ধান-চাল সংগ্রহে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় - BANGLANEWSUS.COM
  • নিউইয়র্ক, সন্ধ্যা ৬:২৬, ১৪ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ


 

ধান-চাল সংগ্রহে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয়

editorbd
প্রকাশিত জুন ১৫, ২০২৪
ধান-চাল সংগ্রহে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয়

ডেস্ক রিপোর্ট: চলতি বোরো মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানের সফলতা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এ পর্যন্ত অর্ধেক ধান-চাল কেনা সম্ভব হয়নি। চলতি মৌসুমে পাঁচ লাখ টন ধান কেনার ঘোষণা দেওয়া হলেও এক মাসে কেনা সম্ভব হয়েছে মাত্র ৩৮ হাজার ১২০ টন ধান। আর চাল কেনা সম্ভব হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার ৪০ শতাংশ। খাদ্য মন্ত্রণালয় বলছে, অভিযান সফল করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় ধান-চাল সংগ্রহের ঘোষণা দেয় গত ২১ এপ্রিল। চলতি বোরো মৌসুমে ১৭ লাখ টন ধান-চাল কেনার ঘোষণা দিয়েছে সরকার, যার মধ্যে ধান পাঁচ লাখ টন, সিদ্ধ চাল ১১ লাখ টন ও আতপ চাল দেড় লাখ টন। প্রতি কেজি বোরো ধানের সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ টাকা, সিদ্ধ চাল ৪৫ টাকা এবং আতপ চাল ৪৪ টাকা। একই সঙ্গে ৩৪ টাকা দরে ৫০ হাজার টন গম কেনারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত ৭ মে শুরু হওয়া এই অভিযান আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। তবে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরুর প্রায় এক মাসে সরকার মাত্র ৩৮ হাজার ১২০ টন ধান কিনতে পেরেছে। কৃষকরা বলছেন, সরকার মণপ্রতি ধানের দাম ১ হাজার ২৮০ টাকা ঘোষণা করলেও তারা পাচ্ছেন ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা। সরকারের দেওয়া সুযোগ তারা নিতে পারছেন না। ধান কাটার সময়ের সঙ্গে সরকারের ধান সংগ্রহের সময়ের মিল না থাকায় কৃষকরা সমস্যায় পড়ছেন। খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার সমকালকে বলেন, ‘ধান সংগ্রহের সময় বিভিন্ন পয়েন্টে জেলা প্রশাসকরা ছিলেন। আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, কৃষি উপপরিচালক, কৃষক ও চালকল মালিকরাও ছিলেন। তাদের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছি।’কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, ‘ধান কেনার সময় খাদ্য মন্ত্রণালয় নানা শর্ত জুড়ে দেয়। এসব কারণে কৃষকরা সরকারের কাছে ধান বিক্রিতে আগ্রহী হয় না। এই জটিলতা দূর করে এজেন্টের মাধ্যমে বা গ্রামীণ বাজারে বিক্রয়কেন্দ্র তৈরি করে যখন সরকার কৃষকের ধান কিনবে, তখন বাজারে প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হবে।’ধান-চাল কেনার ঘোষণার সময় খাদ্যমন্ত্রী জানান, এ বছর বেশি ধান কেনা হবে হাওর থেকে। কৃষক যাতে ন্যায্যমূল্য পান, সেজন্য ধানের দাম কেজিতে ২ টাকা বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা বলে, তারপরও সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে আগ্রহী হচ্ছেন না কৃষক। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ বছর হাওরে ধান কাটা শুরু হয় ১৫ এপ্রিল। আর সরকার ধান কেনা শুরু করে ৭ মে। অর্থাৎ সরকারের ধান কেনা শুরুর আগেই মহাজনের কাছে ধান বিক্রি করেন অনেক কৃষক।এ কারণেও ধান সংগ্রহে পিছিয়ে পড়েছে সরকার। গত ২ জুনের কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, সারাদেশে ৯৪ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরুর প্রায় এক মাসে সরকার ৩৮ হাজার ১২০ টন ধান কিনতে পেরেছে। খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, আতপ চাল সংগ্রহের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ টন। পরে লক্ষ্যমাত্রা ৫০ হাজার টন বাড়ানো হয়। কিন্তু এ পর্যন্ত ৬০ হাজার ১৭৫ টন আতপ চাল সংগ্রহ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৪০ শতাংশ। সংগ্রহ অভিযানের নিয়ম অনুযায়ী, ফসল ওঠার পর গ্রামের কৃষকদের উপজেলা খাদ্য গুদামে গিয়ে ধান দিয়ে আসতে হয়। এ সময় ধানের আদ্রতা থাকতে হয় ১৪ শতাংশ। সংকট তৈরি হয় এই আদ্রতা নিয়ে। নির্ধারিত আদ্রতার বেশি হলে, ধান ফেরত দেওয়া হয়। তখন গাড়ি ভাড়া করে গুদাম থেকে ধান বাড়িতে আনতে হয়। এই জটিলতার কারণেও কৃষকরা সরকারকে ধান দিতে আগ্রহী হন না। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘ধান মিলারদের কাছে চলে গেলে তারাই বাজার নিয়ন্ত্রণ করে, ইচ্ছেমতো চালের দাম বাড়ায়। অথচ তারা কম দামে ধান সংগ্রহ করছে।’ রংপুর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আশরাফুল আলম বলেন, ‘ধানের দর নির্ধারণ করা হয় মূলত বাজার স্থিতিশীল রাখতে। সরকার এটি না করলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’

সুত্র:সমকাল

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।