নারী কনস্টেবলকে চাকরি পুরস্কার ও আইনি সহায়তার প্রস্তাব - BANGLANEWSUS.COM
  • নিউইয়র্ক, সকাল ১১:৪৪, ২২শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ


 

নারী কনস্টেবলকে চাকরি পুরস্কার ও আইনি সহায়তার প্রস্তাব

editorbd
প্রকাশিত জুন ৮, ২০২৪
নারী কনস্টেবলকে চাকরি পুরস্কার ও আইনি সহায়তার প্রস্তাব

ভারতের নবনির্বাচিত বিজেপি-দলীয় এমপি ও অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াতের গালে থাপ্পড় মেরে গ্রেফতার হওয়া সেই সিআইএসএফের নারী কনস্টেবল কুলবিন্দর কৌরের জন্য পুরস্কার, চাকরি এমনকি আইনি সহায়তা দেয়ার ঘোষণা আসতে শুরু করেছে। কুলবিন্দর কৌরের জন্য ১ লাখ রুপি পুরস্কার ঘোষণা করেছেন শিবরাজ সিং বাইনস নামে মোহালির এক ব্যবসায়ী। তিনি জানান, থাপ্পড়কাণ্ডে অভিযুক্তকে নারীকে ১ লাখ রুপি পুরস্কার দেবেন। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে নেটদুনিয়ায়। শুধু তাই নয়, একটি ভিডিও শেয়ার করে কুলবিন্দরকে কুর্নিশও জানান ওই ব্যবসায়ী। পাশাপাশি পাঞ্জাবের সংস্কৃতি এবং মানুষের ভাবাবেগকে বাঁচানোর জন্য ওই সিআইএসএফের কনস্টেবলের প্রশংসাও করেন তিনি। সম্মিলিত কিষাণ মোর্চা, কিষাণ মজদুর মোর্চার তরফে শুক্রবার জানানো হয়, তারা কুলবিন্দরের সমর্থনে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে। আজ রোববার কুলবিন্দরের সমর্থনে কৃষকরা মাঠে নামবেন বলে জানা গেছে। এছাড়া কারাগার থেকে মুক্তি লাভের পর তাকে সম্মাননা দেবে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন কৃষকরা। কৃষকরা জিন্দ জেলার উচানা কালানে একটি সভা করে যেখানে তারা কুলবিন্দর কৌরকে সম্মান জানানোর ঘোষণা দেয়। কৃষকরা উচানা কালান শহরের তহসিল চত্বরে জড়ো হয় এবং এখানেই করখাস্ত সিআইএসএফ পুলিশকে স্বাগত জানাতে একটি প্রস্তাব পাস করেছে। তারা বলেন যে, ‘শেরদিল বেটি’ (সাহসী হৃদয় কন্যা) একটি প্রশংসনীয় কাজ করেছে, কারণ এই থাপ্পড় বিশ্বে প্রতিধ্বনিত হয়েছে এবং যারা তাদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য জাতির মধ্যে সম্প্রদায় ও ধর্মকে হেয় করার জন্য অকথ্য ভাষা ও অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করে তাদের জন্য কঠোর বার্তা দিয়েছে। সম্মিলিত কিষাণ মোর্চার এক নেতা বলেন, ‘আমরা সঠিক তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। কৌর এর সঙ্গে যাতে কোনো অবিচার না হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের। উল্লেখ্য, কনস্টেবলের ভাই শের সিংও একজন কৃষক নেতা এবং কিষাণ মজদুর সংঘর্ষ কমিটির সেক্রেটারি।
নারী কনস্টেবলের পাশে প্রথম দাঁড়ান বলিউডের নামজাদা সংগীত পরিচালক ও গায়ক বিশাল দাদলানি। শুক্রবার রাতেই বিশাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট দিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান। বলেন, তিনি ওই নারী কনস্টেবলকে চাকরি দিতে চান। সেদিনের ঘটনার একটা ভিডিও শেয়ার করে ক্যাপশনে বিশাল লেখেন, ‘আমি কখনোই হিংসা সমর্থন করি না। তবে আমি এই সিআইএসএফ কর্মীর রাগের কারণ বুঝতে পারি। সিআইএসএফ যদি তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়, তবে আমি তার চাকরি নিশ্চিত করব, যদি তিনি সেই চাকরি গ্রহণ করতে চান। জয় হিন্দ। জয় জওয়ান। জয় কিষাণ।’
শের সিং মাহিওয়াল নামে একজন কুলবিন্দরের পাশে দাঁড়িয়ে নিজেকে তার ভাই হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি বলেন, বোনকে পুরোপুরি সমর্থন করি। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে ওই কনস্টেবলের ভাই হিসেবে বক্তব্যও রাখতে শোনা যায় তাকে। বিমানবন্দরে কঙ্গনা মারার ঘটনার পর কুলবিন্দরের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়। কোর্ট অব এনকোয়ারির নির্দেশ দেয় সিআইএসএফ। এরই মধ্যে শের সিং মাহিওয়াল জানান, ওকে এ বিষয়ে সম্পূর্ণ সমর্থন করি। এই ব্যক্তি কপুরথালায় কিষাণ মজদুর সংঘর্ষ কমিটির অর্গানাইজেশন সেক্রেটারি বলে জানা গেছে। এক ভিডিও বার্তায় কঙ্গনা বলেন, তিনি সংবাদমাধ্যম ও শুভানুধ্যায়ীদের অনেকের কাছ থেকে প্রচুর ফোন পাচ্ছেন। ওই নারী কনস্টেবল আমার দিকে এগিয়ে এসে মুখে আঘাত করেন এবং আমাকে নিপীড়ন করতে শুরু করেন। কারণ জিজ্ঞাসা করতে তিনি (নারী কনস্টেবল) বলেন, যে তিনি কৃষক আন্দোলন সমর্থন করেন।’ কঙ্গনা আরও বলেন, ‘আমি নিরাপদ আছি। কিন্তু আমি উদ্বিগ্ন যে পাঞ্জাবে সন্ত্রাস বাড়ছেৃকীভাবে আমরা এটা সামলাব?’কঙ্গনাকে হেনস্থা করার বিষয়ে ওই নারী কনস্টেবল বলেন, ‘কঙ্গনা বলেছিলেন যে কৃষকেরা দিল্লিতে বিক্ষোভ করছেন; কারণ- তাদের ১০০ বা ২০০ রুপি করে দেওয়া হয়েছিল। সেই বিক্ষোভকারীদের একজন ছিলেন আমার মা। এজন্য মায়ের সম্মান রক্ষায় সে এমন কাজ করেছে।’এদিকে কঙ্গনাকে থাপ্পড়ের ঘটনায় কুলিন্দর কৌরকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একটি মামলাও দায়ের হয়েছে। বিমানবন্দরে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করা সিআইএসএফ এ ঘটনা তদন্তেরও পদক্ষেপ নিয়েছে। সিআইএসএফ-এর পরিচালক বিনয় কাজলাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে যে, কুলবিন্দর তার ‘আবেগজনক বিস্ফোরণের’ জন্য ‘ক্ষমা চেয়েছেন’ – তিনি কঙ্গনাকে খামার আন্দোলনে মহিলাদের সম্পৃক্ততা সম্পর্কে তার মন্তব্যের জন্য মুখোমুখি হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন – তবে এ বিষয়ে বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক শব্দ ছিল না।

পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে বিভাগের তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে সিআইএসএফ ব্যবস্থা নেবে বলে সূত্র জানিয়েছে। কুলবিন্দরের স্বামীও একজন সিআইএসএফ কর্মী যিনি ডগ স্কোয়াডের সাথে যুক্ত এবং একই জায়গায় কর্মরত। যারা বহিষ্কৃত পুলিশ সদস্যের সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন ৮২ বছর বয়সী খামারকর্মী মহিন্দর কৌর, যিনি আগে খামারের প্রতিবাদে তার মন্তব্যের জন্য কঙ্গনার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছিলেন। ‘কঙ্গনার কথা বলার কোনো জ্ঞান নেই। যেহেতু তিনি এমপি নির্বাচিত হয়েছেন, তাই তাকে ভদ্র হতে হবে। তিনি পাঞ্জাবিদের চরমপন্থী বলার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি আমাদের জন্য অপমানজনক শব্দ ব্যবহার করেছিলেন’, বলেছেন এই ব্যক্তি। হিমাচলের মান্ডির বর্তমান সাংসদ কঙ্গনা, এক্স ওয়েবসাইটে ‘দিল্লির দাদি শাহীন বাগ’ হিসাবে মহিন্দরের একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন এবং দাবি করেছিলেন যে, ‘এ ধরনের মহিলারা’ ১০০ টাকার বিনিময়ে বিক্ষোভের জায়গায় উপস্থিত হয়। পরে পোস্টটি মুছে দেন অভিনেত্রী। মহিন্দরের দায়ের করা মানহানির মামলার ভিত্তিতে বাথিন্দা আদালত কঙ্গনার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে, যা পাঞ্জাব এবং হরিয়ানা হাইকোর্টের বেঞ্চ ছিল। এদিকে, পাঞ্জাব বিজেপির সভাপতি সুনীল জাখর বিমানবন্দরের ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ভিন্নমত প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে যে কোনো ধরনের সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর নিন্দা করা উচিত।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া, পূবের কলম।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।