স্করপিয়ন: যেভাবে সন্ধান পাওয়া গেল কুখ্যাত এক মানবপাচারকারীর - BANGLANEWSUS.COM
  • নিউইয়র্ক, রাত ১০:৩৫, ১৭ই মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ


 

স্করপিয়ন: যেভাবে সন্ধান পাওয়া গেল কুখ্যাত এক মানবপাচারকারীর

newsup
প্রকাশিত মে ১০, ২০২৪
স্করপিয়ন: যেভাবে সন্ধান পাওয়া গেল কুখ্যাত এক মানবপাচারকারীর

নিউজ ডেস্ক: ইরাকের একটি শপিং মল। মুখোমুখি বসে ছিলাম ইউরোপের সবচেয়ে কুখ্যাত মানবপাচারকারীদের একজনের সঙ্গে। তাঁর নাম বারজান মাজিদ। যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশের পুলিশের ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে।

মাজিদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল দুই দফায়। ইরাকের ওই শপিং মলে, আর পরদিন তাঁর অফিসে। কতো অভিবাসীকে তিনি ইংলিশ চ্যানেল পার করিয়েছেন, সে সম্পর্কে ধারণাও নেই তাঁর। মাজিদ বললেন, ‘তা এক হাজারও হতে পারে, ১০ হাজারও হতে পারে। আমি আসলে সঠিক জানি না। কারণ সংখ্যাটা গুণে দেখিনি।’

এই মানবপাচারকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করাটা কয়েক মাস আগেও আমার কাছে একপ্রকার অসম্ভব মনে হতো। তিনি আরেকটা নামেও পরিচিত—‘স্করপিয়ন’ (কাঁকড়াবিছা)। এই নামের মানুষটিকেই প্রথম আমি খুঁজতে বেরিয়েছিলাম। এ কাজে সঙ্গে পেয়েছিলাম রব লরিকে। সাবেক এই সেনা সদস্য এখন অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করছেন।

স্করপিয়ন বা মাজিদ—যে নামেই ডাকা হোক না কেন, বছরের পর বছর ধরে তিনি ও তাঁর দলবল মিলে ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে মানবপাচার করে গেছেন। ২০১৮ সাল থেকে গত মাস পর্যন্ত এই চ্যানেল নৌকায় করে পাড়ি দিতে গিয়ে মারা গেছেন ৭০ জনের বেশি। এর মধ্যে ফ্রান্সের উপকূলে সাত বছর বয়সী একটি শিশুসহ মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের।

নৌকায় করে এই যাত্রা বেশ বিপজ্জনক। তবে অর্থ কামানোর জন্য পাচারকারীদের কাছে কাজটি বেশ আকর্ষণীয়। ইংলিশ চ্যানেল পার করাতে জনপ্রতি ৬ হাজার পাউন্ড বা প্রায় ৯ লাখ টাকা নিয়ে থাকেন তাঁরা। ২০২৩ সালে প্রায় ৩০ হাজার অভিবাসী এই চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এ থেকে বোঝাই যায় পাচারকারীদের লাভের অংকটা কতো বড়।

স্করপিয়নের প্রতি আমাদের আগ্রহের শুরু ছোট্ট একটি মেয়ে শিশুর সঙ্গে সাক্ষাতের পর। উত্তর ফ্রান্সের একটি অভিবাসী শিবিরে খোঁজ পেয়েছিলাম তার। একটি ডিঙি নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিতে গিয়ে প্রাণ যেতে বসেছিল ওই শিশুটির। নৌকাটি সাগরে চলাচলের জন্য মোটেও উপযুক্ত ছিল না। এমনকি সেটির ১৯ আরোহীর জন্য কোনো লাইফজ্যাকেটের ব্যবস্থাও ছিল না।

যুক্তরাজ্যের পুলিশ কর্মকর্তারা যখন অবৈধ অভিবাসীদের আটক করে, তখন তাঁদের মুঠোফোনগুলো যাচাই–বাছাই করে দেখে। ২০১৬ সালের পর থেকে সন্দেহজনক একটি নম্বরই বার বার সামনে আসছিল। ওই মুঠোফোনগুলোয় নম্বরটি স্করপিয়ন নামে রাখা ছিল। কখনো কখনো একটি কাঁকড়াবিছার ছবিও দিয়ে নম্বরটি সেভ করা হয়েছিল।

এই স্করপিয়ন কে তা আমাদের কাছে খোলাসা করেছিলেন মার্টিন ক্লার্ক নামে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির (এনসিএ) একজন জ্যেষ্ঠ তদন্তকারী কর্মকর্তা। তিনি বলেছিলেন, তদন্তের এক পর্যায়ে বোঝা যায় স্করপিয়ন আসলে বারজান মাজিদ নামের একজন কুর্দি ইরাকি।

