইমেন ইন প্লান্ট মিউটেশন ব্রিডিং অ্যাওয়ার্ড’। প্লান্ট মিউটেশন ব্রিডিং ও রিলেটেড বায়োটেকনোলজিতে অবদানের জন্য এ পুরস্কার দিয়েছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা। গত আগস্টে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

নারী ক্যাটাগরিতে অসামান্য অবদানের জন্য সারাবিশ্বে প্রতি ৭-৮ বছর ব্যবধানে এই পুরস্কার দিয়ে থাকে। ড. নাহার তার চাকরিজীবনে পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন ফসলের ২২টি জাত উদ্ভাবন করেছিলেন। ১০ বছরে কী কী অর্জন হয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। তিনি ১০ বছরে ধানের একটি জাত ও ডাল জাতীয় ফসলের ৮টি জাত উদ্ভাবন করেন। তার ওপর ভিত্তি করেই নারী ক্যাটাগরিতে তাকে ‘উইমেন ইন প্লান্ট মিউটেশন ব্রিডিং অ্যাওয়ার্ড’ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

Manual6 Ad Code

পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি প্রসঙ্গে ড. শামসুন নাহার বলেন, ‘নিজের ওপর আস্থা ছিল সবসময়। বিশ্বাস ছিল- পরিশ্রমের ফল এক দিন পাবই। এ পুরস্কার ছাড়াও আমি দেশে বেশ কয়েকটি পুরস্কার পেয়েছিলাম। আমার প্রতিষ্ঠান থেকে শুদ্ধাচার পুরস্কারও পেয়েছি। পিছিয়ে নেই বাংলাদেশের নারীরা। সর্বক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশের নারীরা। গবেষণার অপ্রতুল সুযোগ, সামাজিক বিভিন্ন বাধা থাকা সত্ত্বেও নারীরা কাজ করছেন। তার মাঝেই কেউ কেউ পাচ্ছেন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। বিষয়টা কীভাবে দেখেন জানালেন- ‘নারীরা নির্দিষ্ট কিছু কর্মক্ষেত্রকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন বলে তাদের কাজের জায়গাগুলো আরও সংকীর্ণ হয়ে যায়। কাজের ক্ষেত্রে তারা কাজের ধরন, পরিবেশ ও স্থান বা দূরত্বকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। ইচ্ছা থাকলেও তাদের নানা বাধার সম্মুখীন হতে হয়। এসব বাধা কাটিয়ে নারীদের এগিয়ে আসতে হবে।’

Manual1 Ad Code

তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৮ সালে বিএসসিএজিতে (অনার্স) প্রথম শ্রেণি ও ১৯৯৭ সালে জেনেটিক্স অ্যান্ড প্লান্ট ব্রিডিং, এমএস-এ প্রথম শ্রেণি অর্জন করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৬ সালে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। যে কোনো সফলতা পেতে পরিবারের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি- এমনটিই মনে করেন শামসুন নাহার। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে আমার বাবাএ বং মা অনুপ্রেরণা, উৎসাহে পড়ালেখার সব পর্যায় ও কর্মজীবনে স্বামীর সার্বিক সহযোগিতা পেয়েছি। কোনো কাজে বাধা পাইনি বরং সবাই উৎসাহ দিয়েছে এগিয়ে যাওয়ার জন্য।’
স্বামী-সন্তান নিয়ে ছোট একটি সুখী পরিবার শামসুন নাহারের। স্বামী ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক। তাদের এক মেয়ে, এক ছেলে। মেয়ে মির্জা নিশাত তাসনিম বর্তমানে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২য় বর্ষে অধ্যয়নরত ও ছেলে মির্জা মুহাইমিনুল ইসলাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হাইস্কুলের এসএসসি পরীার্থী।

Manual4 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code