বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গ্রন্থাগারগুলোর বর্তমান চিত্র বদলাতে হবে   

লেখক:
প্রকাশ: ৩ years ago

Manual4 Ad Code

ফিচার ডেস্ক: আমাদের জীবনে লাইব্রেরি বা গ্রন্থাগার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে গ্রন্থাগার একটা গণপরিসর তৈরি করেছে; যা সাধারণ মানুষের সাংস্কৃতিক চেতনার ভিত গড়েছে। একসময় কারিগরি দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিত প্রযুক্তিবিদ্যাবিষয়ক জার্নাল ছাড়াও গবেষণামূলক বই পড়ার সুযোগ ছিল গ্রন্থাগারে। এর ফলে চৈতন্য গ্রন্থাগারের সঙ্গে পাঠকদের বাল্যস্মৃতি নিবিড়ভাবে জড়িত ছিল। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। আগের মতো পাঠকের পদচারণা নেই গ্রন্থাগারে। এর কারণ গ্রন্থাগারে পাঠকের চাহিদানুযায়ী তথ্য–উপাত্ত সংরক্ষিত নেই। তাই পাঠকের স্বার্থে গ্রন্থাগারে তথ্য–উপাত্ত সংরক্ষণ করা জরুরি। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষার গুণগতমান অর্জনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত জ্ঞানচর্চার একটি সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। এটি করতে পারলে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তবে মানসম্মত উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে সর্বোত্তম অনুশীলনের স্থান হলো গ্রন্থাগার। তাই দেশ ও জাতি গঠনে গ্রন্থাগারের ভূমিকা অপরিসীম।

Manual8 Ad Code

উনিশ শতকের চল্লিশের দশক থেকেই ঢাকায় একটি মধ্যবিত্ত শ্রেণির উদ্ভব ঘটে। এদের নেতৃত্বে একটি শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর সৃষ্টি হয় এবং তাদের মধ্য থেকেই আধুনিক সংবাদপত্র ও সাহিত্য–সংস্কৃতিচর্চার উদ্ভব ঘটে। তাছাড়া একই সময়ে ঢাকায় গড়ে ওঠে ব্রাহ্ম আন্দোলন। ঢাকায় ব্রাহ্ম আন্দোলনের নেতারা ছিলেন মুক্তবুদ্ধিচর্চার ধারক ও বাহক। তাদের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় নানা স্কুল–কলেজ। কালের বিবর্তনে জনগণের সচেতনতার ফলে ধীরে ধীরে ঢাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে শুরু করে। স্বাধীনতার চার দশক পরও বাংলাদেশে কোথাও গ্রন্থাগার সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি। আমাদের দেশে যত্রতত্র যেভাবে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে হাসপাতাল গড়ে উঠেছে, সে হারে যদি গ্রন্থাগার গড়ে তোলা যেত, তাহলে সমাজে আলোকিত মানুষের সংখ্যা বহুলাংশে বেড়ে যেত আর সামাজিক অসংগতি, অস্থিরতা ও অসামাজিকতার প্রভাব সহজেই কমে যেত। উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালে মাত্র ছয়টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার যাত্রা শুরু হয়েছিল। বাংলাদেশে অধিকাংশ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকার কর্তৃক পরিচালিত হয়ে আসছে। উচ্চশিক্ষায় ভর্তি–ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের চাহিদা পূরণে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অপ্রতুল হওয়ার কারণে পরবর্তীকালে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে মোট সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫৫টি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ১১৩টি। এর মধ্যে দুটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।

Manual3 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code