মাজিদ কিন্তু নিজেই পাচারের শিকার হয়েছিলেন। সে ২০০৬ সালের ঘটনা। তখন তাঁর বয়স ২০ বছর। একটি লরিতে করে তাঁকে যুক্তরাজ্যে পাঠানো হয়েছিল। তবে এক বছর পরে তাঁকে দেশটি ছেড়ে যেতে বলা হয়। যদিও আরও কয়েক বছর যুক্তরাজ্যে থেকে গিয়েছিলেন তিনি। এর মধ্যে কিছু সময় নানা অপরাধে কারাগারে থাকতে হয়েছিল তাঁকে।

শেষ পর্যন্ত ২০১৫ সালে মাজিদকে ইরাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এর কিছু সময় পর মানবপাচারের জগতে পা রাখেন তিনি। স্করপিয়ন নামে তাঁর পরিচিত বাড়ে। ধারণা করা হয়, বড় ভাইয়ের হাত ধরেই এ অপরাধে জড়িয়েছিলেন তিনি। তাঁর বড়ভাই তখন বেলজিয়ামের কারাগারে সাজা খাটছিলেন।

২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যে মানবপাচার বাণিজ্যের একটি বড় অংশ মাজেদ ও তাঁর দল নিয়ন্ত্রণ করত বলে মনে করা হয়। এরপর দুই বছর ধরে মানবপাচার রোধে অভিযান চালায় আন্তর্জাতিক পুলিশ। অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া মাজিদের দলের ২৬ সদস্যকে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও বেলজিয়ামের আদালতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তবে মাজিদ ছিলেন পলাতক।

মাজিদের অনুপস্থিতিতেই বেলজিয়ামের একটি আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে বিচারকাজ চলে। মানবপাচারের ১২১টি অভিযোগ দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে তাঁকে ১০ বছরের কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়। জরিমানা করা হয় ১২ কোটি টাকার বেশি। এরপর থেকেই মাজিদের আর কোনো খোঁজখবর পাওয়া যায়নি। এই রহস্যভেদ করতেই নেমেছিলাম আমরা।

স্করপিয়নের খোঁজে তুরস্কে
রব লরির এক সূত্র আমাদের ইরানের এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। ওই ইরানি বলেছিলেন, তিনি যখন ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার চেষ্টায় ছিলেন, তখন তাঁর কথা হয়েছিল মাজিদের সঙ্গে। মাজিদ বলেছিলেন, তিনি তুরস্কে থাকেন। সেখান থেকেই মানবপাচার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন। বেলজিয়ামে মাজিদের বড় ভাইকেও আমরা খুঁজে বের করেছি। তিনি এখন কারাগারের বাইরে। তাঁরও ধারণা—মাজিদ তুরস্কে থাকতে পারেন।

যুক্তরাজ্যে স্থায়ী হতে চাওয়া বেশির ভাগ অভিবাসী আগে তুরস্কে কিছু সময়ের জন্য অবস্থান করেন। কারণ, যুক্তরাজ্যের অভিবাসী আইন অনুযায়ী, আফ্রিকা, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে দেশটিতে প্রবেশের জন্য ভিসা পাওয়া তুলনামূলক সহজ।

একটি সূত্র থেকে আমরা খবর পেয়েছিলাম, মাজিদকে সম্প্রতি তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরের একটি রেস্তোরাঁয় দেখা গিয়েছিল। আমরা সেখানে গেলাম। তবে প্রথমদিকে এই অনুসন্ধান অতটা সহজ ছিল না। আমরা রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপকের কাছে মানবপাচার ব্যবসা সম্পর্কে জানতে চাইলাম। তিনি কাছে থাকা একটি বন্দুক দেখিয়ে বুঝিয়ে দিলেন, আমরা বিপজ্জনক সব মানুষকে নিয়ে কাজ করছি।

তবে খোঁজখবরের পরের ধাপে কিছুটা আশার দেখা পেলাম। খবর পেলাম কাছের একটি মানি এক্সচেঞ্জে সম্প্রতি প্রায় ২৫ কোটি টাকা জমা দিয়েছেন মাজিদ। ওই মানি এক্সচেঞ্জে আমাদের মুঠোফোন নম্বর রেখে এলাম। সেদিন রাতেই রব লরির ফোন বেজে উঠল। তবে কোন নম্বর থেকে ফোন এসেছে তা দেখা যাচ্ছিল না। ওপাশ থেকে একজন নিজেকে মাজিদ বলে পরিচয় দিলেন।

