ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধে চাই সচেতনতা - BANGLANEWSUS.COM
  • নিউইয়র্ক, সন্ধ্যা ৬:৪৬, ১৪ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ


 

ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধে চাই সচেতনতা

editorbd
প্রকাশিত জুন ১৩, ২০২৪
ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধে চাই সচেতনতা

ডেস্ক রিপোর্ট: দেশের প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষ ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। এ সমস্যা এখন নীরব মহামারি হিসেবে দেখা দিয়েছে। প্রযুক্তির প্রতি আসক্তি মানুষের জীবনযাপনে বিরূপ প্রভাব ফেলছে; পরিবর্তন আসছে খাদ্যাভ্যাসে, কমছে কায়িক শ্রম। এতে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ফ্যাটি লিভারসহ অসংক্রামক রোগ। এসব রোগ প্রতিরোধে প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। গ্লোবাল ফ্যাটি লিভার দিবস উপলক্ষে গতকাল বুধবার ‘এখনই পদক্ষেপ নিন, ফ্যাটি লিভার পরীক্ষা করান’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন বক্তারা। সমকাল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) হেপাটোলজি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সমকাল কার্যালয়ের সভাকক্ষে এ অনুষ্ঠানের সহযোগিতায় ছিল এভারেস্ট ফার্মাসিউটিক্যালস। এতে সভাপতিত্ব করেন সমকালের উপদেষ্টা সম্পাদক আবু সাঈদ খান। সঞ্চালনা করেন সমকালের বার্তা সম্পাদক (অনলাইন) গৌতম মণ্ডল। স্বাগত বক্তব্যে আবু সাঈদ খান বলেন, চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম না করা ব্যক্তিদের এই রোগ বেশি হয়। এ ধরনের অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বাজেট বাড়ানো জরুরি। অনুষ্ঠানে বিএসএমএমইউ হেপাটোলজি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল বলেন, ফ্যাটি লিভার দেহে ক্ষতি করে ধীরে ধীরে। এ কারণে মানুষ এতে গুরুত্ব কম দেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম আব্দুর রহমান বলেন, এর চিকিৎসা অনেক ব্যয়বহুল। সারাবিশ্বে মাত্র দুটি ওষুধ দিয়ে এই রোগ প্রতিরোধে কাজ করা হচ্ছে। বিএসএমএমইউ লিভার বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এম এ রহিম বলেন, লিভারে ৫ শতাংশের বেশি চর্বিযুক্ত হলে একপর্যায়ে প্রদাহ হয়, তখন তাকে ন্যাস বলা হয়। এক্ষেত্রে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজের হেপাটোলজি বিভাগের প্রধান ডা. আশরাফুল আলম বলেন, হাসপাতালে সেবা নেওয়া ৯০ শতাংশের মধ্যে ফ্যাটি লিভার দেখা যাচ্ছে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ইজাজুল হক বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রামে ৩১ শতাংশ মানুষের ফ্যাটি লিভার সমস্যা। বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অব সার্জনসের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ বলেন, ৯০ শতাংশ অভিভাবক সন্তানের ওবিসিটির বিষয়ে গুরুত্ব দেন না। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের কারণে এ সমস্যা দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল প্র্যাকটিশনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মুনিরুজ্জামান ভুইয়া বলেন, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের কারণে গ্রামের মানুষের মধ্যে ফ্যাটি লিভার দেখা দিচ্ছে। এই রোগ প্রতিরোধে সচেতনতার পাশাপাশি গবেষণায় জোর দিতে হবে। ক্লিনিক্যাল রিসার্চ অর্গানাইজেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হেলাল উদ্দিন বলেন, জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণের আগে এই রোগে কত জন আক্রান্ত, তা বের করতে হবে। এজন্য জাতীয় পর্যায়ে গবেষণা প্রয়োজন। স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ডা. জামালউদ্দিন চৌধুরী বলেন, এ ধরনের অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সরকারের বিনিয়োগ রয়েছে। এটি নিয়ে কীভাবে জাতীয় পর্যায়ে গবেষণা করা যায়, বিষয়টি নিয়ে অবশ্যই আলোচনা করব। স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. বায়েজিদ খুরশিদ রিয়াজ বলেন, প্রতি পাঁচজনে একজন ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। অস্বাস্থ্যকর খাবার, অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। এভারেস্ট ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, বাংলাদেশে ওষুধ উৎপাদনে মেধাস্বত্ব সুবিধা ২০২৬ সালের পর থাকবে না। ফলে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ব। গোলটেবিল আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ এপিডেমিওলজি সোসাইটির সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক শাহ মনির হোসেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।