ওষুধ শিল্পেও শ্রমিক অসন্তোষ, ১৯ কারখানায় উৎপাদন বন্ধ

লেখক:
প্রকাশ: ২ years ago

Manual8 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

তৈরি পোশাক শিল্পের পাশাপাশি দেশের ওষুধ শিল্পে শ্রমিকদের চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাঁদের অসন্তোষের কারণে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশের বড় ওষুধ কারখানাসহ ১৯টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে মালিক পক্ষ।

Manual7 Ad Code

আজ সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনের সময়ও জানানো হয়, হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানায় চার শতাধিক মানুষ জিম্মি অবস্থায় রয়েছেন। এ তথ্য জানান বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির মালিকেরা।

Manual1 Ad Code

ওষুধ শিল্প মালিকেরা বলেন, ওষুধ শিল্পে বিগত ৫০ বছরে ধরে কোনো শ্রমিক উত্তেজনা বা আন্দোলন হয়নি। কিন্তু ইদানীং দেশের বিভিন্ন স্থানে ওষুধ কারখানায় শ্রমিকেরা বিভিন্ন দাবি ও আইন বহির্ভূত আন্দোলন ও ভাঙচুর করছে। তারা কারখানায় কর্মকর্তাদের ঢুকতে বাধা দিচ্ছে। এতে ওষুধ তৈরি ব্যাহত হচ্ছে। ফলে অচিরেই দেশে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

শিল্প মালিকেরা বলেন, শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়ার পর দু–একদিন কাজ করছে। আবার তারা ভিন্ন অযৌক্তিক দাবি উত্থাপন করছে। একটি কারখানায় বেতন বাড়ানো হলেও অন্যরা আবার সক্রিয় হয়ে উঠছে। এভাবে ওষুধ শিল্পে চরম অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় গত কয়েক দিনে তাঁরা ১৯টি কারখানা বন্ধ করে দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হালিমুজ্জামান বলেন, তাঁদের কারখানায় চার শতাধিক লোককে সকাল থেকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুইজন অন্তঃসত্ত্বা নারীও রয়েছেন। দীর্ঘক্ষণ আটক থাকায় অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

Manual5 Ad Code

বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সভাপতি ও ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মোক্তাদির বলেন, ওষুধ শিল্পে অস্থিরতা নিরসনে তাঁরা প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন। কিন্তু আশানুরূপ কোনো ফল তাঁরা দেখতে পাচ্ছেন না। এই শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত হলে দেশের চাহিদার পাশাপাশি বিদেশ রপ্তানিও বাধাগ্রস্ত হবে।

ওষুধ শিল্প মালিকেরা শ্রমিকদের দাবি–দাওয়া, মিছিল, ঘেরাও কর্মসূচি বা ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ বন্ধ করে কারখানায় উৎপাদন উৎপাদন শুরু করা অত্যন্ত জরুরি বলে তাঁরা মনে করছেন। তাঁরা বলেন, শ্রমিকেরা নিত্যনতুন দাবি উত্থাপন করছে। এতে পুরো এই শিল্পে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

শিল্প মালিকেরা বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নিতে তাঁরা বাধ্য। কিন্তু কর্মকর্তা ও উৎপাদনকারীদের জিম্মি করে তাৎক্ষণিক দাবি আদায় কখনো সম্ভব হয় না। শ্রমিকেরা বলে, এখনই তাদের দাবি মেনে লিখিত দিতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান দাবি মেনে নেওয়ার পর আবার অন্য দাবি নিয়ে হাজির হচ্ছে।

এই শিল্পকে ধ্বংস করতে এই ধরনের ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে তাঁরা মনে করছে। এই শিল্পে কর্মরতদের কারখানা ভেদে বেতন কাঠামো ভিন্ন রয়েছে। তবে দীর্ঘদিনে এই ধরনের পরিস্থিতিতে তাঁরা পড়েননি। দেশের শিল্পকে ধ্বংসের হাত দেখার রক্ষার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। সংবাদ সম্মেলনে ওষুধ শিল্প মালিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

Manual7 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code