আমরা এতটাই হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম ফোনকল রেকর্ড করার সময় পাইনি। রবের যেটুকু মনে আছে—ফোনদাতা বলেছিলেন, ‘আমি শুনলাম, আপনারা আমার খোঁজ করছেন।’ এ সময় রব জানতে চান—‘আপনি কে? স্করপিয়ন?’ জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আপনি কি আমাকে এ নামেই ডাকতে চান? ঠিক আছে ডাকুন।’

ফোনের অপরপাশের ব্যক্তি আসলেই মাজিদ ছিলেন কি না, তা বলা দুষ্কর ছিল। তবে আমরা তাঁর সম্পর্কে যা জানতাম, তার সঙ্গে ওই ব্যক্তির কথাবার্তার মিল পেয়েছি। যেমন, তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাজ্য থেকে ইরাকে পাঠিয়ে দেওয়ার আগে তিনি নটিংহ্যামে ছিলেন। তবে বর্তমানে মানবপাচারে জড়িত থাকার বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘এটা সত্যি নয়। গণমাধ্যমের সৃষ্টি।’

পরে ফোনকলটি কেটে গিয়েছিল। ওই ব্যক্তি কোথা থেকে ফোন করেছিলেন তা–ও জানতে পারলাম না। তিনি আবার কখন ফোন করতে পারেন, সে সম্পর্কেও কোনো ধারণা ছিল না। এরই মধ্যে স্থানীয় এক সূত্রের কাছ থেকে খবর পেলাম—মাজিদ এখন তুরস্ক থেকে গ্রিস ও ইতালিতে মানবপাচার করছেন।

এরপর আমাদের কাছে যে তথ্য এল, তা ছিল ভয় ধরানো। নারী ও শিশুসহ প্রায় ১০০ জনকে নাকি নৌকা করে পাচার করা হচ্ছে। তবে ওই নৌকায় মাত্র ১২ জনকে বহনের লাইসেন্স রয়েছে। আর সেগুলো চালায় অনভিজ্ঞ পাচারকারীরাই। কোস্টগার্ডকে এড়াতে নৌকাগুলো যে পথ ধরে যায় সেটিও বিপজ্জনক।

পরের বার যখন মাজেদের ফোন এসেছিল, তখন বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলাম। এবারও তিনি পাচারে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করলেন। তাঁর কথায় এটাই বোঝা গেল, যাঁরা মানবপাচারের সঙ্গে সশরীরে যুক্ত থাকেন তাদেরকেই পাচারকারী বলে মনে করেন তিনি, যারা নিয়ন্ত্রণ করেন তারা নয়।

অবশেষে সাক্ষাৎ
এরই মধ্যে আমাদের এক সূত্র জানালেন, তিনি ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে সুলাইমানিয়া শহরের একটি মানি এক্সচেঞ্জে মাজিদকে দেখেছেন। আমরা সেখানে গেলাম। আর সিদ্ধান্ত নিলাম, যদি ইরাকে মাজিদের খোঁজ না পাই, তাহলে এ নিয়ে আর এগোবো না।

এর এক পর্যায়ে ইরাকে মাজিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল রবের ওই সূত্রের। মাজিদ আমাদের নিয়ে খুবই সন্দেহের মধ্যে ছিলেন। তাঁর ধারণা ছিল, আমরা অর্থ দাবি করব বা তাঁকে ইউরোপে ফিরিয়ে নিয়ে যাব। এরপর আমাদের সঙ্গে মাজিদের বেশ কয়েকবার বার্তা আদান–প্রদান হয়। তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে দেখা করতে রাজি আছেন। তবে সাক্ষাতের স্থান ঠিক করবেন তিনি নিজে। আমরা তা মেনে নিইনি। কারণ, ভয় ছিল, মাজিদ ফাঁদ পাততে পারেন।

তারপরই আমাদের মুঠোফোনে একটি বার্তা এল। লেখা—‘আপনারা কোথায়?’। আমরা বললাম, কাছের একটি শপিং মলের দিকে যাচ্ছি। মাজিদ আমাদের ওই মলের নিচতলায় একটি রেস্তোরাঁয় দেখা করার জন্য বললেন। ঠিক সেখানেই আমরা তাঁর প্রথম দেখা পেলাম। মাজিদ বেশ দৃষ্টিনন্দন পোশাক পরে ছিলেন। পরণে ছিল নতুন জিনসের প্যান্ট ও হালকা নীল রঙের শার্ট। এরই মধ্যে কাছের একটি টেবিলে গিয়ে বসলেন তিনজন। বোঝাই যাচ্ছিল তাঁরা মাজিদের নিরাপত্তারক্ষী।

