নদীর তীররক্ষা বাঁধ নিয়ে উত্তরাঞ্চলের মানুষ শঙ্কায় - BANGLANEWSUS.COM
  • নিউইয়র্ক, বিকাল ৩:৩৬, ১৬ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ


 

নদীর তীররক্ষা বাঁধ নিয়ে উত্তরাঞ্চলের মানুষ শঙ্কায়

editorbd
প্রকাশিত জুলাই ৩, ২০২৪
নদীর তীররক্ষা বাঁধ নিয়ে উত্তরাঞ্চলের মানুষ শঙ্কায়

ডেস্ক রিপোর্ট: ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর তীররক্ষা বাঁধ নিয়ে শঙ্কায় উত্তরাঞ্চলের মানুষ। কারণ বর্ষা এলেই উত্তরের জনপদ রংপুর, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের মানুষের শঙ্কা বাড়ে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ভাঙনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ওসব নদণ্ডনদীর দুইপাড়সহ চরাঞ্চলের বসিন্দারা। শুষ্ক মৌসুমে বাঁধ সংস্কার না হওয়ায় এবারো বর্ষা ঘনিয়ে আসায় ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা নিয়ে তাদের দিন কাটছে তাদের। উত্তরাঞ্চলের জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ১৬টি নদণ্ডনদীর মধ্যে সবচেয়ে ভাঙনপ্রবণ ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমার। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমেই ভাঙনের কবলে পড়ে ঘরবাড়ি ও ফসল হারাতে হয় এসব নদণ্ডনদীর দুইপাড়ের বাসিন্দাদের। তবে চারটি প্রধান নদণ্ডনদীর মধ্যে শুধু ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও দুধকুমারে ভাঙনরোধে তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প চলমান। কিন্তু তিস্তায় প্রকল্প নেয়া হয়নি। যে কারণে এ বছর তিস্তা পারের বাসিন্দারা ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং ভুক্তভোগীদের সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, প্রতি বছর বন্যায় প্রথম আক্রান্ত হয় রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারি, কোলকোন্দ, নোহালী, গঙ্গাচড়া সদর এবং গজঘণ্টা ইউনিয়ন। এর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় গার্নারপাড়, বিনবিনার চর, শঙ্করদহ, পশ্চিম ইচলি, পূর্ব ইচলি, বাঘেরহাট, চর ঈশ্বরপুর, জয়রাম মৌজা, মর্নেয়া, রমাকান্ত এবং সারাই। এ ছাড়া প্রতি বছর তিস্তা নদীর পানিতে কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের গদাই, পাঞ্জরভাঙ্গা, নিচপাড়া, তালুকশাহবাজ, ঢুসমারা এবং হরিশ্বর গোপিভাংগা; টেপামধুপুর ইউনিয়নের চরগনাই, হযরত খাঁ; হারাগাছ ইউনিয়নে চর নজিরদহ শহীদবাগ এবং চর নজিরদহ এলাকার মানুষ ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। অথচ বর্ষা পুরোপুরি শুরুর আগে বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) মেরামত করলে মানুষের ভোগান্তি অনেক কম হতো। সূত্র জানায়, ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষায় অনেক আগে স্থায়ীভাবে একটি বাঁধের কাজ শুরু হয়েছে। বর্তমানে চলমান রয়েছে বাম তীর রক্ষাকাজও। ব্রহ্মপুত্রের শুধু ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোয় তীর রক্ষার কাজ করা হলেও পর্যায়ক্রমে নদের দুই তীর রক্ষা করার পরিকল্পনা করেছে পাউবো। তাছাড়া গত বছর থেকে চলমান ধরলা নদীর তীর রক্ষার কাজও। এরইমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ। ফলে ধরলা নদীর ভাঙন প্রবণতা অনেকটা কমে আসবে বলে আশাবাদী পাউবো। একইভাবে দুধকুমারেও চলমান তীর রক্ষা প্রকল্পের কাজ। কয়েকটি গ্রুপ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজটি করা হচ্ছে। দুধকুমারেও শেষ হয়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ। তবে এসব নদণ্ডনদীর দুই পাড় ভাঙনরোধে প্রকল্পের কাজ চলমান থাকলেও ব্রহ্মপুত্রের মাঝে ছোট ছোট চর ও দ্বীপগুলো রক্ষায় কোনো প্রকল্প নেয়া হয়নি। তিস্তা নিয়ে মহাপরিকল্পনার কারণে শুধু তিস্তার তীর রক্ষায় কোনো প্রকল্প নেয়নি সরকার। এ কারণে গত বর্ষা মৌসুমে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও দুধকুমারের ভাঙন কমে গেলেও ভেঙেছে তিস্তা। তবে সেখানে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করেছিল পাউবো। বর্তমানে তিস্তা নদীর ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, হাতীবান্ধা উপজেলার গোড্ডিমারী, সিন্দুর্ণা, ডাউয়াবাড়ী, পাটিকাপাড়া, সিঙ্গিমারী, কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভাণ্ডার, ভোটমারী, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ও সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, পঞ্চগ্রাম ও গোকুন্ডা ইউনিয়নের কয়েকটি ওয়ার্ড। কিছুকিছু এলাকায় বালির বাঁধ ও ব্লক দেয়া হলেও পুরোপুরি নদী শাসন না থাকায় প্রতি বছর বন্যায় নদীগর্ভে চলে যায় ফসলি জমি ও বসতভিটা। ভাঙন রোধে পাউবোর আগাম কোনো প্রস্তুতি না থাকায় নদীপারের বাসিন্দারা শঙ্কায় রয়েছেন। তাছাড়া তিস্তা নদীতে পরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় প্রতি বছর কমবেশি ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এদিকে এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, কুড়িগ্রাম জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও দুধকুমারের স্থায়ী তীর রক্ষায় প্রকল্প চলমান থাকলেও মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আশায় তিস্তায় কোনো স্থায়ী প্রকল্প নেয়া হয়নি। এ কারণে বিগত বছরের মতো এবারো ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ করার কথা রয়েছে। তবে আগামীতে অন্যান্য নদণ্ডনদীর মতো তিস্তায়ও স্থায়ী প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করা হচ্ছে। প্রকল্প পাস হলে কাজ শুরু করা হবে। অন্যদিকে রংপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলামও স্বীকার করেন তিস্তার ডানতীর রক্ষা বাঁধের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে গঙ্গাচড়া উপজেলার গার্নারপাড় এবং মর্নেয়ায় বাঁধের কিছু পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ। এ ছাড়া কাউনিয়া উপজেলার গদাই ইউনিয়ন এবং পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নে তিস্তা নদীসংলগ্ন তীরে ভাঙন রয়েছে।

সুত্র:এফএনএস ডটকম

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।