বাইডেনকে নির্বাচনে থাকতে বলছে পরিবার - BANGLANEWSUS.COM
  • নিউইয়র্ক, দুপুর ২:৩৪, ১৬ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ


 

বাইডেনকে নির্বাচনে থাকতে বলছে পরিবার

editorbd
প্রকাশিত জুলাই ৪, ২০২৪
বাইডেনকে নির্বাচনে থাকতে বলছে পরিবার

ডেস্ক রিপোর্ট: প্রথম প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে নাস্তানাবুদ হওয়ায় নিজ দলের ভেতরেই তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছেন জো বাইডেন। ৮১ বছর বয়সী এ নেতাকে সরিয়ে অন্য কাউকে প্রার্থী করা যায় কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। রাজনীতির এমন টালমাটাল অবস্থায় পরিবারকে ঠিকই পাশে পাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তারা চায়, বাইডেন যেন শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকেন। এমনকি বিতর্কে খেই হারানোর জন্য বাইডেন নন, তার উপদেষ্টাদেরই দায়ী করছেন স্বজনরা।
গত রোববার (২০ জুন) ক্যাম্প ডেভিডে পরিবারের সঙ্গে মিলিত হয়েছিলেন জো বাইডেন। পারিবারিক বৈঠকে প্রেসিডেন্টের স্ত্রী, সন্তান এবং নাতি-নাতনিরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে বাইডেনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা হয়।

নিউইয়র্ক টাইমসের খবর অনুসারে, বাইডেনকে তার পরিবার বলেছে, তিনি আরও চার বছর দেশ চালাতে সক্ষম, তা এখনো দেখিয়ে দিতে পারেন।প্রথম বিতর্কে কীভাবে নাস্তানাবুদ হয়েছেন এ ডেমোক্র্যাট নেতা, তা জানেন পরিবারের সদস্যরা। তা সত্ত্বেও তারা বিশ্বাস করেন, ট্রাম্পকে হারানোর জন্য বাইডেনই সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি। বার্তা সংস্থা এপি’র খবরে বলা হয়েছে, চাপ সামলে শেষ পর্যন্ত বাইডেনকে নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকার বিষয়ে সবচেয়ে জোরালো সমর্থন দিয়েছেন তার স্ত্রী জিল ও পুত্র হান্টার।প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠরা আরও দাবি করেন, বিতর্কের জন্য বাইডেনকে ঠিকভাবে প্রস্তুত করেননি উপদেষ্টারা।

গত সপ্তাহে বিতর্কের সময় ট্রাম্পের ঝাঁঝালো আক্রমণের বিরুদ্ধে কর্কশ ও কম্পিত কণ্ঠে বলতে শোনা যায় মার্কিন প্রেসিডেন্টকে। কিছু কিছু সময় পুরো বাক্যও শেষ করতে পারেননি তিনি। বিপরীতে ট্রাম্প একের পর এক মিথ্যা দাবি করতে থাকেন। বলেন, ২০২০ সালের নির্বাচনে তিনিই জিতেছিলেন। কিন্তু সেই ভুলগুলো ধরিয়ে দেওয়া বা তার কড়া প্রতিবাদ করতে পারেননি বয়োবৃদ্ধ বাইডেন। ফ্লোরিডাভিত্তিক অ্যাটর্নি এবং বাইডেনের অন্যতম প্রধান তহবিল সংগ্রহকারী জন মরগান বলেন, আমার বিশ্বাস, তাকে (প্রেসিডেন্ট) অতিরিক্ত শেখানো হয়েছিল, তিনি অতিরিক্ত অনুশীলন করেছিলেন। বাইডেনের ঘনিষ্ঠ আরেক ব্যক্তি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, উপদেষ্টাদের কাছে তিনি অনুরোধ করেছিলেন, বিতর্কের আগে যেন প্রেসিডেন্ট পর্যাপ্ত বিশ্রাম পান, তা নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু সেটি হয়নি। বাইডেন ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন।তার কথায়, অসুস্থ ও ক্লান্ত দেখানো প্রেসিডেন্টকে বাইরে পাঠানো খুবই খারাপ সিদ্ধান্ত ছিল।

বিকল্প খুঁজছেন ডেমোক্র্যাটরা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম বিতর্কে দুর্বল পারফরম্যান্সের পর চাপের মুখে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন। জোরালো হচ্ছে নির্বাচনী দৌড় থেকে তার সরে দাঁড়ানোর দাবি। বিভিন্ন গণমাধ্যমের পাশাপাশি খোদ দলীয় নেতা আর অর্থদাতারাও বাইডেনের বয়স ও স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম বলছে, বিকল্প খুঁজছেন ডেমোক্র্যাটরা। রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিপক্ষে প্রথম প্রেসিডেনসিয়াল বির্তকে বারবারই কথার খেই হারিয়ে ফেলেছিলেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ৮১ বছর বয়সী জো বাইডেন। আটকে যাচ্ছিল তার কথা।এরআগে বেশ কয়েকবার মঞ্চে ও সিঁড়িতে উঠতে গিয়ে পড়েও গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়স্ক এই প্রেসিডেন্ট। এ অবস্থায় নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বয়স, স্বাস্থ্য ও মানসিক সক্ষমতার বিচারে বাইডেনের প্রার্থীতা এখন প্রশ্নের মুখে। বিভিন্ন জরিপে দেখা যায়, অর্ধেকেরও বেশি মার্কিন ভোটার বাইডেনের বিকল্প প্রার্থী চান। নিউইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকীয় বোর্ডের পর আটলান্টা জার্নাল, ফিলাডেলফিয়া ইনকোয়েরারসহ বেশ কয়েকটি মার্কিন গণমাধ্যম এরইমধ্যে বাইডেনকে সরে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

খোদ নিজ দলেও সমালোচনার মুখে বাইডেন। বারাক ওবামাসহ অনেক শীর্ষ নেতা তার পক্ষে দাঁড়ালেও অনেকেই উদ্বিগ্ন। অনেকেই বিকল্প প্রার্থীর কথা ভাবছেন। তবে নিয়ম অনুযায়ী বাইডেন নিজে থেকে সরে না দাঁড়ালে প্রার্থী নির্বাচন কঠিন হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এরইমধ্যে বাইডেনের বিকল্প প্রার্থী হিসেবে বেশ কয়েকজনের নাম এসেছে। এরমধ্যে রয়েছেন কমলা হারিস, মিশিগান অঙ্গরাজ্যের গভর্নর গ্রেচেন হুইটমার, পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শ্যাপিরো, ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গেভিন নিউসম, জর্জিয়ার সিনেটর রাফায়েল ওয়ারনক ও বারাক ওবামার স্ত্রী মিশেল ওবামাসহ আরও অনেকে। বাইডেনের দুর্বল পারফরমেন্সে উদ্বিগ্ন ডোনাররাও। সংকটের মুখে পড়তে পারে প্রচারণার জন্য তহবিল সংগ্রহ।যদিও নিজের বয়স ও স্বাস্থ্যগত দুর্বলতার কথা স্বীকার করেও ট্রাম্পকে হারানোর ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বাইডেন। জয়ের ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছেন বড় অর্থদাতাদের।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।