এবারও মাজিদ এখন মানবপাচারে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করলেন। অন্যান্য অপরাধী চক্রের সদস্যরা নাকি নিজেদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁকে জড়াচ্ছেন। তিনি বললেন, ‘তাঁরা যখন গ্রেপ্তার হয়, তখন বলে, আমরা তাঁর (মাজিদ) হয়ে কাজ করি। আসলে তাঁরা কম সাজা পেতেই এটা করে।’

আমরা যখন অভিবাসীদের মৃত্যুর জন্য মাজিদকে দোষারোপ করলাম, তিনি সেই আগের কথাই বললেন—যাঁরা অভিবাসীদের নৌকায় বা লরিতে তুলে দেয় তাঁরাই পাচারকারী। তিনি নিজে কখনো কাউকে নৌকায় তুলে দেননি। তাই নৌকাডুবিতে কারও মৃত্যুর জন্যও তিনি দায়ী নন। তিনি শুধু অর্থ নিয়েছেন, আর অভিবাসীদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হবে তা ঠিক করে দিয়েছেন।

সেদিন আমাদের কথোপকথন সেখানেই শেষ হলো। এর পরদিন সুলাইমানিয়ার সেই মানি এক্সচেঞ্জে রবকে আমন্ত্রণ জানালেন মাজিদ। ইউরোপে যাওয়ার জন্য সেখানে গিয়ে অর্থ পরিশোধ করেন অভিবাসীরা। রব আমাকে বলেছিলেন, সেখানে নাকি তিনি এক ব্যক্তিকে এক বাক্স অর্থ নিয়ে আসতে দেখেছিলেন।

মাজিদ সেদিন রবকে বলেছিলেন, ২০১৬ সালে তিনি কীভাবে এই ব্যবসায় জড়িয়েছিলেন। তখন হাজার হাজার মানুষ অভিবাসী হয়ে ইউরোপে যাচ্ছিল। মাজিদ বলেন, ‘কেউ তাদের ইউরোপে যাওয়ার জন্য জোরাজুরি করেনি। তারা নিজেরাই যেতে চায়। পাচারকারীদের কাছে তারা বলে, দয়া করে আমাদের জন্য এটা করে দিন। কখনো কখনো পাচারকারীদের এটাও বলতে শুনেছি, শুধু সৃষ্টিকর্তার জন্য আমি তাদের সাহায্য করব। এরপরে তারা (অভিবাসী) নানা অভিযোগ করে। আসলে এগুলো সত্যি নয়।’

মাজিদ বললেন, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি বেলজিয়াম ও ফ্রান্সে মানবপাচার কর্মকাণ্ডে শীর্ষ দুই ব্যক্তির একজন ছিলেন। সে সময় লাখ লাখ ডলার লেনদেন করেছেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমি তাদের জন্য বহু কিছু করেছি।’

মাজিদ যদিও দাবি করেন, তিনি এখন আর মানবপাচারে জড়িত নন, তবে তাঁর কাজকর্মে উল্টোটাই মনে হয়েছে। যেমন, রবের সঙ্গে কথা বলার সময় হাতে থাকা মুঠোফোনের দিকে তাকিয়ে ছিলেন তিনি। মাজিদের পেছনে থাকা কাঁচে ওই মুঠোফোনের স্ক্রিনের সব কিছু দেখা যাচ্ছিল। মাজিদ টের না পেলেও রব তা দেখতে পেয়েছিলেন।

মাজিদের মুঠোফোনের স্ক্রিনে রব দেখেছিলেন সারি সারি পাসপোর্ট নম্বর। পরে আমরা জানতে পারি—ওই নম্বরগুলো ইরাকের সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে পাঠায় পাচারকারীরা। ওই কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে ভুয়া ভিসা নেওয়া হয়। তারপর ওই ভিসা দেখিয়ে তুরস্কে যান অভিবাসীরা।

সেটিই ছিল মাজিদ ওরফে স্করপিয়নের সঙ্গে আমাদের শেষ দেখা। এরপর তাঁর সঙ্গে এই সাক্ষাতের বিষয়ে আমাদের কথা হয়েছিল বেলজিয়ামের সরকারি কৌঁসুলি অ্যান লুকোউইয়াকের সঙ্গে। মাজিদকে দোষী সাব্যস্ত করার কাজে সংশ্লিষ্ট ছিলেন তিনি। অ্যান বলেন, ‘একদিন না একদিন আমরা তাঁকে পাকড়াও করবই।’

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।